[1] হজরত ইছার বয়ান হুনার লাগি বউত ঘুষখুর খাজনা তুলরা আর বে-শরিয়তি আম মানুষ তান গেছে দলা অইলা।
[2] ইতা দেখিয়া ফরিশি দলর মানষে আর মৌলানা অকলে কানা-কানি করি কইলা, “ই মানুষগু খালি নাফরমান অকলর লগে উঠা-বওয়া আর খানা-পিনা খায়।”
[3] তেউ ইছায় তারারে অউ কিচ্ছাইন হুনাইলা। তাইন কইলা,
[4] “মনো করউক্কা, আপনারা কুনু একজনর একশোটা মেড়া আছে। এরমাজর এগু মেড়া আরাই গেলে, হে বাকি নিরান্নব্বইটা বন্দো থইয়া হউ আরাইল অগু তুকানিত যায় না নি?
[5] গিয়া অগু তুকাইয়া পাইলে, খুশিয়ে ইটারে কান্দো করি আনে।
[6] বাদে বাড়িত গিয়া বন্ধু-বান্ধব আর আরি-ফরিরে কয়, আও, আমার লগে ফুর্তি করো। আমার আরাইল মেড়াগু তুকাইয়া পাইলিছি।
[7] আমি আপনারারে কইরাম, এক্কেরে অউ লাখানউ, যারা গুনা থাকি তৌবা করার জরুর মনো করে না, ইলা নিরান্নব্বই জন পরেজগার থাকি একজন গুনাগারে মন বদলাইয়া তৌবা করলে, বেহেস্তো আরো বেশি খুশি-বাসি অয়।
[8] “বা ধরউক্কা, কুনু এক বেটির গেছে রুপার দশটা টেকা আছিল। এরথাকি এগু টেকা যুদি আরাইযায়, তে বেটিয়ে হি টেকার লাগি লেম জালাইয়া হুরুইনদি হুরিয়া আস্তা ঘর তুকায় না নি?
[9] বাদে তুকাইয়া পাইলিলে বন্ধু-বান্ধব আর আরি-ফরিরে ডাকিয়া কয়, আও না, আমার লগে খুশিত সামিল অও। আমার আরাইল টেকাগু তুকাইয়া পাইলিছি।
[10] আমি আপনারারে কইরাম, এক্কেরে অউ লাখানউ, একজন গুনাগার মানষে মন বদলাইয়া তৌবা করলে, আল্লার ফিরিস্তা অকলে অউলা খুশি করইন।”
[11] বাদে ইছায় কইলা, “এক গিরস্তর দুই পুয়া আছিল।
[12] একদিন হুরু পুয়ায় তার বাফরে কইলো, বাবা, আমি বাবাইতি জমি-জমা আর ধন-ছামানা যেতা পাইতাম, আমার অউ বাট-খান অখনউ আলগাইয়া দিলাউক্কা। অউ বাফে তান ছামানা দুইও পুয়ার নামে বাটিয়া দিলাইলা।
[13] এর কয়দিন বাদে হুরু পুয়ায় তার হক্কল ছামানা বেচিয়া বিদেশ গেলগি। বিদেশ গিয়া বাদ পথে চলিয়া তার টেকা-পয়সা হক্কলতা খুয়াইলিলো।
[14] হকলতা খুয়াইয়া হারলে হউ দেশর হকল জাগাত খুব নিদান দেখা দিলো এরদায় হে খুব কষ্টত পড়লো।
[15] হে হউ দেশর এক গিরস্তর বাড়িত গিয়া চাকরি চাইলো। মালিকে তারে চাকরি দিয়া শুয়রর পাল রাখার লাগি বন্দো পাঠাইলো।
[16] বন্দো গিয়া শুয়রে যেতা খায়, হে-ও অতা খাইয়া পেটর ভুক মিটাইতো চাইলো, অইলে অতাও কেউ তারে দিতো না।
[17] “বাদে আখতা একদিন তার হুশ অইলো। হে মনে মনে কইলো, আমার বাবার বাড়িত তো বউত চাকর-বাকরে পেট ভরি ভাত খাইরা। তে আমি অনো উপাসে মররাম কেনে?
