[1] পরে রাজা শলোমন জেরুশালেমে তাঁর কাছে দাউদ-নগর, অর্থাৎ সিয়োন থেকে সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি নিয়ে আসার জন্য ইস্রায়েলের প্রাচীনদের, সমস্ত গোষ্ঠীপতিকে ও ইস্রায়েলী পরিবারের প্রধানদের ডেকে পাঠালেন।
[2] ইস্রায়েলীরা সবাই বছরের সপ্তম মাস, এথানীম মাসে উৎসবের সময় রাজা শলোমনের কাছে একত্রিত হল।
[3] ইস্রায়েলের প্রাচীনেরা সবাই পৌঁছে যাওয়ার পর যাজকেরা সিন্দুকটি উঠিয়েছিলেন,
[4] এবং তাঁরা সদাপ্রভুর সেই সিন্দুকটি ও সমাগম তাঁবুটি এবং সেখানকার সব পবিত্র আসবাবপত্রাদি নিয়ে এলেন। যাজকেরা ও লেবীয়রা সেগুলি বহন করে এনেছিলেন,
[5] এবং রাজা শলোমন ও ইস্রায়েলের সমগ্র জনতা, যারা তাঁর চারপাশে সমবেত হল, তারা সবাই সিন্দুকের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, ও এত মেষ ও গবাদি পশুবলি দিলেন যা নথিভুক্ত করে বা গুনে রাখা সম্ভব হয়নি।
[6] পরে যাজকেরা সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি যথাস্থানে, অর্থাৎ মন্দিরের অভ্যন্তরীণ পবিত্রস্থানে, মহাপবিত্র স্থানে নিয়ে এলেন, এবং করূবদের ডানার নিচে বসিয়ে রাখলেন।
[7] করূবগুলির ডানা সেই স্থানটির উপর ছড়ানো ছিল যেখানে সিন্দুকটি রাখা হল এবং ডানাগুলি সিন্দুক ও সেটির হাতলগুলি আড়াল করে রেখেছিল।
[8] সেই হাতলগুলি এত লম্বা ছিল যে সেগুলির শেষাংশটুকু অভ্যন্তরীণ পবিত্রস্থানের সামনে অবস্থিত পবিত্রস্থান থেকে দেখা যেত বটে, কিন্তু পবিত্রস্থানের বাইরে থেকে দেখা যেত না; আর সেগুলি আজও সেখানেই রাখা আছে।
[9] সেই সিন্দুকে মোশির রাখা পাথরের সেই দুটি ফলক ছাড়া আর অন্য কিছুই ছিল না, যেগুলি ইস্রায়েলীরা মিশর থেকে বের হয়ে আসার পর যেখানে সদাপ্রভু ইস্রায়েলীদের সঙ্গে এক নিয়ম স্থাপন করলেন, সেই হোরেবে তিনি সিন্দুকে ভরে রেখেছিলেন।
[10] যাজকেরা পবিত্রস্থান থেকে সরে যাওয়ার পর সদাপ্রভুর মন্দিরটি মেঘে পরিপূর্ণ হয়ে গেল।
[11] মেঘ থাকার কারণে যাজকেরা আর তাঁদের সেবাকাজ চালিয়ে যেতে পারেননি, কারণ সদাপ্রভুর প্রতাপে তাঁর মন্দিরটি পরিপূর্ণ হয়ে গেল।
[12] তখন শলোমন বললেন, “সদাপ্রভু বললেন যে তিনি ঘন মেঘে বসবাস করবেন;
[13] বাস্তবিকই আমি তোমার জন্য এক দর্শনীয় মন্দির, তোমার চিরকালীন এক বাসস্থান নির্মাণ করেছি।”
[14] ইস্রায়েলী জনতা যখন সেখানে দাঁড়িয়েছিল, রাজামশাই ঘুরে তাদের আশীর্বাদ করলেন।
[15] পরে তিনি বললেন: “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সেই সদাপ্রভুর গৌরব হোক, যিনি নিজের হাতে তাঁর সেই প্রতিজ্ঞাটি পূরণ করেছেন, যেটি তিনি নিজের মুখে আমার বাবা দাউদের কাছে করলেন। কারণ তিনি বললেন,
