Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 13:57

[1] তিন বছর আরাম ও ইস্রায়েলের মধ্যে কোনও যুদ্ধ হয়নি।

[2] কিন্তু তৃতীয় বছরে যিহূদার রাজা যিহোশাফট ইস্রায়েলের রাজার সাথে দেখা করতে গেলেন।

[3] ইস্রায়েলের রাজা তাঁর কর্মকর্তাদের বললেন, “তোমরা কি জানো না যে রামোৎ-গিলিয়দ আমাদেরই, আর তাও আমরা আরামের রাজার হাত থেকে সেটি পুনরাধিকার করার জন্য কিছুই করছি না?”

[4] তাই তিনি যিহোশাফটকে জিজ্ঞাসা করলেন, “রামোৎ-গিলিয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আপনি কি আমার সাথে যাবেন?” যিহোশাফট ইস্রায়েলের রাজাকে উত্তর দিলেন, “আপনি ও আমি, আপনার লোকজন ও আমার লোকজন—আমরা সবাই, তথা আপনার ঘোড়াগুলি ও আমার ঘোড়াগুলি—সবই এক রকম।”

[5] কিন্তু যিহোশাফট ইস্রায়েলের রাজাকে এও বললেন, “প্রথমে সদাপ্রভুর কাছে পরামর্শ নিন।”

[6] অতএব ইস্রায়েলের রাজা ভাববাদীদের—প্রায় চারশো জনকে—একত্রিত করলেন, এবং তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কি রামোৎ-গিলিয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাব, না-কি বিরত থাকব?” “যান,” তারা উত্তর দিয়েছিল, “কারণ সদাপ্রভু সেটি মহারাজের হাতে তুলে দেবেন।”

[7] কিন্তু যিহোশাফট জিজ্ঞাসা করলেন, “এখানে কি সদাপ্রভুর এমন কোনও ভাববাদী আর নেই, যাঁর কাছে আমরা খোঁজখবর নিতে পারি?”

[8] ইস্রায়েলের রাজা যিহোশাফটকে উত্তর দিলেন, “একজন ভাববাদী এখনও অবশ্য আছেন, যাঁর মাধ্যমে আমরা সদাপ্রভুর কাছে খোঁজখবর নিতে পারি; কিন্তু আমি তাঁকে ঘৃণা করি, যেহেতু তিনি কখনও আমার বিষয়ে ভালো কিছু ভাববাণী করেন না, সবসময় শুধু খারাপ ভাববাণীই করেন। তিনি হলেন যিম্লের ছেলে মীখায়। “মহারাজ এরকম কথা বলবেন না,” যিহোশাফট উত্তর দিলেন।

[9] অতএব ইস্রায়েলের রাজা তাঁর কর্মকর্তাদের মধ্যে একজনকে ডেকে বললেন, “এখনই যিম্লের ছেলে মীখায়কে নিয়ে এসো।”

[10] ইস্রায়েলের রাজা এবং যিহূদার রাজা যিহোশাফট রাজবস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে শমরিয়া নগরের সিংহদুয়ারের কাছে অবস্থিত খামারে নিজের নিজের সিংহাসনে বসেছিলেন, এবং ভাববাদীরা সবাই তাঁদের সামনে ভাববাণী করছিলেন।

[11] ইত্যবসরে কেনান্নার ছেলে সিদিকিয় লোহার এক জোড়া শিং তৈরি করে ঘোষণা করলেন, “সদাপ্রভু একথাই বলেন: ‘আরামীয়রা সমূলে ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এগুলি দিয়েই আপনি তাদের গুঁতিয়ে যাবেন।’ ”

[12] অন্যান্য ভাববাদীরাও সবাই একই কথা বলে ভাববাণী করছিলেন। “রামোৎ-গিলিয়দ আক্রমণ করে জয়ী হোন,” তাঁরা বললেন, “কারণ সদাপ্রভুই সেটি রাজার হাতে তুলে দেবেন।”

