[1] হজরত ইছায় আরো কইলা, “বেহেস্তি বাদশাই তো অলা এক গিরস্তর লাখান। ই গিরস্তে তান খেতর কামর লাগি খুব বিয়ানে উঠিয়া কামলা তুকানিত গেলা।
[2] গিয়া কামলা চাইয়া তারারে একশো টেকা রোজ ফুড়াইয়া তান আংগুর বাগানো কামো লাগাইলা।
[3] কিছু বেইল অইয়া হারলে তাইন হিরবার বার অইলা, বার অইয়া দেখলা আরো কয়জন কামলা বেকার উবাই রইছইন।
[4] দেখিয়া কইলা, ‘তুমরাও গিয়া আমার বাগানো কামো লাগো, আমি তুমরারে উচিত টেকা দিমু।’
[5] তেউ তারা গিয়া কামো লাগলা। অলাখান বেইল দুইফরি বালা আর জোহরর বাদে গিরস্ত হিরবার বার অইয়া গিয়া আরো কামলাইন আনিয়া কামো লাগাইলা।
[6] হেশে বিয়ালি বালা তাইন বারে গিয়া, আরো কামলাইন উবাই রইছইন দেখিয়া কইলা, ‘তুমরা হারাদিন ধরি ইনো উবাই রইছো কেনে?’
[7] এরা কইলা, ‘ছাব, আমরা কুনু কাম পাইছি না।’ গিরস্তে কইলা, ‘তুমরাও গিয়া আমার বাগানো কামো লাগো।’
[8] “হাইঞ্জা বালা গিরস্তে তান নিজর চাকররে কইলা, ‘ওবা, বাগানর অউ কামলাইন্তরে আনিয়া, শেষর জন থাকি পয়লা জন পর্যন্ত হকলর রোজ দিলাও।’
[9] বিয়ালি বালা যেরা কামো লাগছিল, তারা একশো করি পাইলো।
[10] ইতা দেখিয়া পয়লা যারা কামো লাগছিল, তারা মনো করলো তারা আরো বেশি টেকা পাইবো, অইলে গিরস্তে এরা হকলরে এক হমান রোজ দিলা।
[11] এরদায় পয়লা দল অউ গিরস্তর উপরে বেজার অইয়া কইলা,
[12] ‘আমরা হারা দিন ধরি রইদে জলি-পুড়ি কাম করিয়া একশো টেকা পাইলাম। অইলে তারা হেশে আইয়া থুড়া সময় কাম করায়ও, আপনে তারারে আমরার হমান টেকা দিলা।’
[13] “তেউ গিরস্তে তারার একজনরে কইলা, ‘ওবা, আমি অইন্যায় কুন্তা করছি নি, তুমি নিজেউ তো একশো টেকায় কাম করতে রাজি অইছো না নি?
[14] অখন তুমার পাওনা লইয়া তুমি যাও। আমি আমার নিজর ইচ্ছায় হকলরে এক হমান দিছি।
[15] আমার নিজর ছামানা, নিজর ইচ্ছামতো খরচ করার অধিকার নাই নি? আমি তারারে দয়া করায় তুমার চখুত জলের নি?’ ”
[16] অউ কিচ্ছা হুনানির বাদে ইছায় কইলা, “বুজছো নি, যেরা খরর কাতারো আছে তারা আগে আইবো, আর আগর কাতারর তারা খরে যাইবো।”
[17] বাদে তাইন যেবলা জেরুজালেম মুখা রওয়ানা অইযিতা, অউ সময় তান বারোজন সাহাবিরে আলগা হরাইয়া নিয়া কইলা,
[18] “হুনো, আমরা অখন জেরুজালেম যাইরাম। হনো আমি বিন-আদমরে ধরিয়া বড় ইমাম আর মৌলানা অকলর আতো সপি দেওয়া অইবো। তারা বিচার করিয়া কাতল করার রায় দিবা।
[19] আমারে ভিন-দেশি অকলর আতো সমজাইবা। তারা আমারে ঠাট্টা-মশকরা করিয়া, বেজুইতা চাবুক মারিয়া, লাকড়ির সলিবো লটকাইয়া কাতল করবা। মউতর তিন দিনর দিন আমি হিরবার জিন্দা অইয়া উঠমু।”
[20] বাদে জিবুদিয়ার দুইও পুয়ারে লইয়া তারার মাʼয় ইছার গেছে আইলা। আইয়া কুন্তা চাওয়ার আশায় তান পাওয়ো পড়লা।
[21] ইছায় বেটিরে জিকাইলা, “আপনে কিতা চাইন?” বেটিয়ে কইলা, “হুজুর, আমার এগু পুয়ারে আপনার রাজত্বর ডাইনর গদি, আর আরোগুরে বাউর গদিখানো বইবার সুযোগ দিবা নি?”