[16] ‘যেদিন আমি আমার প্রজা ইস্রায়েলকে মিশর থেকে বের করে এনেছিলাম, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত আমার নামের উদ্দেশে মন্দির নির্মাণের জন্য আমি ইস্রায়েলের গোষ্ঠীভুক্ত কোনও নগর মনোনীত করিনি, কিন্তু আমার প্রজা ইস্রায়েলকে শাসন করার জন্য আমি দাউদকে মনোনীত করেছিলাম।’
[17] “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামের উদ্দেশে এক মন্দির নির্মাণের বাসনা আমার বাবা দাউদের অন্তরে ছিল।
[18] কিন্তু সদাপ্রভু আমার বাবা দাউদকে বললেন, ‘আমার নামের উদ্দেশে এক মন্দির নির্মাণের বাসনা অন্তরে রেখে তুমি ভালোই করেছ।
[19] তা সত্ত্বেও, তুমি মন্দিরটি নির্মাণ করতে পারবে না, কিন্তু তোমার ছেলে—তোমার রক্তমাংসই সেই জন, যে আমার নামের উদ্দেশে মন্দিরটি নির্মাণ করবে।’
[20] “সদাপ্রভু তাঁর করা প্রতিজ্ঞাটি পূরণ করেছেন: আমি আমার বাবা দাউদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছি এবং সদাপ্রভুর প্রতিজ্ঞানুসারে এখন আমি ইস্রায়েলের সিংহাসনে বসেছি, এবং ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর নামের উদ্দেশে আমি মন্দিরটি নির্মাণ করেছি।
[21] আমি সেখানে সেই সিন্দুকটির জন্য স্থান করে রেখেছি, যেখানে সদাপ্রভুর সেই নিয়মটি রাখা আছে, যা তিনি মিশর থেকে আমাদের পূর্বপুরুষদের বের করে আনার সময় তাঁদের সঙ্গে স্থাপন করলেন।”
[22] পরে শলোমন ইস্রায়েলের সমগ্র জনগণের সামনে সদাপ্রভুর যজ্ঞবেদির কাছে দাঁড়িয়ে স্বর্গের দিকে দু-হাত প্রসারিত করলেন
[23] এবং বললেন: “হে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু, উপরে স্বর্গে বা নিচে পৃথিবীতে তোমার মতো আর কোনও ঈশ্বর নেই—যারা সর্বান্তঃকরণে তোমার পথে চলতে থাকে, তোমার সেইসব দাসের প্রতি তুমি তোমার প্রেমের নিয়ম পালন করে থাকো।
[24] আমার বাবা, তোমার দাস দাউদের কাছে তুমি তোমার প্রতিজ্ঞাটি পূরণ করেছ; তুমি মুখে প্রতিজ্ঞা করলে ও হাতে তা পূরণ করেছ—আজ তা যেমন দেখা যাচ্ছে।
[25] “এখন হে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু, আমার বাবা, তোমার দাস দাউদের কাছে তুমি যে প্রতিজ্ঞাটি করলে, সেটি পূরণ করো। তুমি বললে, ‘তুমি যেমন সতর্ক হয়ে বিশ্বস্ততাপূর্বক আমার সামনে চলেছ, তেমনি যদি তোমার বংশধররাও চলে, তবে আমার সামনে ইস্রায়েলের সিংহাসনে বসার জন্য তোমার কোনও উত্তরাধিকারীর অভাব হবে না।’
[26] আর এখন, হে ইস্রায়েলের ঈশ্বর, আমার বাবা তোমার দাস দাউদের কাছে তুমি যে প্রতিজ্ঞা করলে, তা যেন সত্যি হয়।
[27] “কিন্তু ঈশ্বর কি সত্যিই পৃথিবীতে বসবাস করবেন? স্বর্গ, এমন কী সর্বোচ্চ স্বর্গও তোমাকে ধারণ করতে পারে না। তবে আমার নির্মাণ করা এই মন্দিরই বা কীভাবে করবে!