[13] যে দূত মীখায়কে ডেকে আনতে গেল, সে তাঁকে বলল, “দেখুন, অন্যান্য ভাববাদীরা সবাই একবাক্যে মহারাজের সাফল্যের বিষয়ে ভাববাণী করে গিয়েছেন। আপনার কথাও যেন তাঁদেরই মতো হয়, এবং আপনিও শুভ কথাই বলুন।”

[14] কিন্তু মীখায় বললেন, “জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্যি, সদাপ্রভু আমাকে যা বলেছেন, আমি শুধু সেকথাই বলব।”

[15] তিনি সেখানে পৌঁছানোর পর রাজামশাই তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “মীখায়, আমরা রামোৎ-গিলিয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করব, কি না?” “আক্রমণ করে জয়ী হোন,” তিনি উত্তর দিলেন, “কারণ সদাপ্রভু মহারাজের হাতে সেটি তুলে দেবেন।”

[16] রাজা তাঁকে বললেন, “আর কতবার আমি তোমাকে দিয়ে শপথ করাব, যে সদাপ্রভুর নামে তুমি আমাকে সত্যিকথা ছাড়া আর কোনও কথা বলবে না?”

[17] তখন মীখায় উত্তর দিলেন, “আমি পাহাড়ের উপর সম্পূর্ণ ইস্রায়েলকে পালকবিহীন মেষের পালের মতো ছড়িয়ে পড়তে দেখেছি, এবং সদাপ্রভু বলেছেন, ‘এই লোকজনের কোনও মনিব নেই। এরা প্রত্যেকেই শান্তিতে যে যার ঘরে ফিরে যাক।’ ”

[18] ইস্রায়েলের রাজা যিহোশাফটকে বললেন, “আমি কি আপনাকে বলিনি যে এ আমার বিষয়ে শুধু খারাপ ছাড়া কখনও ভালো কিছু ভাববাণী করে না?”

[19] মীখায় আরও বললেন, “তাই সদাপ্রভুর এই বাক্য শুনুন: আমি দেখেছি সদাপ্রভু তাঁর সিংহাসনে বসে আছেন এবং স্বর্গের সব লোকজন তাঁকে ঘিরে, তাঁর ডাইনে ও বাঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

[20] সদাপ্রভু বললেন, ‘আহাব যেন রামোৎ-গিলিয়দ আক্রমণ করে সেখানেই তার মৃত্যু সুনিশ্চিত করে, এজন্য কে তাকে লোভ দেখাবে?’ “একজন এক রকম প্রস্তাব দিয়েছিল, অন্যজন অন্যরকম।

[21] শেষে, একটি আত্মা এগিয়ে এসে সদাপ্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আমি তাকে লোভ দেখাব।’

[22] “কিন্তু কীভাবে? সদাপ্রভু জিজ্ঞাসা করলেন। “ ‘আমি গিয়ে তার সব ভাববাদীর মুখে বিভ্রান্তিকর এক আত্মা হব,’ সে বলল। “ ‘তাকে লোভ দেখাতে তুমি সফল হবে,’ সদাপ্রভু বললেন। ‘যাও, ওরকমই করো।’

[23] “তাই এখন সদাপ্রভু আপনার এইসব ভাববাদীর মুখে বিভ্রান্তিকর এক আত্মা দিয়েছেন। সদাপ্রভু আপনার জন্য বিপর্যয়ের বিধান দিয়েছেন।”

[24] তখন কেনান্নার ছেলে সিদিকিয় উঠে গিয়ে মীখায়ের গালে চড় মেরেছিলেন। “সদাপ্রভুর কাছ থেকে আসা সেই আত্মা আমার কাছ থেকে কোনও পথে গিয়ে তোর সঙ্গে কথা বলল?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন।

