Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 9:28

[1] ইস্রায়েলীরা মিশর থেকে বের হয়ে আসার পর 480 তম বছরে, ইস্রায়েলের উপর শলোমনের রাজত্বের চতুর্থ বছরে, বছরের দ্বিতীয় মাসে, অর্থাৎ সিব মাসে তিনি সদাপ্রভুর মন্দির নির্মাণ করতে শুরু করলেন।

[2] যে মন্দিরটি রাজা শলোমন নির্মাণ করলেন, সেটি প্রায় সাতাশ মিটার লম্বা, নয় মিটার চওড়া ও চোদ্দো মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট হল।

[3] সেই মন্দিরের মূল কামরার সামনের দিকের দ্বারমণ্ডপটি মন্দিরের প্রস্থের মাপ নয় মিটার বাড়িয়ে দিয়েছিল, এবং মন্দিরের সামনের দিকের মাপ প্রায় সাড়ে-চার মিটার বাড়িয়ে দিয়েছিল।

[4] মন্দিরের দেয়ালের উপরদিকে তিনি কয়েকটি জানালা তৈরি করলেন।

[5] মূল কামরার দেয়ালগুলির ও ভিতরদিকের পবিত্রস্থানের গা ঘেঁসে তিনি ভবনটির চারপাশে এমন একটি কাঠামো গড়েছিলেন, যেটিতে কয়েকটি পার্শ্ব-কামরা ছিল।

[6] সবচেয়ে নিচের তলাটি ছিল প্রায় 2.3 মিটার চওড়া, মাঝের তলাটি প্রায় 2.7 মিটার ও তৃতীয় তলাটি প্রায় 3.2 মিটার চওড়া ছিল। তিনি মন্দিরের বাইরে চারপাশে ভারসাম্য বজায়কারী সরু তাক তৈরি করলেন, যেন আর অন্য কোনো কিছু মন্দিরের দেয়ালে গাঁথা না যায়।

[7] মন্দির নির্মাণের সময় শুধুমাত্র পাথর খাদানে কেটেকুটে প্রস্তুত করা পাথরের চাঙড়ই ব্যবহার করা হল, এবং মন্দির নির্মাণস্হলে সেটি গড়ে ওঠার সময় কোনও হাতুড়ি, ছেনি বা লোহার অন্য কোনও যন্ত্রপাতির শব্দ শোনা যায়নি।

[8] সবচেয়ে নিচের তলার প্রবেশদ্বারটি ছিল মন্দিরের দক্ষিণ দিকে; সেখান থেকে একটি সিঁড়ি মাঝের তলা হয়ে তৃতীয় তলায় উঠে গেল।

[9] এইভাবে তিনি কড়িকাঠ ও দেবদারু কাঠের তক্তা দিয়ে মন্দিরের ছাদ বানিয়ে সেটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত করলেন।

[10] তিনি মন্দিরের দৈর্ঘ্য বরাবর কয়েকটি পার্শ্ব-কামরা তৈরি করলেন। প্রত্যেকটির উচ্চতা ছিল পাঁচ হাত, এবং সেগুলি দেবদারু কাঠের কড়িকাঠ দিয়ে মন্দিরের সাথে জুড়ে দেওয়া হল।

[11] সদাপ্রভুর এই বাক্য শলোমনের কাছে এসেছিল:

[12] “তুমি যদি আমার বিধিবিধান অনুসরণ করো, আমার নিয়মকানুন পালন করো ও আমার আদেশগুলি মেনে সেগুলির বাধ্য হও, তবে তোমার তৈরি করা এই মন্দিরের বিষয়ে আমি তোমার বাবা দাউদের কাছে যে প্রতিজ্ঞাটি করলাম, তা তোমার মাধ্যমেই আমি পূরণ করব।

[13] আর আমি ইস্রায়েলীদের মাঝখানে বসবাস করব ও আমার প্রজা ইস্রায়েলকে ত্যাগ করব না।”

[14] অতএব শলোমন মন্দির নির্মাণ করে সেটি সম্পূর্ণ করলেন।

[15] তিনি মন্দিরের ভিতরদিকের দেয়ালগুলি দেবদারু কাঠের তক্তা দিয়ে মুড়ে দিলেন, মন্দিরের মেঝে থেকে ছাদের ভিতরের দিক পর্যন্ত দেয়ালে খুপি তৈরি করে দিলেন, এবং মন্দিরের মেঝেটি চিরহরিৎ কাঠের তক্তা দিয়ে ঢেকে দিলেন।

[16] মন্দিরের ভিতরে এক অভ্যন্তরীণ পবিত্রস্থান অর্থাৎ মহাপবিত্র স্থান গড়ার জন্য তিনি মন্দিরের মধ্যেই পিছন দিকে দেবদারু তক্তা দিয়ে কুড়ি হাত এলাকা আলাদা করে দিলেন।

[17] এই কামরাটির সামনের দিকের মূল কামরাটি ছিল দৈর্ঘ্যে প্রায় 18 মিটার।

[18] মন্দিরের ভিতরদিকে দেবদারু কাঠ খোদাই করে লাউ-এর মতো ফলের ও প্রস্ফুটিত ফুলের আকার গড়ে দেওয়া হল। সেখানে সবকিছুই ছিল দেবদারু কাঠের; কোনো পাথর দেখা যাচ্ছিল না।