[28] তবুও হে আমার ঈশ্বর সদাপ্রভু, তোমার এই দাসের প্রার্থনায় ও তার দয়া লাভের মিনতিতে তুমি মনোযোগ দাও। আজ তোমার উপস্থিতিতে তোমার এই দাসের করা কাকুতি ও প্রার্থনাটি তুমি শোনো।
[29] এই মন্দিরের প্রতি যেন দিনরাত তোমার চোখ খোলা থাকে, যেখানকার বিষয়ে তুমি বললে, ‘আমার নাম সেখানে বজায় থাকবে,’ যেন এই স্থানটির দিকে চেয়ে তোমার দাস যে প্রার্থনা করবে তা তুমি শুনতে পাও।
[30] এই স্থানটির দিকে চেয়ে তোমার দাস ও তোমার প্রজা ইস্রায়েল যে সবিনয় প্রার্থনা করবে তা তুমি শুনো। তোমার বাসস্থান স্বর্গ থেকে তুমি তা শুনো, ও শুনে তাদের ক্ষমাও কোরো।
[31] “যখন কেউ তার প্রতিবেশীর প্রতি কোনও অন্যায় করবে ও তাদের পক্ষে শপথ নেওয়া জরুরি হয়ে যাবে ও তারা এই মন্দিরে তোমার যজ্ঞবেদির কাছে এসে শপথ নেবে,
[32] তখন তুমি স্বর্গ থেকে তা শুনে কাজ কোরো। তোমার দাসদের বিচার কোরো, দোষীকে তার কর্মের ফল দিয়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত কোরো, এবং নির্দোষকে তার সারল্য অনুসারে ফল দিয়ে তাকে ধার্মিক প্রতিপন্ন কোরো।
[33] “যখন তোমার প্রজা ইস্রায়েল তোমার বিরুদ্ধে পাপ করার কারণে শত্রুর কাছে পরাজিত হয়ে আবার তোমার কাছে ফিরে এসে তোমার নামের গৌরব করবে, ও এই মন্দিরে তোমার কাছে প্রার্থনা ও মিনতি করবে,
[34] তখন স্বর্গ থেকে তুমি তা শুনো ও তোমার প্রজা ইস্রায়েলের পাপ ক্ষমা কোরো এবং তাদের সেই দেশে ফিরিয়ে এনো, যেটি তুমি তাদের পূর্বপুরুষদের দিয়েছিলে।
[35] “তোমার প্রজারা তোমার বিরুদ্ধে পাপ করার কারণে যখন আকাশ রুদ্ধ হয়ে যাবে ও বৃষ্টি হবে না, ও তারা যখন এই স্থানটির দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করবে ও তোমার নামের গৌরব করবে এবং তুমি তাদের কষ্ট দিয়েছ দেখে তারা যখন তাদের পাপ ছেড়ে ফিরে আসবে,
[36] তখন স্বর্গ থেকে তুমি তা শুনো ও তোমার দাসদের, তোমার প্রজা ইস্রায়েলের পাপ ক্ষমা কোরো। সঠিক পথে জীবনযাপন করতে তাদের শিক্ষা দিয়ো, ও যে দেশটি তুমি তোমার প্রজাদের এক উত্তরাধিকাররূপে দিয়েছ, সেখানে বর্ষা পাঠিয়ো।
[37] “যখন দেশে দুর্ভিক্ষ বা মহামারি আসবে, বা গাছপালার রোগ বা ছাতা-রোগ, পঙ্গপাল বা ফড়িং আসবে, অথবা তাদের যে কোনো একটি নগরে শত্রুরা যখন চারপাশ থেকে তাদের ঘিরে ধরবে, যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হোক বা রোগজ্বালা,
[38] তোমার প্রজা ইস্রায়েলের মধ্যে কেউ যদি প্রার্থনা বা মিনতি উৎসর্গ করে—তাদের নিজেদের অন্তরের দুর্দশা অনুভব করে এই মন্দিরের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়—
[39] তবে তুমি তোমার বাসস্থান স্বর্গ থেকে তা শুনো। তাদের ক্ষমা কোরো ও সক্রিয় হোয়ো; তাদের কর্মানুসারে তাদের প্রতি আচরণ কোরো, যেহেতু তুমি তাদের অন্তরের অবস্থা জানো (কারণ একা তুমিই প্রত্যেকটি মানুষের অন্তর জানো),
[40] যে দেশটি তুমি আমাদের পূর্বপুরুষদের দিয়েছিলে, সেখানে যতদিন তারা বেঁচে থাকবে, যেন তোমাকে ভয় করে চলতে পারে।
[41] “যেসব বিদেশি তোমার প্রজা ইস্রায়েলের অন্তর্ভুক্ত নয় কিন্তু তোমার নাম শুনে দূরদেশ থেকে এসেছিল—