[25] মীখায় উত্তর দিলেন, “ভিতরের কামরায় গিয়ে যেদিন তুমি লুকাবে, সেদিনই তা জানতে পারবে।”

[26] ইস্রায়েলের রাজা তখন আদেশ দিলেন, “মীখায়কে নগরের শাসনকর্তা আমোন ও রাজপুত্র যোয়াশের কাছে ফেরত পাঠিয়ে দাও

[27] এবং তাদের বোলো, ‘মহারাজ একথাই বলেন: এই লোকটিকে জেলে বন্দি করে রাখো আর যতদিন না আমি নিরাপদে ফিরে আসছি, একে রুটি ও জল ছাড়া আর কিছুই দিয়ো না।’ ”

[28] মীখায় ঘোষণা করে দিলেন, “আপনি যদি আদৌ নিরাপদে ফিরে আসেন, তবে জানবেন সদাপ্রভু আমার মাধ্যমে কথাই বলেননি।” পরে তিনি আরও বললেন, “ওহে প্রজারা, তোমরা সবাই আমার কথা ঠাহর করে রাখো!”

[29] অতএব ইস্রায়েলের রাজা ও যিহূদার রাজা যিহোশাফট রামোৎ-গিলিয়দে চলে গেলেন।

[30] ইস্রায়েলের রাজা যিহোশাফটকে বললেন, “আমি ছদ্মবেশ ধারণ করে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করব, কিন্তু আপনি নিজের রাজপোশাকই পরে থাকুন।” এই বলে ইস্রায়েলের রাজা ছদ্মবেশ ধারণ করে যুদ্ধে গেলেন।

[31] ইত্যবসরে আরামের রাজা রথের দায়িত্বপ্রাপ্ত তাঁর বত্রিশজন সেনাপতিকে আদেশ দিয়ে রেখেছিলেন, “ইস্রায়েলের রাজা ছাড়া ছোট-বড়, কোনও লোকের সাথে যুদ্ধ কোরো না।”

[32] রথের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাপতিরা যিহোশাফটকে দেখে ভেবেছিল, “ইনিই নিশ্চয় ইস্রায়েলের রাজা।” তাই তাঁকে আক্রমণ করার জন্য তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু যিহোশাফট যখন চিৎকার করে উঠেছিলেন,

[33] রথের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাপতিরা দেখেছিল যে তিনি ইস্রায়েলের রাজা নন, তাই তারা আর তাঁর পিছু ধাওয়া করেননি।

[34] কিন্তু কেউ একজন আন্দাজে ধনুক চালিয়ে ইস্রায়েলের রাজার দেহে যেখানে বর্মের ঘেরাটোপ ছিল না, সেখানেই আঘাত করে বসেছিল। রাজামশাই তাঁর রথের সারথিকে বললেন, “রথের মুখ ঘুরিয়ে আমাকে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে নিয়ে যাও। আমি আহত হয়েছি।”

[35] সারাদিন ধরে তুমুল যুদ্ধ চলেছিল, এবং আরামীয়দের দিকে মুখ করে রাজামশাইকে তাঁর রথে ঠেস দিয়ে খাড়া করে রাখা হল। তাঁর ক্ষতস্থান থেকে ঝরে পড়া রক্তে রথের মেঝে ভেসে গেল, এবং সেই সন্ধ্যায় তিনি মারা গেলেন।

[36] সূর্য যখন অস্ত যাচ্ছিল, তখন সৈন্যদলে এই হাহাকার ছড়িয়ে পড়েছিল, “প্রত্যেকে নিজের নিজের নগরে ফিরে যাও। প্রত্যেকে নিজের নিজের দেশে ফিরে যাও!”

