[1] বাদে ইছায় অউ বারোজন সাহাবিরে লইয়া গাউয়ে গাউয়ে, টাউনে টাউনে ঘুরিয়া আল্লার বাদশাইর তবলিগ করাত রইলা।
[2] তারার লগে কয়জন বেটিনও আছলা। অউ বেটিন জিনর আছর আর বউত জাতর বেমার থাকি ভালা অইয়া তান লগ ধরছলা। এরার নাম অইলো: মগদিলিনী মরিয়ম, এন গেছ থাকি সাতগু জিন ছাড়াইল অইছিল;
[3] রাজা হেরোদর উজির কুজাইর বউ সোহানা; সুসানা; আর আরো বউত বেটিন আছলা। অউ বেটিন্তে তারার নিজর ছামানা দিয়া ইছা আর তান সাগরিদ অকলর খরচ-পাতি চালাইতা।
[4] বাদে যেবলা নানান জাগা থাকি বউত মানুষ আইয়া ইছার গেছে দলা অইলা, অউ সময় তাইন এক কিচ্ছা হুনাইলা।
[5] তাইন কইলা, “এক গিরস্তে ধানর জালা বাইন দেওয়াত গেল। গিয়া বাইন দেওয়ার বালা কিছু জালা আইলর মাজে পড়িগেল, মানষে পাওদি উড়িয়া ই জালা নষ্ট করিল্লো, আর পাখিন্তেও আইয়া খাইলিলো।
[6] গিরস্তর কিছু জালা হুকনা-শক্ত মাটির উপরে পড়লো, ইতায় আলি বার অইলেও হেশে রস না পাইয়া হুকাইয়া মরিগেল।
[7] কিছু জালা বন-জংলার মাজে পড়লো, ই জালায় আলি ফুটলেও ইতারে বন-জংলায় জাতিয়া ধরলো।
[8] অইলে কিছু জালা ভালা জমিনো পড়লো, ই জালায় ভালা ধান অইলো, আর একশো গুন বেশি ধান ধরলো।” অউ কিচ্ছা কইয়াউ তাইন জুরে জুরে কইলা, “যার কান আছে, হে হুনউক।”
[9] সাগরিদ অকলে আরজ করলা, “হুজুর, ই কিচ্ছার মানি কিতা?”
[10] তাইন কইলা, “আল্লার বাদশাইর গোপন রহস্য জানার সুযোগ খালি তুমরারে দেওয়া অইছে, অইলে বাকি মানষর গেছে তো ইতা কিচ্ছার লাখান কইরাম, যাতে তারা দেখিয়াও না দেখে, হুনিয়াও না বুজে।
[11] “তে ই কিচ্ছার মানি অইলো, ই ধানর জালা অইলো আল্লার কালাম।
[12] আইলর মাজে পড়া জালাদি বুজাইল অইছে, যেরা আল্লার কালাম হুনে, বাদে ইবলিছে আইয়া তারার দিল থাকি ইতা কাড়িয়া নেয়গি। ইবলিছে চায় না মানষে ইমান আনিয়া নাজাত হাছিল করউক।
[13] আর হুকনা-শক্ত মাটির উপরে পড়া জালাদি বুজাইল অইছে, যারা ই কালাম বেশ খুশি অইয়া হুনে, অইলে কালামে তারার দিলো ভালামন্তে জড় করে না। এরদায় ই ইমান থুড়া কয়দিন টিকে, কুনু পরিক্ষাত পড়লেউ তারার ইমান খুয়াইলায়।
[14] বন-জংলাত পড়া জালাদি বুজাইল অইছে, যেরা ইমানর দাওত হুনে, অইলে দুনিয়াবি ধান্দাত পড়িয়া ধন-ছামানার লালছ, আর আরাম-আইশর বায় চাইয়া ইতা ফাউরিলায়। এরদায় তারার জিন্দেগিত কুনু ভালা ফল ধরে না।
[15] ভালা জমিনো পড়া জালাদি বুজাইল অইছে, যেরা হক আর ছহি দিলে আল্লার কালাম হুনে, হুনিয়া নিজর দিলো ভালামন্তে গাথিয়া রাখে, আর ইমানে মজবুত রইয়া জিন্দেগিত ভালা ফল ধরে।
[16] “কুনু মানষে লেম জালাইয়া হারি চকির তলে থয়নি বা টুকরিদি গুরিলায় নি? নিচয় না, তারা গাছার উপরে থয়, যাতে ঘরর ভিতরে ফর দেখা যায়।
[17] তে ইলা গাইবি কুন্তাউ নাই যেতা জাইর অইতো নায়। ইলা লুকাইলও কুন্তা নাই যেতা কেউ হুনতো নায় বা জানতো নায়।
