[1] অতএব, প্রভুতে বন্দি আমি তোমাদের কাছে মিনতি করছি, যে আহ্বান তোমরা লাভ করেছ, তার যোগ্যরূপে চলো।
[2] সম্পূর্ণ নম্র ও অমায়িক হও, ধৈর্যশীল হয়ে প্রেমে পরস্পরের প্রতি সহনশীল হও।
[3] শান্তির যোগবন্ধনে আত্মার ঐক্য রক্ষা করার জন্য বিশেষভাবে সচেষ্ট হও।
[4] দেহ এক এবং আত্মা এক, তেমনই তোমাদের প্রত্যাশাও এক, যে প্রত্যাশার উদ্দেশে তোমরা আহূত হয়েছিলে।
[5] প্রভু এক, বিশ্বাস এক, বাপ্তিষ্ম এক,
[6] সকলের ঈশ্বর ও পিতা এক, তিনি সকলের উপরে, সকলের নিকটে এবং সকলের অন্তরে আছেন।
[7] কিন্তু খ্রীষ্ট যেভাবে বণ্টন করেছেন, সেই অনুযায়ী আমরা প্রত্যেকে অনুগ্রহ-দান পেয়েছি।
[8] সেজন্যই বলা হয়েছে: “তিনি যখন ঊর্ধ্বে আরোহণ করলেন, সঙ্গে নিয়ে গেলেন বহু বন্দিকে এবং মানুষকে দিলেন বিবিধ উপহার।”
[9] “তিনি ঊর্ধ্বে আরোহণ করলেন,” একথার অর্থ কি এই নয় যে, তিনি পৃথিবীর নিম্নলোকেও অবতরণ করেছিলেন?
[10] সমগ্র বিশ্বে পরিব্যাপ্ত হওয়ার জন্য যিনি সব স্বর্গের ঊর্ধ্বে আরোহণ করেছিলেন, সেই তিনিই নিম্নে অবতরণ করেছিলেন।
[11] তিনিই কয়েকজনকে প্রেরিতশিষ্য, কয়েকজনকে ভাববাদী, কয়েকজনকে সুসমাচার প্রচারক এবং কয়েকজনকে পালক ও শিক্ষকরূপে দান করেছেন,
[12] সন্তদের পরিপক্ব করার জন্য করেছেন, যেন পরিচর্যার কাজ সাধিত হয়, খ্রীষ্টের দেহ যেন গঠন করে তোলা হয়,
[13] যতদিন না আমরা সবাই ঈশপুত্রের জ্ঞান ও বিশ্বাসের ঐক্যে উপনীত হতে পারি ও পরিণত হই এবং খ্রীষ্টের সমগ্র পূর্ণতা অর্জন করতে পারি।
[14] তখন আমরা আর নাবালক থাকব না, মানুষের শঠতা ও ছলনাময় অসার শিক্ষার তরঙ্গে দোলায়িত বা বাতাসে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হব না। এভাবে সেইসব মানুষ প্রতারণা করার প্রতীক্ষায় থাকে।
[15] বরং, প্রেমে সত্যভাষণের দ্বারা আমরা, যিনি মস্তক, অর্থাৎ খ্রীষ্ট, সব বিষয়ে তাঁর উদ্দেশে বৃদ্ধি পাব।
[16] তাঁরই সমগ্র দেহ প্রত্যেক সহায়ক সন্ধি-বন্ধনীর দ্বারা পরস্পর সংযুক্ত ও সন্নিবদ্ধ হয়ে বৃদ্ধি পায় এবং প্রত্যেক অঙ্গের সক্রিয়তার ফলে তা প্রেমে নিজেকে গঠন করে।
[17] অতএব, আমি তোমাদের এই কথা বলি এবং প্রভুর নামে অনুনয় করি, তোমরা অইহুদিদের মতো আর অসার চিন্তায় জীবনযাপন কোরো না।
[18] তাদের বুদ্ধি হয়েছে তমসাচ্ছন্ন এবং ঐশ্বরিক-জীবন থেকে তারা হয়েছে বিচ্ছিন্ন। তাদের কঠিন হৃদয়ের অজ্ঞতাই তার কারণ।
[19] সমস্ত চেতনা হারিয়ে তারা কামনা-বাসনায় নিজেদের সমর্পণ করেছে, যেন সকল প্রকার কলুষতা ও ইন্দ্রিয়লালসায় তারা বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে।
[20] খ্রীষ্টের সম্বন্ধে তোমরা অবশ্য সেইরকম শিক্ষা লাভ করোনি।
[21] নিঃসন্দেহে, তোমরা তাঁর বিষয়ে শুনেছ এবং যীশুর মধ্যে যে সত্য নিহিত, সেই অনুযায়ী শিক্ষা পেয়েছ।
[22] তোমাদের অতীত জীবনধারা সম্বন্ধে তোমরা শিক্ষা পেয়েছ যে, তোমাদের পুরোনো সত্তাকে পরিহার করতে হবে, যা তার বহুবিধ ছলনাময় অভিলাষের দ্বারা কলুষিত হয়ে উঠেছে।
[23] তোমাদের মানসিকতাকে নবায়িত করতে হবে;
[24] প্রকৃত ধার্মিকতা এবং পবিত্রতায় ঈশ্বরের সাদৃশ্যে সৃষ্ট নতুন সত্তাকে পরিধান করতে হবে।
[25] অতএব, তোমাদের প্রত্যেকে মিথ্যাচার বর্জন করে প্রতিবেশীর সঙ্গে সত্যভাষণ করো, কারণ আমরা সকলে একই দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ।
[26] “ক্রোধের বশবর্তী হয়ে পাপাচার কোরো না।” সূর্যাস্ত হওয়ার আগেই তোমাদের ক্রোধ প্রশমন করো।
[27] দিয়াবলকে প্রশ্রয় দিয়ো না।
[28] যে চৌর্যবৃত্তিতে রত আছে, সে যেন আর চুরি না করে, বরং কায়িক পরিশ্রমের দ্বারা সৎ উপায়ে উপার্জন করে; দুস্থদের সাহায্য করার মতো তার হাতে যেন কিছু উদ্বৃত্ত থাকে।
[29] তোমরা কোনো অশালীন কথা বোলো না, প্রয়োজন অনুসারে যা অপরকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়ক, যা শ্রোতার পক্ষে কল্যাণকর, তোমাদের মুখ থেকে শুধু এমন কথাই নির্গত হোক।
[30] ঈশ্বরের পবিত্র আত্মাকে দুঃখার্ত কোরো না, তাঁরই দ্বারা তোমরা মুক্তিদিবসের জন্য মোহরাঙ্কিত হয়েছ।
[31] সব রকমের তিক্ততা, রোষ ও ক্রোধ, কলহ ও নিন্দা, সেই সঙ্গে সব ধরনের হিংসা পরিহার করো।
[32] পরস্পরের প্রতি দয়ার্দ্র ও সহানুভূতিশীল হও। ঈশ্বর যেমন খ্রীষ্টে তোমাদের ক্ষমা করেছেন, তেমনই তোমরাও পরস্পরকে ক্ষমা করো।