[42] কারণ তারা তোমার মহানাম ও তোমার মহাপরাক্রমী হাত ও তোমার সুদূরপ্রসারিত বাহুর কথা শুনবে—তারা যখন এসে এই মন্দিরের দিকে চেয়ে প্রার্থনা করবে,
[43] তখন তুমি তোমার বাসস্থান স্বর্গ থেকে তা শুনো। সেই বিদেশি তোমার কাছে যা চাইবে, তাকে তুমি তা দিয়ো, যেন পৃথিবীর সব লোকজন তোমার নাম জানতে পারে ও তোমাকে ভয় করে, যেভাবে তোমার আপন প্রজা ইস্রায়েলও তোমাকে জেনে ভয় করতে শিখেছে, এবং তারা যেন একথাও জানতে পারে যে আমি এই যে ভবনটি তৈরি করেছি, তা তোমারই নামের সাক্ষ্য বহন করছে।
[44] “তোমার প্রজারা যখন তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করবে, তুমি তাদের যেখানেই পাঠাও না কেন, ও এই যে নগর ও মন্দিরটি আমি তোমার নামের উদ্দেশে নির্মাণ করেছি, সেদিকে চেয়ে তারা সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করবে,
[45] তখন তুমি স্বর্গ থেকে তাদের প্রার্থনা ও মিনতি শুনো, এবং তাদের প্রতি সুবিচার কোরো।
[46] “তারা যখন তোমার বিরুদ্ধে পাপ করবে—কারণ এমন কেউ নেই যে পাপ করে না—আর তুমি তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হবে ও তাদেরকে তাদের সেই শত্রুদের হাতে তুলে দেবে, যারা তাদের নিজেদের দেশে বন্দি করে নিয়ে যাবে, তা সে বহুদূরে অথবা কাছেও হতে পারে;
[47] আর যদি তারা সেই দেশে গিয়ে মন পরিবর্তন করে, যেখানে তাদের বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হবে, এবং তাদের বন্দিকারীদের দেশে থাকতে থাকতেই তোমার কাছে অনুতাপ করে ও মিনতি জানিয়ে বলে, ‘আমরা পাপ করেছি, আমরা অন্যায় করেছি, আমরা অসদাচার করেছি’;
[48] এবং তাদের যে শত্রুরা তাদের বন্দি করল, তাদের সেই দেশে যদি তারা তাদের সব মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে তোমার কাছে ফিরে আসে ও তুমি তাদের পূর্বপুরুষদের যে দেশটি দিয়েছিলে, সেই দেশের ও তুমি যে নগরটি মনোনীত করলে, সেই নগরটির তথা আমি তোমার নামের উদ্দেশে যে মন্দিরটি নির্মাণ করেছি তার দিকে তাকিয়ে যদি তারা তোমার কাছে প্রার্থনা করে;
[49] তবে তুমি তোমার বাসস্থান সেই স্বর্গ থেকে তাদের প্রার্থনা ও মিনতি শুনো, ও তাদের প্রতি সুবিচার কোরো,
[50] এবং তোমার সেই প্রজাদের ক্ষমা কোরো, যারা তোমার বিরুদ্ধে পাপ করেছে; তোমার বিরুদ্ধে করা তাদের সব অপরাধ ক্ষমা কোরো, এবং তাদের বন্দিকারীদের মনে এমন ভাব উৎপন্ন কোরো, যেন তারা তাদের প্রতি দয়া দেখায়;
[51] কারণ তারা যে তোমার সেই প্রজা ও উত্তরাধিকার, যাদের তুমি মিশর থেকে, সেই লোহা গলানো চুল্লি থেকে বের করে নিয়ে এসেছিলে।
[52] “তোমার চোখ তোমার দাসের মিনতির প্রতি ও তোমার প্রজা ইস্রায়েলের মিনতির প্রতিও খোলা থাকুক, এবং তারা যখনই তোমার কাছে কেঁদে উঠবে, তুমি যেন তা শুনতে পাও।
[53] কারণ তুমি তাদের তোমার নিজস্ব উত্তরাধিকার হওয়ার জন্য জগতের সব জাতির মধ্যে থেকে আলাদা করে বেছে নিয়েছ, ঠিক যেভাবে তুমি, হে সার্বভৌম সদাপ্রভু, আমাদের পূর্বপুরুষদের মিশর থেকে বের করে আনার সময় তোমার দাস মোশির মাধ্যমে ঘোষণা করলে।”