[18] এরদায় তুমরা কিলা হুনরায় খিয়াল করিও, যার আছে তারে আরো দেওয়া অইবো, আর যার নাই, তার যেতা আছে বলিয়া হে মনে করের, অতাও নেওয়া অইযিবো।”
[19] এরমাজে ইছার মা আর ভাইয়াইন তান গেছে আইয়া আজিলা, অইলে ভিড়র লাগি তারা কাছাত আইতা পারলা না।
[20] তেউ একজন মানষে আইয়া ইছারে কইলা, “আপনার মা আর ভাইয়াইন আপনার লগে দেখা করাত আইয়া বারে উবাই রইছইন।”
[21] ইছায় জুয়াপ দিলা, “আমার মা-ভাই তো এরাউ, যেরা আল্লার কালাম হুনইন আর আমল করইন।”
[22] একদিন ইছা আর তান সাহাবি অকল গিয়া নাওয়ো উঠলা, উঠিয়া তাইন সাহাবি অকলরে কইলা, “আও, আমরা আওরর হপারো যাই।” তেউ সাহাবি অকলে নাও ভাসাইলা।
[23] নাও চলতির মাজে ইছা ঘুমাই গেলা। আখতাউ আওরর মাজে অমন তুফান আইলো, তুফানে নাওত পানি হামাইয়া ভরিযার, তারা দেখলা বড় মছিবত আইছে।
[24] সাহাবি অকল ইছার ধারো গিয়া তানে হজাগ করিয়া কইলা, “হুজুর, হুজুর, আমরানু মরিযিরাম।” ইছা উঠিয়া পানির ঢেউ আর বাতাসরে ধামকি দিলা। লগে লগেউ ঢেউ আর তুফান থামিয়া হকলতা থির অইগেল।
[25] ইছায় তারারে কইলা, “অউ অতানি তুমরার ইমান?” তারা ডরাইয়া তাইজ্জুব অইয়া একে-অইন্যরে কইলা, “এইন আসলে কে, দেখরায়নি বাতাসে আর পানিয়েও তান হুকুম মানে?”
[26] ইছায় তান সাহাবি অকল লইয়া গালিল আওর পার অইয়া জেরাসিনি এলাকাত গেলা।
[27] গিয়া হারি তাইন নাও থাকি লামলা, অউ সময় হউ গাউর জিনর আছর আলা এক বেটা তান গেছে আইলো। জিনর পালে আছর করায় হে বউত দিন ধরি লেমটা আর কুনু বাড়ি-ঘরো রইতো না, খালি কবরস্থানো রইতো।
[28] ইছারে দেখিয়াউ হে চিল্লাইয়া উঠলো, তান ছামনে পড়িয়া জুরে জুরে কইলো, “ও আল্লার খাছ মায়ার জন, আপনে কেনে আমার ইনো তশরিফ আনলা? মেহেরবানি করি আমারে ছাতাইন না যানু।”
[29] ইখান কওয়ার কারন অইলো, ইছায় হি জিনরে হুকুম দিছলা অউ বেটারে ছাড়িয়া যাওয়ার লাগি। ই জিনে তারে বউত দিন থাকি আছর করছিল, বেটারে ডান্ডা-বেড়ি আর শিকলদি বান্দিয়া রাখলেও, হে ইতা ছিড়িলিতো, হউ জিনে তারে নিরাই জাগাত নিতোগি।
[30] ইছায় তারে জিকাইলা, “তোর নাম কিতা?” হে কইলো, “ফৌজ পাল” কারন তারা বউত জিন একলগে আছিল।
[31] তেউ হি ফৌজ পালে ইছারে মিনত-কাজ্জি করিয়া কইলা, তাইন যানু তারারে রসাতলে না গাড়ইন।
[32] হিনো পাড়র এক গালাত বড় এক শুয়রর পাল আছিল। ফৌজ পালে তানরে মিনত করিয়া কইলা, তারারে হউ শুয়রর ভিতরে হামানির ইজাজত দিতা। তাইন ইজাজত দিলা।
[33] অউ তারা হি বেটারে ছাড়িয়া শুয়রর ভিতরে গিয়া হামাইলো, এতে শুয়রর পাল পাড়র ঢালেদি দৌড়িয়া গিয়া আওরর পানিত বুড়িয়া মরলা।
[34] ইতা দেখিয়া শুয়রর রাখাল অকল দৌড়িয়া গিয়া টাউনো আর গাউয়ে গাউয়ে খবর দিলো।
[35] খবর পাইয়া চাইরোবায় থনে মানুষ আইলা, আইয়া দেখলা, যে বেটার লগ থাকি ফৌজ পাল বার অইয়া গেছইন, হে পুরাপুর ভালা অইয়া কাপড়-চুপড় ফিন্দিয়া ইছার পাওর কান্দাত বইরইছে। দেখিয়া তারা চমকি গেলা।
[36] আর অউ ঘটনা ঘটিতে যেরা দেখছিল, তারা হকল মানষরে হুনাইলা, ই বেটা কিলা ভালা অইছে।