[18] আমি গিয়া আমার বাবারে কইমু, বাবা, আমি তো আল্লার গেছে আর তুমার গেছেও নাফরমান বনিগেছি।
[19] তুমার পুয়া কইয়া আমি আর পরিচয় দিবার লাখ নায়। খালি তুমার চাকরর লাখান আমারে একজরা আশ্রয় দেও।
[20] অখান কইয়া হে তার বাড়িত রওয়ানা দিলাইলো। বাড়ির কান্দাত আইতেউ তার বাফে তারে দেখিলিলা। দেখিয়া তান দিল গলি গেল। তাইন দৌড়িয়া গিয়া তারে আইঞ্জা করি ধরিয়া হুংগা দিলা।
[21] তেউ পুয়ায় কইলো, বাবা, আমি তো তুমার পুয়া কইয়া পরিচয় দিবার লাখ রইছি না। আমি আল্লার গেছে আর তুমার গেছেও নাফরমান বনিগেছি।
[22] অইলে বাফে লগে লগে কামলাইন্তরে কইলা, হই, জলদি করি ঘর থাকি ভালা জুব্বাটা আনিয়া আমার পুয়াগুরে ফিন্দাও। তার আতো আংটি আর পাওত জুতা ফিন্দাই দেও।
[23] আর হুনো, পালো থাকি তাজা ডেকা-বাছুরগু আনিয়া জবো করো। আও, আমরা হকলে মিলিয়া খুশি-বাসি করি খানা খাই।
[24] আমার ই পুয়াগু তো মরিগেছিল, অখন হিরবার জিন্দা অইছে। অগু নাই অইগেছিল, অখন ফিরত পাইছি। তেউ হকলে মিলিয়া খুশি-বাসিত লাগলা।
[25] “অউ সময় বেটার বড় পুয়া বন্দো আছিল। হে বাড়ির কান্দাত আইয়া নাচ-গান আর ডুল-ডপকির আওয়াজ হুনিয়া,
[26] তারার এক চাকররে জিকাইলো, কিতারে, ইতা কিতা অর?
[27] চাকরে কইলো, ছাব, আপনার হুরু ভাই বাড়িত আইছইন। আপনার আব্বায় তানরে ছহি-ছালামতে পাইয়া, তাজা অউ ডেকা-বাছুর জবো করছইন।
[28] ইখান হুনিয়া বড় পুয়ায় গুছা করিয়া বাড়ির ভিতরে আইতো চাইলো না। তেউ তার বাফ বার অইয়া আইয়া তারে মিনত-কাজ্জি করলা।
[29] হে তার বাফরে কইলো, দেখউক্কা, আমি অতো দিন ধরিয়া আপনার খেজমত কররাম, কুনুদিনউ আপনার হুকুম উল্টাইছি না। অইলে আমার বন্ধু-বান্ধব লইয়া খুশি করার লাগি এগু বকরির বাইচ্চাও কুনুদিন দিছইন না।
[30] আর আপনার যে পুয়ায় নটি বেটিন্তর তলে হকল ছামানা খুয়াইছে, হে আইতেউ তাজা ডেকা-বাছুরগু আনিয়া জবো করিলাইলা!
[31] বাফে কইলা, পুতরে, তুমি তো হামেশাউ আমার লগে আছো। আমার যেতা ছামানা রইছে, ইতা হক্কলতাউ তো তুমার।
[32] অখন আমরা হকলে দিল ছাফ করিয়া খুশি-বাসি করা জরুর। তুমার ই ভাই তো মরিউ গেছিল, অখন হিরবার জিন্দা অইছে। অগু এক্কেরে নাই অইগেছিল, অখন ফিরত পাইছি।”