Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 6:29

[1] অতএব রাজা শলোমন সমস্ত ইস্রায়েল জুড়ে রাজত্ব করলেন।

[2] এঁরাই ছিলেন তাঁর প্রধান কর্মকর্তা: সাদোকের ছেলে অসরিয় ছিলেন যাজক;

[3] শীশার ছেলে ইলীহোরফ ও অহিয় ছিলেন সচিব; অহীলূদের ছেলে যিহোশাফট ছিলেন লিপিকার;

[4] যিহোয়াদার ছেলে বনায় ছিলেন প্রধান সেনাপতি; সাদোক ও অবিয়াথর ছিলেন যাজক;

[5] নাথনের ছেলে অসরিয় জেলাশাসকদের উপর ভারপ্রাপ্ত ছিলেন; নাথনের ছেলে সাবূদ ছিলেন একজন যাজক ও রাজার পরামর্শদাতা;

[6] অহীশার ছিলেন রাজপ্রাসাদের তত্ত্বাবধায়ক; অব্দের ছেলে অদোনীরাম বেগার শ্রমিকদের উপর ভারপ্রাপ্ত ছিলেন।

[7] সমস্ত ইস্রায়েলে শলোমন বারোজন জেলাশাসক নিযুক্ত করলেন, যাঁরা রাজা ও রাজপরিবারের জন্য খাদ্যসম্ভার জোগান দিতেন। এক একজনকে বছরে এক এক মাসের জন্য খাদ্যসম্ভার জোগান দিতে হত।

[8] এই তাঁদের নাম: ইফ্রয়িমের পার্বত্য অঞ্চলে বিন-হূর;

[9] মাকস, শালবীম, বেত-শেমশ ও এলোন-বেথ-হাননে বিন-দেকর;

[10] অরুব্বোতে বিন-হেষদ (সোখো ও সমস্ত হেফর প্রদেশ তাঁর অধীনে ছিল);

[11] নাফৎ-দোরে বিন-অবীনাদব (শলোমনের মেয়ে টাফতের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হল);

[12] তানক ও মগিদ্দোতে, এবং সর্তনের কাছাকাছি ও যিষ্রিয়েলের নিচে অবস্হিত বেথ-শানের সমস্ত অঞ্চলে, এবং বৈৎ-শান থেকে যকমিয়াম পার করে আবেল-মহোলা পর্যন্ত অহীলূদের ছেলে বানা;

[13] রামোৎ-গিলিয়দে বিন-গেবর (গিলিয়দে মনঃশির ছেলে যায়ীরের গ্রামগুলি, তথা বাশনে অর্গোবের অঞ্চলটি এবং সেখানকার ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি অর্গলসুদ্ধ প্রাচীরবেষ্টিত ষাটটি বড় বড় নগর তাঁর অধীনে ছিল);

[14] মহনয়িমে ইদ্দোর ছেলে অহীনাদব;

[15] নপ্তালিতে অহীমাস (তিনি শলোমনের মেয়ে বাসমৎকে বিয়ে করলেন);

[16] আশেরে ও বালোতে হূশয়ের ছেলে বানা;

[17] ইষাখরে পারূহের ছেলে যিহোশাফট;

[18] বিন্যামীনে এলার ছেলে শিমিয়ি;

[19] গিলিয়দে ঊরির ছেলে গেবর। (ইমোরীয়দের রাজা সীহোনের দেশ ও বাশনের রাজা ওগের দেশও তাঁর অধিকারে ছিল) ওই জেলায় তিনিই একমাত্র জেলাশাসক ছিলেন।

[20] যিহূদা ও ইস্রায়েলের জনসংখ্যা সমুদ্রতীরের বালুকণার মতো বহুসংখ্যক ছিল; তারা ভোজন করত, পান করত ও তারা খুশিই ছিল।

