Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 7:41

[1] শিবার রানি শলোমনের সুনামের ও সদাপ্রভুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা শুনে কঠিন কঠিন প্রশ্ন নিয়ে তাঁকে পরীক্ষা করতে এলেন।

[2] বিশাল দলবল নিয়ে—সুগন্ধি মশলা বহনকারী উট, প্রচুর পরিমাণ সোনা ও দামি মণি-মুক্তো নিয়ে—তিনি জেরুশালেমে শলোমনের কাছে এলেন ও তাঁর মনের সব কথা তিনি শলোমনকে খুলে বললেন।

[3] শলোমন তাঁর সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন; কোনো কিছুই তাঁর কাছে ব্যাখ্যা করে দেওয়া রাজার পক্ষে তেমন কঠিন হয়নি।

[4] শিবার রানি শলোমনের প্রজ্ঞা ও তাঁর নির্মিত করা প্রাসাদ,

[5] তাঁর টেবিলে রাখা খাদ্যসম্ভার, তাঁর কর্মকর্তাদের বসার ব্যবস্থা, সেবক-দাসেদের পোশাক-পরিচ্ছদ, তাঁর পানপাত্র বহনকারীদের, এবং সদাপ্রভুর মন্দিরে তাঁর উৎসর্গ করা হোমবলি দেখে আবেগবিহ্বল হয়ে গেলেন।

[6] তিনি রাজামশাইকে বললেন, “আপনার কীর্তির ও প্রজ্ঞার যে খবর আমি আমার দেশে থাকতেই শুনেছিলাম, তা সত্যি।

[7] কিন্তু এখানে এসে স্বচক্ষে না দেখা পর্যন্ত আমি সেসব বিশ্বাস করিনি। আসলে, অর্ধেক কথাও আমাকে বলা হয়নি; আমি যে খবর শুনেছিলাম, আপনার প্রজ্ঞা ও ধনসম্পদ তার তুলনায় পরিমাণে অনেক বেশি।

[8] আপনার লোকজন কতই না সুখী! আপনার সেই কর্মকর্তারাও কতই না সুখী, যারা একনাগাড়ে আপনার সামনে দাঁড়িয়ে, আপনার প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ কথা শোনে!

[9] আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভুর গৌরব হোক, যিনি আপনার উপর সন্তুষ্ট হয়ে আপনাকে ইস্রায়েলের সিংহাসনে বসিয়েছেন। ইস্রায়েলের প্রতি সদাপ্রভুর অনন্ত প্রেমের কারণে, ন্যায় ও ধার্মিকতা বজায় রাখার জন্য তিনি আপনাকে রাজা করেছেন।”

[10] আর তিনি রাজামশাইকে একশো কুড়ি তালন্ত সোনা, প্রচুর পরিমাণ সুগন্ধি মশলা, ও দামি মণি-মুক্তো দিলেন। শিবার রানি রাজা শলোমনকে যত সুগন্ধি মশলা দিলেন, তত সুগন্ধি মশলা আর কখনও সেখানে আনা হয়নি।

[11] (হীরমের জাহাজগুলি ওফীর থেকে সোনা নিয়ে আসত; আর সেখান থেকেই তারা বড় বড় জাহাজে ভরে চন্দনকাঠ ও দামি মণি-মুক্তোও নিয়ে আসত।

[12] রাজামশাই সদাপ্রভুর মন্দিরের ও রাজপ্রাসাদের খুঁটি নির্মাণ করার জন্য, এবং সুদক্ষ বাদ্যকরদের জন্য বীণা ও সুরবাহার তৈরি করার কাজে চন্দনকাঠ ব্যবহার করতেন। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত এত চন্দনকাঠ আর কখনও আমদানি করা হয়নি বা চোখে দেখাও যায়নি)

[13] রাজা শলোমন শিবা দেশের রানির মনোবাঞ্ছা ও তাঁর চাহিদা অনুসারে তাঁকে সবকিছু দিলেন, এছাড়াও তিনি তাঁর রাজকীয় দানশীলতা দেখিয়ে আরও অনেক কিছু তাঁকে দিলেন। পরে রানি তাঁর লোকলস্কর সঙ্গে নিয়ে নিজের দেশে ফিরে গেলেন।

[14] প্রতি বছর শলোমন যে পরিমাণ সোনা সংগ্রহ করতেন তার ওজন 666 তালন্ত,

[15] এতে বণিক ও ব্যবসায়ীদের এবং আরবীয় সব রাজার ও সেই অঞ্চলের শাসনকর্তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা রাজস্ব ধরা হয়নি।