[37] অতএব রাজামশাই মারা গেলেন ও তাঁর দেহ শমরিয়ায় আনা হল, এবং লোকেরা তাঁকে সেখানেই কবর দিয়েছিল।

[38] তারা শমরিয়ার একটি পুকুরে রথটি ধুয়েছিল (যেখানে বারবণিতারা স্নান করত), আর সদাপ্রভুর ঘোষিত কথানুসারে কুকুরেরা তাঁর রক্ত চেটে খেয়েছিল।

[39] আহাবের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, এছাড়াও তিনি যা যা করলেন, যে প্রাসাদ তিনি তৈরি করলেন ও হাতির দাঁত দিয়ে সাজিয়ে তুলেছিলেন, এবং যেসব নগর তিনি সুরক্ষিত করলেন—তার বিবরণ কি ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?

[40] আহাব তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন। তাঁর ছেলে অহসিয় রাজা রূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।

[41] ইস্রায়েলের রাজা আহাবের রাজত্বের চতুর্থ বছরে আসার ছেলে যিহোশাফট যিহূদায় রাজা হলেন।

[42] যিহোশাফট পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে তিনি পঁচিশ বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম অসূবা। তিনি শিলহির মেয়ে ছিলেন।

[43] সবকিছুতেই তিনি তাঁর বাবা আসার পথে চলেছিলেন এবং সেগুলি থেকে সরে যাননি; সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা ন্যায্য, তিনি তা-ই করলেন। অবশ্য প্রতিমাপূজার উঁচু উঁচু স্থানগুলি সরানো হয়নি, এবং লোকজন তখনও সেগুলিতে পশুবলি উৎসর্গ করে যাচ্ছিল ও ধূপও জ্বালিয়ে যাচ্ছিল।

[44] ইস্রায়েলের রাজার সঙ্গেও যিহোশাফটের শান্তি বজায় ছিল।

[45] যিহোশাফটের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, তিনি যা যা অর্জন করলেন ও তাঁর সামরিক উজ্জ্বল সব কীর্তি—তার বিবরণ কি যিহূদার রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?

[46] তাঁর বাবা আসার রাজত্বকালে দেবদাসদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার পরেও দেশে যেসব দেবদাস থেকে গেল, যিহোশাফট তাদেরও দূর করে দিলেন।

[47] ইদোমে তখন কোনও রাজা ছিল না; একজন প্রাদেশিক শাসনকর্তা সেখানে শাসন চালাচ্ছিলেন।

[48] ইত্যবসরে ওফীর থেকে সোনা আনার জন্য যিহোশাফট বাণিজ্যতরির এক নৌবহর তৈরি করলেন, কিন্তু সেগুলির আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি—কারণ ইৎসিয়োন-গেবরে সেগুলি সমুদ্রে ডুবে গেল।

[49] সেই সময় আহাবের ছেলে অহসিয় যিহোশাফটকে বললেন, “আমার লোকজন আপনার লোকজনের সাথে সমুদ্রে পাড়ি দিক,” কিন্তু যিহোশাফট এতে রাজি হননি।

[50] পরে যিহোশাফট তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরবিশ্রামে শায়িত হলেন ও তাঁদের সাথেই তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের নগরে কবর দেওয়া হল। তাঁর ছেলে যিহোরাম রাজা রূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।

[51] যিহূদার রাজা যিহোশাফটের রাজত্বের সতেরতম বছরে আহাবের ছেলে অহসিয় শমরিয়ায় ইস্রায়েলের রাজা হলেন, এবং তিনি দুই বছর ইস্রায়েলে রাজত্ব করলেন।

[52] সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা মন্দ, তিনি তা-ই করলেন, কারণ তিনি তাঁর বাবা, মা, ও নবাটের ছেলে সেই যারবিয়ামের পথেই চলেছিলেন, যাঁরা ইস্রায়েলকে দিয়ে পাপ করিয়েছিলেন।

[53] তিনি তাঁর বাবার মতোই বায়ালের সেবা ও পুজো করলেন, এবং ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর ক্রোধ জাগিয়ে তুলেছিলেন।

1 রাজাবলি — Chapters