[21] শলোমন ইউফ্রেটিস নদী থেকে শুরু করে ফিলিস্তিনীদের দেশ পর্যন্ত, অর্থাৎ একেবারে মিশরের সীমানা পর্যন্ত, সব রাজ্যের উপর শাসন চালাতেন। শলোমন যতদিন বেঁচেছিলেন, এই দেশগুলি তাঁকে কর দিত ও তাঁর শাসনাধীন হয়েই ছিল।

[22] শলোমনের দৈনিক খাদ্যসম্ভার ছিল ত্রিশ কোর মিহি ময়দা ও ষাট কোর যবের আটা,

[23] গোশালায় জাবনা খাওয়া দশটি গবাদি পশু, বাইরে চরে খাওয়া কুড়িটি গবাদি পশু এবং একশোটি মেষ-ছাগল, তথা হরিণ, গজলা হরিণ, কৃষ্ণসার হরিণ ও বাছাই করা বড় বড় কিছু জলচর পাখি।

[24] যেহেতু তিনি তিপসহ থেকে গাজা পর্যন্ত ইউফ্রেটিস নদীর পশ্চিমদিকের সব রাজ্য শাসন করতেন, তাই সবদিকেই শান্তি বজায় ছিল।

[25] শলোমন যতদিন বেঁচেছিলেন, দান থেকে বের-শেবা পর্যন্ত যিহূদা ও ইস্রায়েলে প্রত্যেকে নিজের নিজের দ্রাক্ষাক্ষেতের ও ডুমুর গাছের নিচে নিরাপদে বসবাস করত।

[26] শলোমনের কাছে রথের ঘোড়াগুলি রাখার জন্য চার হাজার আস্তাবল, এবং 12,000 ঘোড়া ছিল।

[27] জেলাশাসকেরা প্রত্যেকে তাঁদের নিরূপিত মাসে রাজা শলোমন ও রাজার টেবিলে বসে যাঁরা ভোজনপান করতেন, তাঁদের জন্য খাদ্যসম্ভার জোগান দিতেন। তাঁরা খেয়াল রাখতেন যেন কোনো কিছুরই অভাব না হয়।

[28] রথের ঘোড়া ও অন্যান্য ঘোড়াগুলির জন্য তাঁরা নির্দিষ্ট পরিমাণ যব ও বিচালিও নির্দিষ্ট স্থানে এনে রাখতেন।

[29] ঈশ্বর শলোমনকে প্রজ্ঞা ও প্রচুর পরিমাণে অর্ন্তদৃষ্টি এবং সমুদ্রতীরের বালুকণার মতো অগাধ বোধ-বুদ্ধি দিলেন।

[30] প্রাচ্যের সব লোকজনের প্রজ্ঞা থেকে, এবং মিশরের সব প্রজ্ঞার তুলনায় শলোমনের প্রজ্ঞা ছিল অসামান্য।

[31] তিনি অন্য যে কোনো লোকের, এমনকি ইষ্রাহীয় এথনের চেয়েও বেশি বিচক্ষণ ছিলেন—মাহোলের ছেলে হেমন, কলকোল ও দর্দার চেয়েও বেশি বিচক্ষণ ছিলেন। আর তাঁর সুখ্যাতি পার্শ্ববর্তী সব দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল।

[32] তিনি তিন হাজার প্রবাদবাক্য বললেন এবং এক হাজার পাঁচটি গানও লিখেছিলেন।

[33] লেবাননের দেবদারু থেকে শুরু করে প্রাচীরের গায়ে উৎপন্ন এসোব পর্যন্ত সব গাছপালার বিষয়ে তিনি কথা বললেন। এছাড়াও তিনি পশুদের ও পাখিদের, সরীসৃপদের ও মাছেরও বিষয়ে কথা বললেন।

[34] সব দেশ থেকে সেইসব লোকজন শলোমনের প্রজ্ঞার কথা শুনতে আসত, যাদের পৃথিবীর সেইসব রাজা পাঠাতেন, যাঁরা তাঁর প্রজ্ঞার বিষয়ে খবর পেয়েছিলেন।

1 রাজাবলি — Chapters