[22] ইছায় তারারে জুয়াপ দিলা, “তুমরা তো বুজরায় না, তুমরা কিতা চাইরায়। আমি যে দুখ-মছিবতর পিয়ালাদি খাইমু, ইতা কুনু তুমরা খাইতায় পারবায় নি?” তারা কইলা, “জিঅয়, পারমু।”
[23] তাইন কইলা, “আইচ্ছা, আমি যে পিয়ালাদি খাইমু তুমরাও অউ পিয়ালাদি খাইবায়, অইলে আমার ডাইনে বা বাউয়ে বওয়ানির এখতিয়ার তো আমার আতো নায়। আমার বেহেস্তি বাফ আল্লায় যারার লাগি ই গদি ঠিক করছইন, খালি তারাউ পাইবা।”
[24] জিবুদিয়ার দুইও পুয়ার আরজি হুনিয়া, বাকি দশোজন সাহাবি এরার উপরে খুব বিরক্ত অইলা।
[25] তেউ ইছায় এরা হকলরে কান্দাত আনিয়া কইলা, “তুমরা তো জানো, বিধর্মী জাতির রাজা অকল তারার প্রজার উপরে হুকুম জারি করে, আর তারার জমিদার অকলে গুলামর উপরে বেটাগিরি করে।
[26] অইলে তুমরার মাজে তো ইলা অওয়া ঠিক নায়। তুমরার কেউ দামি বনতে চাইলে, হে তুমরার খেজমত করউক।
[27] আর কেউ বড় অইতে চাইলে, হে হকলর গুলামি করউক।
[28] মনো রাখিও, আমি বিন-আদমেও খেজমত পাওয়াত আইছি না, আইছি তো খেজমত করাত। আর বউত মানষর জান বাচানির লাগি, নিজর জান বিলাই দেওয়াত আইছি।”
[29] হজরত ইছায় তান সাহাবি অকলরে লইয়া যিরিহো টাউন থাকি রওয়ানা অইগেলা, অউ সময় বউত মানুষ তান খরে খরে গেলা।
[30] যাওয়ার সময় পথর কান্দাত দুই আন্দা বেটা বওয়াত আছিল। তাইন অউ পথেদি যাইরা হুনিয়া তারা জুরে জুরে চিল্লাইয়া কইলো, “ও হুজুর, ও দাউদ নবীর আওলাদ, আমরারে রহম করইন।”
[31] চিল্লানি হুনিয়া অনর মানষে তারারে ধমক দিলা। অইলে তারা আরো জুরে জুরে চিল্লাইয়া কইলো, “ও হুজুর, ও দাউদ নবীর আওলাদ, আমরারে রহম করইন।”
[32] এরার চিল্লানি হুনিয়া তাইন উবাই গেলা, উবাইয়া অউ দুইও আন্দারে কান্দাত আনাইয়া জিকাইলা, “কিতাবা, কিতা চাও? আমি তুমরারে কিতা করতাম?”
[33] তারা কইলো, “হুজুর, আমরার চউখ গুইন ভালা করি দেউক্কা।”
[34] ইখান হুনিয়া তান দরদ হামাই গেল। তাইন তারার চউখ আতাই দিলা, লগে লগেউ তারার চউখ ভালা অইগেল। বাদে তারাও তান খরে খরে রওয়ানা অইলো।