[16] রাজা শলোমন পিটানো সোনা দিয়ে 200 টি বড় বড় ঢাল বানিয়েছিলেন; প্রত্যেকটি ঢালের জন্য 600 শেকল করে সোনা লাগল।

[17] তিনি পিটানো সোনা দিয়ে আরও 300 টি ছোট ছোট ঢাল বানিয়েছিলেন, যার প্রত্যেকটিতে তিন মানি করে সোনা লেগেছিল। রাজামশাই সেগুলি লেবাননে অরণ্য-প্রাসাদে রেখে দিলেন।

[18] পরে রাজামশাই হাতির দাঁত দিয়ে একটি বড় সিংহাসন বানিয়ে, সেটি খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়ে দিলেন।

[19] সিংহাসনটিতে ছয়টি ধাপ ছিল, এবং সেটির পিছন দিকের উপরের অংশটি গোলাকার ছিল। বসার স্থানের দুই দিকেই হাত রাখার স্থান ছিল, এবং সে দুটির পিছনে একটি করে সিংহমূর্তি দাঁড় করানো ছিল।

[20] ছয়টি ধাপের উপর বারোটি সিংহমূর্তি দাঁড় করানো ছিল, এক-একটি মূর্তি প্রত্যেকটি ধাপের দুই প্রান্তে রাখা ছিল। অন্য কোনও রাজ্যে আগে কখনও এরকম কিছু তৈরি করা হয়নি।

[21] রাজা শলোমনের কাছে থাকা ভিত থেকে ওঠা ডাঁটিযুক্ত হাতলবিহীন সব পানপাত্র ছিল সোনার, এবং লেবাননের অরণ্য-প্রাসাদে রাখা সব গৃহস্থালি জিনিসপত্র খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি হল। কোনো কিছুই রুপো দিয়ে তৈরি করা হয়নি, কারণ শলোমনের রাজত্বকালে রুপোকে দামি বলে গণ্যই করা হতো না।

[22] হীরমের জাহাজগুলির পাশাপাশি সমুদ্রে রাজারও তর্শীশের বাণিজ্যতরির একটি নৌবহর ছিল। তিন বছরে একবার সেই নৌবহর সোনা, রুপো, হাতির দাঁত, এবং বনমানুষ ও ময়ূর নিয়ে ফিরে আসত।

[23] পৃথিবীর অন্য সব রাজার তুলনায় রাজা শলোমন ধনসম্পদে ও প্রজ্ঞায় বৃহত্তর হলেন।

[24] শলোমনের অন্তরে ঈশ্বর যে প্রজ্ঞা ভরে দিলেন, তা শোনার জন্য গোটা জগৎ তাঁর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার লাভের চেষ্টা করত।

[25] বছরের পর বছর ধরে, যারাই তাঁর কাছে আসত, তারা কিছু না কিছু উপহার—রুপো ও সোনার সামগ্রী, কাপড়চোপড়, অস্ত্রশস্ত্র ও সুগন্ধি মশলা, এবং ঘোড়া ও খচ্চর নিয়ে আসত।

[26] শলোমন প্রচুর রথ ও ঘোড়া একত্রিত করলেন; তাঁর কাছে চোদ্দশো রথ ও 12,000 ঘোড়া ছিল, যা তিনি রথ-নগরগুলিতে এবং নিজের কাছে জেরুশালেমেও রেখেছিলেন।

[27] রাজামশাই জেরুশালেমে রুপোকে পাথরের মতো সাধারণ স্তরে নামিয়ে এনেছিলেন, এবং দেবদারু কাঠকে তরাই এলাকার ডুমুর গাছের মতো সহজলভ্য করে তুলেছিলেন।

[28] শলোমনের ঘোড়াগুলি মিশর ও কুই থেকে আমদানি করা হত—রাজকীয় বণিকেরা বাজার দরে সেগুলি কুই থেকে কিনে আনত।

[29] মিশর থেকে তারা এক-একটি রথ 600 শেকল, এবং এক-একটি ঘোড়া 150 শেকল রুপো দিয়ে আমদানি করত। তারা আবার সেগুলি হিত্তীয় ও আরামীয় সব রাজার কাছে রপ্তানিও করত।

1 রাজাবলি — Chapters