[1] খ্রীষ্টের মৃদুভাব ও সৌজন্যবোধের জন্য, আমি তোমাদের কাছে অনুনয় করছি—তোমরা বলো, আমি পৌল না-কি তোমাদের সাক্ষাতে “ভীরু,” কিন্তু অসাক্ষাতে “সাহসী!”
[2] আমি তোমাদের কাছে মিনতি করছি যে, যখন আমি আসি, আমাকে যেন তেমন সাহসী হতে না হয়, যেমন কতগুলি মানুষের প্রতি সাহসী হওয়া আবশ্যক বলে আমি মনে করি, কারণ তারা মনে করে যে, আমরা এই জগতের মানদণ্ড অনুযায়ী জীবনযাপন করি।
[3] কারণ যদিও আমরা এই জগতে বসবাস করি, আমরা এই জগতের মতো যুদ্ধাভিযান করি না।
[4] যে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমরা সংগ্রাম করি, তা জাগতিক নয়, কিন্তু দুর্গসমূহ ধ্বংস করার জন্য সেগুলির মধ্যে আছে ঐশ্বরিক পরাক্রম। আমরা তর্কবিতর্কসকল ধ্বংস করে
[5] এবং ঈশ্বর-জ্ঞানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সমস্ত ভণিতা ও সমস্ত চিন্তাকে বন্দি করে খ্রীষ্টের আজ্ঞাবহ করি।
[6] আর একবার তোমাদের আজ্ঞাবহতা সম্পূর্ণ হলে, আমরা অবশিষ্ট সমস্ত অবাধ্যতার কর্মসমূহের দণ্ডবিধান করতে প্রস্তুত আছি।
[7] তোমরা সব বিষয়ের কেবলমাত্র উপরিভাগটা দেখছ। যদি কেউ দৃঢ়বিশ্বাসী হয়ে বলে যে সে খ্রীষ্টের, তাহলে তার একথাও বিবেচনা করা উচিত যে, সে যেমন খ্রীষ্টের, আমরাও তেমনই খ্রীষ্টের।
[8] তোমাদের উপর কর্তৃত্ব করার যে অধিকার প্রভু আমাকে দিয়েছেন, তা নিয়ে যদি আমি একটু বেশি গর্ব করেই থাকি, সেই কর্তৃত্ব তোমাদের ভেঙে ফেলার জন্য নয়, কিন্তু গঠন করার জন্য—সেজন্য আমি একটুও লজ্জিত হব না।
[9] আমি চাই না যে তোমরা মনে করো, আমার পত্রগুলির দ্বারা আমি তোমাদের ভয় দেখাতে চাইছি।
[10] কারণ কেউ কেউ বলে, “তাঁর পত্রগুলি তো গুরুভার ও শক্তিশালী, কিন্তু উপস্থিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি প্রভাবহীন ও তাঁর কথাবার্তাও গুরুত্বহীন।”
[11] এধরনের লোকদের বোঝা উচিত যে, আমাদের অনুপস্থিতিতে আমাদের পত্রগুলিতে আমরা যেমন, আমরা উপস্থিত হলে, আমাদের কাজগুলিও একই প্রকার হবে।
[12] যারা নিজেরাই নিজেদের প্রশংসা করে, এদের কারও সঙ্গে আমরা নিজেদের সমপর্যায়ভুক্ত বা তুলনা করার সাহস করি না। তারা যখন নিজেরাই নিজেদের পরিমাণ করে ও নিজেদেরই সঙ্গে নিজেদের তুলনা করে, তখন তারা বিজ্ঞ নয়।
[13] আমরা অবশ্য যথাযথ সীমা অতিক্রম করে গর্ব করব না, কিন্তু ঈশ্বর আমাদের জন্য যে ক্ষেত্র নির্ধারণ করেছেন, যা তোমাদের কাছ পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে, সেই ক্ষেত্র অবধি আমাদের গর্বকে সীমায়িত রাখব।
[14] আমাদের গর্বে আমরা বহুদূর ছাড়িয়ে যাচ্ছি না। তোমাদের কাছে না এলে বরং তেমনই হত, কিন্তু খ্রীষ্টের সুসমাচার নিয়ে আমরা সমস্ত পথ অতিক্রম করে তোমাদের কাছ পর্যন্ত গিয়েছিলাম।
[15] এছাড়াও, অপর ব্যক্তিদের দ্বারা সাধিত কর্মের জন্য আমরা গর্ব করি না এবং এভাবে আমাদের নির্ধারিত সীমা অতিক্রমও করি না। আমাদের আশা এই, তোমাদের বিশ্বাস যেমন যেমন বৃদ্ধি পাবে, তোমাদের সাহায্যে আমাদের সুসমাচারের কাজকর্মও প্রচুররূপে বিস্তৃত হবে।
[16] এর পরিণামে তোমাদের এলাকা ছাড়িয়েও আমরা সুসমাচার প্রচার করতে পারি। কারণ অপরজনের এলাকায় যে কাজ ইতিমধ্যে করা হয়েছে, সে সম্পর্কে আমরা গর্ব করতে চাই না।
[17] তাই, “যে গর্ব করে, সে প্রভুতেই গর্ব করুক।”
[18] কারণ নিজের প্রশংসা যে করে সে নয়, কিন্তু প্রভু যার প্রশংসা করেন, সেই অনুমোদিত হয়।