[1] অউ তালিমর বাদে হজরত ইছা গালিল জিলা থাকি জর্দান গাংগর হপারো এহুদিয়া জিলার পুব এলাকাত আইলা।
[2] অউ সময় বউত মানুষ তান খরে খরে আইলা, তাইন এরা হকলর বেমার ভালা করলা।
[3] আর ফরিশি মজহবর কয়জন মানুষ আইয়া ইছারে পরিক্ষা করার লাগি জিকাইলা, “কউক্কাছাইন, মুছা নবীর শরিয়ত মাফিক কুনু মানষে যেকুনু কারনে তার বউরে তালাক দেওয়া জাইজ নি?”
[4] ইছায় কইলা, “আপনারা আল্লার কালামো পাইছইন না নি, আল্লায় পয়লা আদম আর হাওয়ারে বেটা আর বেটি বানাই পয়দা করছইন, তাইন কইছইন,
[5] ‘এরলাগিউ বেটাইন্তে তারার মা-বাফরে ছাড়িয়া বউর লগে থাকবা, তারা দুইওজন এক শরিল অইবা।’
[6] এরদায় তারা দুই রইতা নায়, এক কায়া অইবা। তে আল্লায় যেরারে জুড়া বান্দিয়া দিছইন, মানষে ইতারে আলগ না করউক।”
[7] তেউ ফরিশি অকলে তানরে কইলা, “তে মুছা নবীয়ে কেনে বাতাইছইন, তালাক নামা লেখিয়া বউরে তালাক দেওয়া জাইজ?”
[8] তাইন কইলা, “তুমরার দিল পাষান গতিকেউ মুছায় ই অনুমতি দিছইন। অইলে পয়লা থাকি ইলা নিয়ম আছিল না।
[9] আমি তুমরারে কইরাম, যে মানষে জিনার দুষ ছাড়া অইন্য যেকুনু কারনে তার বউরে তালাক দিয়া আরক বেটিরে হাংগা করে, হে নিজেউ জিনা করে।”
[10] তেউ সাহাবি অকলে তানরে কইলা, “জামাই-বউর মাজেও যুদি অলা ঘটনা ঘটে, তে তো বিয়া না করাউ ভালা।”
[11] ইছায় তারারে কইলা, “হকল মানুষ তো ইলা রইতো পারে না, খালি আল্লায় যেরারে ই খেমতা দিছইন, তারাউ পারে।
[12] কুনু কুনু মানুষ না-মর্দ হালতেউ দুনিয়াত জনম লয়, এরলাগি তারা বিয়া করে না। আর কুনু কুনু জনরে মানষেউ না-মর্দ বানাইলায়, এরদায় তারাও বিয়া করে না। হিরবার কেউ কেউ আছে বিয়া-শাদি না করিয়া, খালি বেহেস্তি বাদশাইর খেজমতো জিন্দেগি কাটানির নিয়ত করিলায়। তে ইখান যেরা আমল করতো পারে, তারা আমল করউক।”
[13] বাদে মানষে হুরু হুরু হুরুতাইনরে লইয়া ইছার গেছে আইলা, তারা চাইলা তাইন যানু হুরুতাইন্তর মাথাগু আতাই দিয়া দোয়া করইন। অইলে সাহাবি অকলে এরারে বকা-জকা করলা।
[14] ইতা দেখিয়া তাইন কইলা, “হুরুতাইনরে আটকাইও না, তারারে আমার গেছে আইতে দেও। আল্লার বাদশাই তো এরার লাখান মানষর লাগিউ।”
[15] হুরুতাইন্তর মাথা আতাইয়া দোয়া করিয়া হারলে, তাইন হিন থাকি গেলাগি।
[16] বাদে এক জুয়ান বেটায় আইয়া তানরে জিকাইলো, “হুজুর, আখেরাত পাওয়ার লাগি আমি কুন হক কাম করতাম?”
[17] ইছায় কইলা, “হক কামর বেয়াপারে আমারে কেনে জিকাইরায়? হক তো খালি একজনউ আছইন, তুমি আখেরাত পাইতে চাইলে, তান হকল হুকুম-আহকাম আমল করো।”
[18] হউ জুয়ানে কইলো, “হুজুর, কুন কুন হুকুম মানতাম?” তাইন কইলা, “খুন করিও না, জিনা করিও না, চুরি করিও না, মিছা সাক্ষি দিও না,
[19] মা-বাফরে ইজ্জত করিও আর আরি-ফরিরে নিজর লাখান মায়া করিও।”
[20] বেটায় কইলো, “ছাব, ইতা তো আমি এমনেউ আমল করিয়ার, অইলে আর কিতা করতাম কউক্কা?”
[21] তেউ ইছায় তারে কইলা, “তুমি যুদি ষোলআনা খাটি অইতায় চাও, তে তুমার বাড়িত যাও, গিয়া তুমার হকল ধন-ছামানা বেচিয়া গরিব-দুখিরে বিলাই দেও। তেউ তুমি বেহেস্তো ধন-ছামানা পাইবায়। এরবাদে আইয়া আমার উম্মত অইও।”
[22] ইখান হুনিয়া বেটা বেজার অইয়া গেলগি, তার তো বউত ধন-ছামানা আছিল।
[23] তেউ ইছায় তান সাহাবি অকলরে কইলা, “আমি হাছা কথা কইরাম, ধনি মানুষ আল্লার বাদশাইত হামানি বড় মশকিল।
[24] হুনো, ধনি মানুষ আল্লার বাদশাইত হামানির চাইতে, ছুইর ফুড়েদি উট হামানি আরো সুজা।”
[25] ইখান হুনিয়া সাহাবি অকল তাইজ্জুব অইয়া কইলা, “তে কুন মানুষ নাজাত হাছিল করবো, কে রেহাই পাইবো?”
[26] তাইন এরার বায় চাইয়া কইলা, “মানষর লাগি অসম্ভব অইতো পারে, অইলে আল্লার নজরো ইতা তো মামুলি। তাইন হকলতাউ পারইন।”
[27] অউ সময় পিতরে জিকাইলা, “হুজুর, আমরা তো হক্কলতা ফালাই থইয়া আপনার খরে আইছি। তে আমরা কিতা পাইমু?”
[28] ইছায় কইলা, “আমি তুমরারে হাছা কথা কইরাম, তুমরা যারা আমার উম্মত অইছো, আমি বিন-আদম জিন্দা অইয়া যেবলা আল্লার বাদশাইর গদিত বইমু, অউ সময় তুমরাও আমার লগে অইয়া বারোটা তখতো বইবায়, বইয়া বনি ইছরাইলর বারো গুষ্টির বিচার করবায়।
[29] হুনো, যে মানষে আমার লাগি নিজর বাড়ি-ঘর, মা-বাফ, ভাই-বইন, পুয়া-পুড়ি, আর জমি-মিরাস ফালাইয়া আইছে, হে অউ দুনিয়াত ইতার একশো গুন বেশি পাইবো, এরলগে আখেরও পাইবো।
[30] অইলে অখন যেরা আগর কাতারো আছে, এরার বউত জন খরে পড়িযিবো, আর খরর কাতারর বউত জন আগে আইবো।”