[1] অতএব, যেহেতু তোমরা ঈশ্বরের প্রিয় সন্তান, তোমরা ঈশ্বরেরই অনুকরণ করো
[2] এবং প্রেমে চলো, যেমন খ্রীষ্ট আমাদের ভালোবেসেছেন এবং নিজেকে সুরভিত নৈবেদ্য ও বলিরূপে ঈশ্বরের উদ্দেশে উত্সর্গ করেছেন।
[3] কিন্তু, তোমাদের মধ্যে যেন বিবাহ-বহির্ভূত যৌনাচার, কোনও ধরনের কলুষতা বা লোভের লেশমাত্র না থাকে। কারণ ঈশ্বরের পবিত্রজনেদের পক্ষে এ সমস্ত অনুচিত কর্ম।
[4] কোনও রকম অশ্লীলতা, নির্বোধের মতো কথাবার্তা বা স্থূল রসিকতা যেন শোনা না যায়, কারণ এ-সবই অসঙ্গত; বরং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করো।
[5] কারণ এ ব্যাপারে তোমরা নিশ্চিত হতে পারো যে, বেশ্যাসক্ত, অশুদ্ধাচারী বা লোভী ব্যক্তি প্রতিমাপূজকের মতো; খ্রীষ্টের ও ঈশ্বরের রাজ্যে তাদের কোনো অধিকার নেই।
[6] অসার বাক্যের দ্বারা কেউ যেন তোমাদের প্রতারিত না করে, কারণ এসব বিষয়ের জন্যই অবাধ্য ব্যক্তিদের উপরে ঈশ্বরের রোষ নেমে আসে।
[7] অতএব, তাদের সঙ্গে তোমরা অংশীদার হয়ো না।
[8] এক সময়ে তোমরা ছিলে অন্ধকার, কিন্তু এখন তোমরা প্রভুতে আলো হয়ে উঠেছ। আলোকের সন্তানদের ন্যায় চলো।
[9] (কারণ সমস্ত মাধুর্য, ধার্মিকতা ও সত্যের মধ্যেই আলোকের শুভফল বিরাজিত)
[10] প্রভু কোন কাজে সন্তুষ্ট হন, তার অন্বেষণ করো।
[11] অন্ধকারের নিষ্ফল কার্যকলাপের সঙ্গে সংস্রব রেখো না, বরং সেগুলি আলোকে প্রকাশ করো।
[12] কারণ যারা অবাধ্য, তারা গোপনে যা করে, তা উল্লেখ করাও লজ্জাজনক বিষয়।
[13] কিন্তু আলোকে প্রকাশিত সবকিছুই দৃশ্যমান হয়ে ওঠে,
[14] কারণ আলোই সবকিছু দৃশ্যমান করে। এজন্যই কথিত হয়েছে: “ওহে নিদ্রামগ্ন ব্যক্তি, জাগো, মৃতদের মধ্য থেকে উত্থিত হও, তাহলে খ্রীষ্ট তোমার উপর করবেন আলোক বিকিরণ।”
[15] তাই, কীভাবে জীবনযাপন করো, সে সম্বন্ধে অত্যন্ত সতর্ক থেকো। বিজ্ঞের মতো চলো, মূর্খের মতো নয়।
[16] সব সুযোগের সদব্যবহার কোরো, কারণ এই যুগ মন্দ।
[17] এই জন্য নির্বোধ হয়ো না, প্রভুর ইচ্ছা কী, তা উপলব্ধি করো।
[18] সুরা পান করে মত্ত হয়ো না, তা ভ্রষ্টাচারের পথে নিয়ে যায়; তার পরিবর্তে আত্মায় পরিপূর্ণ হও।
[19] গীত, স্তোত্র ও আত্মিক সংকীর্তনে পরস্পর ভাব বিনিময় করো। প্রভুর উদ্দেশে গীত গাও, হৃদয়ে তোলো সুরের ঝংকার।
[20] আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে সব বিষয়ের জন্য সবসময় পিতা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দাও।
[21] খ্রীষ্টের জন্য সম্ভ্রমবশত একে অপরের বশীভূত থাকো।
[22] স্ত্রীরা, তোমরা যেমন প্রভুর, তেমনই স্বামীদের বশ্যতাধীন হও।
[23] কারণ স্বামী স্ত্রীর মস্তক, যেমন খ্রীষ্ট মণ্ডলীর মস্তক, যে মণ্ডলী তাঁর দেহ, যার তিনি পরিত্রাতা।
[24] মণ্ডলী যেমন খ্রীষ্টের বশ্যতাধীন থাকে, স্ত্রীরাও তেমনই সমস্ত বিষয়ে নিজের নিজের স্বামীর বশ্যতাধীন থাকুক।
[25] স্বামীরা, তোমরা নিজের নিজের স্ত্রীকে ভালোবেসো, যেমন খ্রীষ্ট মণ্ডলীকে ভালোবেসেছেন এবং তার জন্য নিজেকে প্রদান করেছেন,
[26] যেন তাকে পবিত্র করেন, বাক্যের মাধ্যমে জলে বিধৌতকরণের দ্বারা তাকে পরিষ্কৃত করেন এবং
[27] তাকে নিজের কাছে নিষ্কলঙ্ক, অবিকৃত এবং অন্য কোনও কলুষতাহীনভাবে, পবিত্র ও অনিন্দনীয় একটি প্রদীপ্ত মণ্ডলীরূপে উপস্থিত করেন।
[28] স্বামীদেরও সেভাবে নিজের নিজের দেহের মতোই স্ত্রীদের ভালোবাসা উচিত। যে তার স্ত্রীকে ভালোবাসে, সে নিজেকেই ভালোবাসে।
[29] সর্বোপরি, কেউ কখনও তার নিজের দেহকে ঘৃণা করে না, বরং সে তার ভরণপোষণ ও তত্ত্বাবধান করে, যেমন খ্রীষ্ট তাঁর মণ্ডলীর প্রতি করেন,
[30] কারণ আমরা তো তাঁরই দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ।
[31] “এই কারণে, পুরুষ তার পিতামাতাকে ত্যাগ করে তার স্ত্রীর সঙ্গে সংযুক্ত হবে এবং সেই দুজনে একাঙ্গ হবে।”
[32] এ এক বিশাল রহস্য, কিন্তু আমি খ্রীষ্ট ও তাঁর মণ্ডলী সম্বন্ধে একথা বলছি।
[33] যাই হোক, তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকে যেমন নিজেকে ভালোবাসে, তেমনই স্ত্রীকে অবশ্যই ভালোবাসবে এবং স্ত্রী অবশ্যই তার স্বামীকে সম্ভ্রম প্রদর্শন করবে।