[19] সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকটি রাখার জন্যই তিনি মন্দিরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ পবিত্র স্থানটি প্রস্তুত করলেন।

[20] অভ্যন্তরীণ পবিত্র স্থানটি ছিল প্রায় 9.2 মিটার করে লম্বা, চওড়া ও উঁচু। ভিতরদিকটি তিনি পাকা সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন, এবং দেবদারু কাঠের যজ্ঞবেদিটিও তিনি পাকা সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন।

[21] শলোমন মন্দিরের ভিতরদিকটিও পাকা সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন, এবং তিনি সেই অভ্যন্তরীণ পবিত্রস্থানের সামনের দিক পর্যন্ত সোনার শিকল টেনে নিয়ে গেলেন, যেটি সোনা দিয়ে মুড়ে দেওয়া হল।

[22] অতএব তিনি সেই ভবনের ভিতরদিকটি পুরোপুরি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন। এছাড়াও সেই যজ্ঞবেদিটিও তিনি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন, যেটি অভ্যন্তরীণ পবিত্রস্থানের অন্তর্গত ছিল।

[23] অভ্যন্তরীণ পবিত্রস্থানের জন্য তিনি জলপাই কাঠের এক জোড়া করূব তৈরি করলেন, যেগুলির এক একটির উচ্চতা ছিল প্রায় 4.6 মিটার।

[24] প্রথম করূবটির একটি ডানার উচ্চতা ছিল প্রায় 2.3 মিটার, ও অন্য ডানাটিরও উচ্চতা ছিল প্রায় 2.3 মিটার—এক ডানার ডগা থেকে অন্য ডানার ডগার দূরত্ব প্রায় 4.6 মিটার।

[25] দ্বিতীয় করূবটির মাপ ছিল প্রায় 4.6 মিটার, কারণ দুটি করূবই মাপে ও আকারে সমান ছিল।

[26] প্রত্যেকটি করূবের উচ্চতা ছিল প্রায় 4.6 মিটার করে।

[27] তিনি করূব দুটি মন্দিরের একদম ভিতরের কামরায় রেখেছিলেন, এবং সে দুটির ডানাগুলি ছড়ানো ছিল। একটি করূবের ডানা একটি দেয়াল ছুঁয়েছিল, আবার অন্য করূবটির ডানা অন্য একটি দেয়াল ছুঁয়েছিল, এবং তাদের ডানাগুলি কামরার মাঝখানে পরস্পরকে ছুঁয়েছিল।

[28] তিনি করূব দুটি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন।

[29] ভিতরের ও বাইরের কামরাগুলিতে, মন্দিরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের দেয়াল জুড়ে তিনি করূবের, খেজুর গাছের ও প্রস্ফুটিত ফুলের ছবি খোদাই করে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।

[30] এছাড়াও তিনি মন্দিরের ভিতরের ও বাইরের কামরাগুলির মেঝে সোনা দিয়ে ঢেকে দিলেন।

[31] অভ্যন্তরীণ পবিত্রস্থানে প্রবেশ করার জন্য তিনি জলপাই কাঠের এমন এক জোড়া দরজা তৈরি করলেন যার মাপ পবিত্রস্থানের প্রস্হের এক-পঞ্চমাংশ।

[32] আবার জলপাই কাঠের তৈরি দরজার দুটি পাল্লায় তিনি করূবের, খেজুর গাছের ও প্রস্ফুটিত ফুলের ছবি খোদাই করে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, এবং করূব ও খেজুর গাছগুলি তিনি সোনার পাত দিয়ে মুড়ে দিলেন।

[33] একইরকম ভাবে, মূল কামরায় প্রবেশ করার জন্য তিনি জলপাই কাঠ দিয়ে দরজার এমন চৌকাঠ তৈরি করলেন, যার মাপ ছিল মূল কামরার প্রস্হের এক-চতুর্থাংশ।

[34] এছাড়াও তিনি চিরহরিৎ গাছের কাঠ দিয়ে দরজার এমন দুটি পাল্লা তৈরি করলেন, যেগুলি কব্জা দিয়ে পাক খাওয়ানো যেত।

[35] সেগুলির উপর তিনি করূবের, খেজুর গাছের ও প্রস্ফুটিত ফুলের ছবি খোদাই করে ফুটিয়ে তুলেছিলেন এবং খোদাইয়ের কাজের উপর সোনার পাত দিয়ে সমানভাবে সেগুলি মুড়ে দিলেন।

[36] আবার কেটেকুটে প্রস্তুত করা পাথরের তিন পর্বে ও দেবদারু কাঠের পরিচ্ছন্ন কড়িকাঠের এক পর্বে তিনি ভিতরদিকের উঠোন তৈরি করলেন।

[37] চতুর্থ বছরের সিব মাসে সদাপ্রভুর মন্দিরের ভিত্তিমূল গাঁথা হল।

[38] একাদশ বছরের অষ্টম মাসে, অর্থাৎ বূল মাসে মন্দিরের নকশা অনুসারে অনুপুঙ্খভাবে সেটি সম্পূর্ণ হল। সেটি নির্মাণ করার জন্য তিনি সাত সাতটি বছর কাটিয়ে দিলেন।

1 রাজাবলি — Chapters