[37] হুনিয়া জেরাসিনি এলাকার হকল মানুষ ডরাইগেলা। ডরর চুটে তারা ইছারে মিনত-কাজ্জি করিয়া কইলা, তাইন তারার গেছ থাকি তশরিফ নিতাগি। তেউ ইছা নাওয়ো উঠিয়া হিরবার গালিলো আইলা।
[38] অইলে যে বেটারে জিনে ধরছিল, হে আরজ করলো তান লগে রইবার লাগি। ইছায় তারে অখান কইয়া বাড়িত পাঠাই দিলা,
[39] কইলা, “তুমি তুমার বাড়িত যাও, আর আল্লায় তুমার লাগি যে কুদরতি কাম করছইন, অতা গিয়া কও।” তেউ হে গেলগি, গিয়া টাউনর হকল মানষরে জানাইলো, ইছায় তার লাগি অতো বড় কাম করছইন।
[40] ইছা গালিলো আইয়া হারলে হিনর মানষে খুশি অইয়া তানরে কবুল করলা, তারা তান লাগি বার চাওয়াত আছিল।
[41] অউ সময় যায়ীর নামে মছিদ কমিটির এক মতল্লী আইয়া ইছার পাওয়ো পড়িয়া মিনত লাগাইলা, হুজুররে তান বাড়িত নিবার লাগি।
[42] কারন তান একমাত্র পুড়ি ছরখাতো আছিল, পুড়ির বয়স বারো বছর। ইছা যেবলা অউ বাড়িত যাইবার লাগি রওয়ানা দিলা, মানষে আইয়া তান চাইরোবায় ভিড় করিয়া ঠেলাঠেলি লাগাইলা।
[43] ভিড়র মাজে এক বেটি মানুষও আছলা, এইন বারো বছর ধরিয়া মাসিক বেমারি। তান হকল ধন-ছামানা ডাক্তরর তলে খুয়াইয়াও ভালা অইতা পারছইন না।
[44] তাইন ইছার খরেদি আইয়া ইছার চাদ্দরর কুনাত ছওয়ার লগে লগেউ তান বেমার কমিগেল।
[45] তেউ ইছায় জিকাইলা, “আমারে কে ছইলো?” কেউ স্বীকার না করায় পিতর আর তান লগর মানষে ইছারে কইলা, “হুজুর, আপনার চাইরোবায় কত মানষে ঠেলাঠেলি করিয়া আপনার গাʼত লাগের।”
[46] অইলে ইছায় কইলা, “কেউ আমারে ছইছে, কারন আমি বুজরাম, আমার ভিতর থাকি গাইবি বল বার অইছে।”
[47] অউ বেটিয়ে যেবলা দেখলো ধরা পড়িগেছে, তাই কাপি কাপি ইছার ছামনে আইয়া তান পাওয়ো পড়িয়া হকলর ছামনেউ কইলো, কেনে তাই ইছারে ছইছিল আর কিলান লগে লগেউ ভালা অইগেছে।
[48] ইছায় বেটিরে কইলা, “মাই গো, তুমি একিন করছো করি ভালা অইছো। অখন শান্তিয়ে বাড়িত যাও।”
[49] ইছায় অতা মাতিরা, অমন সময় মছিদর মতল্লীর বাড়ি থাকি খবরিয়া আইয়া তানরে কইলো, “ছাব, আপনার পুড়ি দুনিয়া থাকি গেছইনগি, তে হুজুররে আর কষ্ট দিবার কাম নাই।”
[50] ইখান হুনিয়া ইছায় কইলা, “ডরাইও না, খালি একিন করো। দেখবায়নে, তাই ভালা অইযিবো।”
[51] ইছা হউ বাড়িত গেলা, গিয়া পিতর, হান্নান, ইয়াকুব আর পুড়ির মা-বাফ ছাড়া অইন্য কেউররে ঘরর ভিতরে হামাইতে দিলা না।
[52] হকলে যেবলা পুড়ির লাগি কান্দা-কাটি আর আহাজারি কররা, অউ সময় ইছায় কইলা, “কান্দিও নারে, তাই তো মরছে না, ঘুমার।”
[53] ইখান হুনিয়া তারা তানরে ছিড়াইলা। তারা হকলেউ জানতো পুড়ি মরি গেছে।
[54] তেউ ইছায় পুড়ির আতো ধরিয়া ডাক দিলা, “মাই গো, উঠো।”
[55] লগে লগেউ পুড়ির জান ফিরত আইলো। তাই উঠিয়া বইগেল। ইছায় কইলা, পুড়িরে কুন্তা খাইবার দিতা।
[56] পুড়ির মা-বাফ এক্কেরে তাইজ্জুব বনিগেলা। বাদে ইছায় কইলা, “হুনো, ইতা কেউররে হুনাইও না।”