Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 9:23

[1] রহবিয়াম শিখিমে গেলেন, কারণ ইস্রায়েলীরা সবাই তাঁকে রাজা করার জন্য সেখানে চলে গেল।

[2] নবাটের ছেলে যারবিয়াম যখন সেকথা শুনেছিলেন (রাজা শলোমনের কাছ থেকে পালিয়ে তিনি সেই যে মিশরে চলে গেলেন, তখনও পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন), তখন তিনি মিশর থেকে ফিরে এলেন।

[3] তাই ইস্রায়েলীরা লোক পাঠিয়ে যারবিয়ামকে ডেকে এনেছিল, এবং তিনি ও সমস্ত ইস্রায়েলী সমাজ রহবিয়ামের কাছে গিয়ে তাঁকে বললেন:

[4] “আপনার বাবা আমাদের উপর এক ভারী জোয়াল চাপিয়ে দিলেন, কিন্তু এখন আপনি সেই কঠোর পরিশ্রম ও ভারী জোয়ালের ভার লঘু করে দিন, যা আপনার বাবা আমাদের উপর চাপিয়ে দিলেন, আর আমরাও আপনার সেবা করব।”

[5] রহবিয়াম উত্তর দিলেন, “এখন তোমরা যাও, তিনদিন পর আবার আমার কাছে ফিরে এসো।” অতএব লোকজন ফিরে গেল।

[6] পরে রাজা রহবিয়াম সেইসব প্রাচীনের সঙ্গে শলাপরামর্শ করলেন, যাঁরা তাঁর বাবা শলোমনের জীবনকালে তাঁর সেবা করতেন। “এই লোকদের কী উত্তর দিতে হবে সে বিষয়ে আপনারা আমাকে কী পরামর্শ দিতে চান?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন।

[7] তাঁরা উত্তর দিলেন, “আজ যদি আপনি এই লোকদের দাস হন ও তাদের সেবা করে উপযুক্ত এক উত্তর দেন, তবে তারা সবসময় আপনার দাস হয়েই থাকবে।”

[8] কিন্তু রহবিয়াম প্রাচীনদের দেওয়া এই পরামর্শ অগ্রাহ্য করে তাঁর সঙ্গে বেড়ে ওঠা সেইসব যুবকের সঙ্গে আবার শলাপরামর্শ করলেন, যারা তাঁর সেবা করছিল।

[9] তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কী পরামর্শ দিচ্ছ? এইসব লোককে আমাদের কী উত্তর দেওয়া উচিত, যারা আমাকে বলছে, ‘আপনার বাবা আমাদের উপর যে জোয়াল চাপিয়ে দিয়েছেন তা হালকা করুন?’ ”

[10] তাঁর সঙ্গে বেড়ে ওঠা যুবকেরা তাঁকে উত্তর দিয়েছিল, “এই লোকেরা আপনাকে বলেছে, ‘আপনার বাবা আমাদের উপর ভারী এক জোয়াল চাপিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু আপনি আমাদের জোয়াল হালকা করে দিন।’ এখন আপনি তাদের বলুন, ‘আমার কড়ে আঙুল আমার বাবার কোমরের চেয়েও মোটা।

[11] আমার বাবা তোমাদের উপর ভারী এক জোয়াল চাপিয়ে দিলেন; আমি সেটি আরও ভারী করব। আমার বাবা চাবুক দিয়ে তোমাদের চাবুক মেরেছিলেন; আমি কাঁকড়াবিছে দিয়ে তোমাদের চাবকাব।’ ”

[12] “তিনদিন পর আমার কাছে ফিরে এস” রাজার এই কথানুসারে, তিনদিন পর যারবিয়াম ও সব লোকজন রহবিয়ামের কাছে ফিরে এলেন।

[13] রাজামশাই কর্কশভাবে লোকদের উত্তর দিলেন। প্রাচীনেরা তাঁকে যে পরামর্শ দিলেন, তা অগ্রাহ্য করে,

[14] যুবকদের পরামর্শ অনুসারে তিনি বললেন, “আমার বাবা তোমাদের জোয়াল ভারী করলেন; আমি তা আরও ভারী করব। আমার বাবা চাবুক দিয়ে তোমাদের চাবকেছিলেন; আমি কাঁকড়াবিছে দিয়ে তোমাদের চাবকাব।”

[15] অতএব রাজামশাই লোকদের কথা শোনেননি, কারণ শীলোনীয় অহিয়র মাধ্যমে নবাটের ছেলে যারবিয়ামকে সদাপ্রভু যা বললেন, সেকথা পূর্ণ করার জন্যই সদাপ্রভু ঘটনার অভিমুখ এভাবে পরিবর্তন করলেন।

[16] সমস্ত ইস্রায়েল যখন দেখেছিল যে রাজামশাই তাদের কথা অগ্রাহ্য করেছেন, তখন তারা রাজাকে উত্তর দিয়েছিল: “দাউদে আমাদের কী অংশ আছে, যিশয়ের ছেলেরই বা কী ভূমিকা আছে? হে ইস্রায়েল, তোমার তাঁবুতে ফিরে যাও! হে দাউদ, তুমি নিজের কুল সামলাও!” অতএব ইস্রায়েলীরা ঘরে ফিরে গেল।

[17] কিন্তু যেসব ইস্রায়েলী যিহূদার বিভিন্ন নগরে বসবাস করছিল, রহবিয়াম তখনও তাদের উপর রাজত্ব করে যাচ্ছিলেন।