[54] সদাপ্রভুর কাছে এইসব প্রার্থনা ও মিনতি উৎসর্গ করা সমাপ্ত হয়ে যাওয়ার পর শলোমন সদাপ্রভুর সেই যজ্ঞবেদির সামনে থেকে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন, যেখানে তিনি নতজানু হয়ে স্বর্গের দিকে দু-হাত প্রসারিত করে রেখেছিলেন।
[55] তিনি উঠে দাঁড়িয়ে জোরগলায় সমগ্র ইস্রায়েলী জনতাকে আশীর্বাদ করে বললেন:
[56] “সেই সদাপ্রভুর গৌরব হোক, যিনি তাঁর প্রতিজ্ঞানুসারে তাঁর প্রজা ইস্রায়েলকে বিশ্রাম দিয়েছেন। তিনি তাঁর দাস মোশির মাধ্যমে যত ভালো ভালো প্রতিজ্ঞা করলেন, তার একটিও ব্যর্থ হয়নি।
[57] আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু যেমন আমাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সঙ্গে ছিলেন, তেমনি তিনি আমাদেরও সঙ্গে সঙ্গে থাকুন; তিনি যেন আমাদের না ছাড়েন বা আমাদের পরিত্যাগ না করেন।
[58] তাঁর প্রতি বাধ্যতায় চলার জন্য ও তিনি আমাদের পূর্বপুরুষদের যে যে আদেশ, বিধিবিধান ও নিয়মকানুন দিলেন, সেগুলি পালন করার জন্য তিনি যেন আমাদের অন্তর তাঁর প্রতি ফিরিয়ে আনেন।
[59] আর আমি সদাপ্রভুর সামনে যে প্রার্থনাটি করেছি তার এক-একটি কথা যেন দিনরাত আমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছাকাছি থাকে, যেন তিনি প্রতিদিনের চাহিদা অনুসারে তাঁর দাসের ও তাঁর প্রজা ইস্রায়েলের প্রতি সুবিচার করলেন,
[60] যেন পৃথিবীর সব লোকজন জানতে পারে যে সদাপ্রভুই ঈশ্বর ও তিনি ছাড়া আর কেউ ঈশ্বর নয়।
[61] আর তোমাদের অন্তর যেন আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বিধিবিধান অনুসারে চলার ও তাঁর আদেশের বাধ্য হওয়ার জন্য তাঁর প্রতি পুরোপুরি সমর্পিত থাকে, যেমনটি এসময় হয়েছে।”
[62] পরে রাজামশাই ও তাঁর সঙ্গে সঙ্গে ইস্রায়েলীরা সবাই সদাপ্রভুর সামনে বলি উৎসর্গ করলেন।
[63] শলোমন সদাপ্রভুর কাছে এই মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্য উৎসর্গ করলেন: 22,000 টি গবাদি পশু ও 1,20,000 টি মেষ ও ছাগ। অতএব রাজামশাই ও ইস্রায়েলীরা সবাই সদাপ্রভুর মন্দিরটি উৎসর্গ করলেন।
[64] সেদিনই রাজামশাই সদাপ্রভুর মন্দিরের সামনের দিকের প্রাঙ্গণের মাঝের অংশটুকুও উৎসর্গ করে দিলেন, এবং সেখানে তিনি হোমবলি, শষ্য-বলি ও মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্যের চর্বি উৎসর্গ করলেন, কারণ সদাপ্রভুর সামনে রাখা ব্রোঞ্জের যজ্ঞবেদিটি হোমবলি, শষ্য-বলি ও মঙ্গলার্থক-নৈবেদ্যের চর্বি ধারণ করার পক্ষে বড়ই ছোট হয়ে গেল।
[65] অতএব শলোমন সেই সময় উৎসব পালন করলেন, এবং তাঁর সাথে সমস্ত ইস্রায়েলও পালন করল—সে এক বিশাল জনতা, হমাতের প্রবেশদ্বার থেকে মিশরের নির্ঝরিণী পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকার লোকজন সেখানে উপস্হিত হল। আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সামনে তারা সাতদিন ও আরও সাতদিন, মোট চোদ্দো দিন ধরে উৎসব উদ্যাপন করল।
[66] পরদিন তিনি লোকজনকে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন। তারা রাজামশাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ও সদাপ্রভু তাঁর দাস দাউদ ও তাঁর প্রজা ইস্রায়েলের প্রতি যেসব মঙ্গল করেছেন, তার জন্য খুশিমনে আনন্দ করতে করতে যে যার ঘরে ফিরে গেল।