[18] রাজা রহবিয়াম বেগার শ্রমিকদের উপর দায়িত্বপ্রাপ্ত অদোনীরামকে তাদের কাছে পাঠালেন, কিন্তু ইস্রায়েলীরা সবাই পাথর ছুঁড়ে মেরে তাকে হত্যা করল। রাজা রহবিয়াম অবশ্য নিজের রথে চড়ে জেরুশালেমে পালিয়ে যেতে পেরেছিলেন।

[19] এভাবে আজও পর্যন্ত ইস্রায়েল, দাউদ কুলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহভাবাপন্ন হয়ে রয়েছে।

[20] ইস্রায়েলীরা সবাই যখন শুনেছিল যে যারবিয়াম ফিরে এসেছেন, তখন তারা লোক পাঠিয়ে তাঁকে সমাজে ডেকে এনেছিল ও সমস্ত ইস্রায়েলের উপর তাঁকে রাজা করল। শুধুমাত্র যিহূদা বংশই দাউদ কুলের প্রতি অনুগত থেকে গেল।

[21] রহবিয়াম জেরুশালেমে পৌঁছে যিহূদা ও বিন্যামীন বংশের সব লোকজনকে জমায়েত করলেন—এক লাখ আশি হাজার যুবক—যারা ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার ও শলোমনের ছেলে রহবিয়ামের রাজ্য পুনরুদ্ধার করার ক্ষেত্রে সক্ষম ছিল।

[22] কিন্তু ঈশ্বরের এই বাক্য ঈশ্বরের লোক শময়িয়ের কাছে এসেছিল:

[23] “শলোমনের ছেলে, যিহূদার রাজা রহবিয়ামকে এবং যিহূদা ও বিন্যামীনের সব লোকজনকে তথা বাকি সব লোকজনকেও একথা বলো,

[24] ‘সদাপ্রভু একথাই বলেন: তোমাদের ভাইদের সঙ্গে—ইস্রায়েলীদের সঙ্গে তোমরা যুদ্ধ করতে যেয়ো না। তোমাদের প্রত্যেকজন ঘরে ফিরে যাও, কারণ আমিই এমনটি করেছি।’ ” তাই সদাপ্রভুর কথার বাধ্য হয়ে তারা ঘরে ফিরে গেল, যেমনটি সদাপ্রভু আদেশ দিলেন।

[25] পরে যারবিয়াম ইফ্রয়িমের পার্বত্য অঞ্চলের শিখিম নগরটি সুরক্ষিত করে গড়ে, সেখানে গিয়েই বসবাস করলেন। সেখান থেকে বাইরে বেরিয়ে গিয়ে তিনি পনূয়েলও গড়ে তুলেছিলেন।

[26] যারবিয়াম ভেবে নিয়েছিলেন, “রাজ্যটি এখন হয়তো দাউদ কুলের হাতেই ফিরে যাবে।

[27] এইসব লোকজন যদি জেরুশালেমে সদাপ্রভুর মন্দিরে বলি উৎসর্গ করতে যায়, তবে হয়তো আবার তারা তাদের মনিব যিহূদার রাজা রহবিয়ামের প্রতি তাদের আনুগত্য দেখিয়ে ফেলতে পারে। তারা আমাকে হত্যা করে আবার রাজা রহবিয়ামের কাছেই ফিরে যাবে।”

[28] শলা-পরামর্শ করে রাজামশাই সোনার দুটি বাছুর তৈরি করলেন। তিনি প্রজাদের বললেন, “জেরুশালেমে যাওয়া তোমাদের পক্ষে খুব কষ্টকর ব্যাপার। হে ইস্রায়েল, এই দেখো তোমাদের সেই দেবতা, যিনি মিশর থেকে তোমাদের বের করে এনেছেন।”

[29] একটিকে তিনি বেথেলে, ও অন্যটিকে তিনি দানে প্রতিষ্ঠিত করলেন।

[30] আর এটি পাপ বলে বিবেচিত হল; লোকজন বেথেলে এসে একটির পূজার্চনা করত, এবং অন্যটির পূজার্চনা করার জন্য তারা দান পর্যন্ত চলে যেত।

[31] যারবিয়াম উঁচু উঁচু স্থানে দেবতার পীঠস্থান তৈরি করে সব ধরনের লোকদের মধ্যে থেকে যাজক নিযুক্ত করে দিলেন, যদিও তারা লেবীয় ছিল না।

[32] যিহূদায় যেমনটি হত, ঠিক সেভাবেই তিনি অষ্টম মাসের পনেরোতম দিনে একটি উৎসবের সূচনা করলেন, এবং যজ্ঞবেদিতে বলি উৎসর্গ করলেন। বেথেলে, তাঁর তৈরি করা বাছুরগুলির কাছেই তিনি বলি উৎসর্গ করলেন। আর বেথেলেও তাঁর তৈরি করা উঁচু উঁচু স্থানে তিনি যাজক নিযুক্ত করে দিলেন।

[33] তাঁর পছন্দমতো মাসে, অর্থাৎ অষ্টম মাসের পনেরোতম দিনে তিনি বেথেলে তাঁর তৈরি করা যজ্ঞবেদিতে বলি উৎসর্গ করলেন। অতএব তিনি ইস্রায়েলীদের জন্য উৎসবের সূচনা করলেন এবং বলি উৎসর্গ করার জন্য যজ্ঞবেদিতে উঠে গেলেন।

1 রাজাবলি — Chapters