[1] হজরত ইছায় তান সাগরিদ অকলরে কইলা, “গুনার পথে নেওয়ার লাগি উছকানি আইবোউ আইবো। অইলে লান্নত হউ জনর উপরে, যেগিয়ে গুনা করার লাগি উছকানি দেয়।
[2] অউ বেবুজ অকলর একজনরেও যেগিয়ে গুনার পথে টানিয়া নেয়, অগুর লাগি আরো ভালা অইলো অনে, অগুর গলাত পাথর বান্দিয়া দরিয়াত ফালাই দেওয়া।
[3] তুমরাও যারযির বেয়াপারে হুশিয়ার রইও। তুমার কুনু ভাইয়ে তুমার গেছে দুষ করলে তারে বুজাইও। হে দিল বদলাইয়া মাফ চাইলে তারে মাফি দিও।
[4] হে দিনর মাজে সাতবার দুষ করিয়া, সাতবার আইয়া তুমার গেছে মাফ চাইলে, তারে মাফ করি দিও।”
[5] সাহাবি অকলে হজরত ইছার গেছে আবদার করলা, “হুজুর, আমরার ইমানি বল বাড়াই দেউক্কা।”
[6] তাইন কইলা, “তুমরার দিলো যুদি এগু ডেংগার বিচির পরিমান ইমান থাকে, আর তুমরা অউ হেওরা গাছরে কও, জড় সুদ্ধা হুরিয়া গিয়া দরিয়াত গাড়িযাও, তে হে তুমরার কথা হুনবো।
[7] “তুমরার মাজে ইলা কুনু গিরস্ত আছে নি, যার কামলায় আল বাইয়া বা গরু রাখিয়া বন্দো থাকি বাড়িত আইতেউ, হে তার কামলারে কয়, তুমি জলদি আইয়া খানা খাও?
[8] না, কেউ ইলা কয় না। বরং অউলা কয়, ওবা, তুই আমার খানা জুইত কর। আমি যতো সময় খানা খাই, তুই অনো উবাইয়া ভালামন্তে আমারে বাতাস দে। বাদে তুই খাইছ।
[9] আর হউ গুলামে তান হুকুম মানছে করি তাইন তারে কুনু ধইন্যবাদ দেইন নি? নিচয় না।
[10] অউ লাখান তুমরাও হকল হুকুম-আহকাম আদায় করলেও কইও, মালিক, আমরা তো তুমার নালায়েক গুলাম। আমরা যেতা কাম করা জরুর আছিল, খালি অতাউ কুনু রকমে আদায় করছি।”
[11] হজরত ইছা জেরুজালেম টাউনো যাওয়ার বালা শমরিয়া আর গালিল জিলার মাজেদি আটিয়া যাইরা।
[12] অউ সময় এক গাউত হামানির পথর মুখো দশজন পচা-কুষ্ঠ বেমারিয়ে তানরে দেখাত আইলা। তারা দুরই উবাইয়া জুরে জুরে কইলা,
[13] “ও হুজুর ইছা, আমরারে রহম করউক্কা।”
[14] তারারে দেখিয়া তাইন কইলা, “যাও, ইমাম ছাব অকলরে গিয়া তুমরার হালত দেখাও।” পথেদি যাইতে যাইতে তারা হকলর বেমার কমিগেল।
[15] তারার মাজে একজনে যেবলা দেখলো, হে ভালা অইগেছে, দেখিয়াউ জুরে জুরে আল্লার তারিফ করি করি হে ফিরিয়া আইলো।
[16] আইয়া ইছার পাওত পড়িয়া তানরে শুকরিয়া জানাইলো। হে অইলো শমরিয়া জাতির মানুষ।
[17] তেউ ইছায় কইলা, “দশো জনরেউ কুনু ভালা করা অইছে না নি? তে বাকি নয়জন কুয়াই?
[18] আল্লার তারিফ করার লাগি অউ বিদেশি বেটা ছাড়া আর কেউ ফিরিয়া আইলো না নি?”
[19] বাদে ইছায় তারে কইলা, “ভাই, তুমার ইমানর বলেউ তুমি ভালা অইছো। অখন ছহি-ছালামতে যাও।”
[20] ফরিশি মজহবর কয়জন আইয়া হজরত ইছারে জিকাইলা, আল্লায় কুন সময় তান বাদশাই চালু করবা। তাইন কইলা, “আল্লার বাদশাই তো কেউররে জানাই-হুনাই আয় না।
[21] কেউ কওয়ার সাইধ্য নাই, আল্লার বাদশাই অনো বা হনো দেখছি। হুনউক্কা, আল্লার বাদশাই তো অখনউ আপনারার মাজে চালু আছে।”
[22] বাদে তান সাগরিদ অকলরে কইলা, “অমন এক সময় আইবো, যেবলা তুমরা আমি বিন-আদমর একখান দিন দেখতায় চাইবায়, অইলে পারতায় নায়।
[23] মানষে তুমরারে কইবা, অনো দেখো, হনো দেখো। অইলে তুমরা তারার কথায় দৌড়িও না, কুনুখানো যাইও না।
[24] হুনো, মেঘর জিলকির লগে আছমানর এক মাথা থাকি আরক মাথা যেবলা ফর অয়, অউ সময় তো হকলে দেখে। তে আমি বিন-আদম যেবলা আইমু হউ সময়ও অলা হকলে দেখবো।
[25] অইলেও পয়লা ই জমানার মানষর আতো আমি বউত কষ্ট পাইতাম অইবো, তারা আমারে দুর-দুর করবা।
[26] “যেলা নুহ নবীর আমলো অইছিল, আমি বিন-আদমর জমানাতও অলা অইবো।
[27] নুহ নবী জাজো উঠার আগ পর্যন্ত মানষে খানা-পিনা, বিয়া-শাদি আর ঘর-সংসার করতা, নুহ নবীর বইন্যা আইয়া ইতারে নিপাত করলো।
[28] অউলা লুত নবীর আমলোও মানষে খানা-পিনা, খরিদ-বিকি, খেত-গিরস্তি আর বাড়ি-ঘর বানানিত বেস্তো আছলা।
[29] অইলে লুত নবী যেদিন ছাদুম টাউন ছাড়িয়া বিদায় অইগেলা, হউ দিনউ আছমান থাকি আগুইন আর গন্ধকর গজব লামিয়া ইতা হক্কলটিরে নিপাত করলো।
[30] ঠিক অউলা, আমি বিন-আদম যেদিন জাইরা অইমু, হউদিনও অলা আখতা আইবো।
[31] “হিদিন কেউ যুদি ঘরর চালর উপরে থাকে, তে তার ঘরর মাল-ছামানা নিবার লাগি, লামাত লামিয়া ঘরর ভিতরে না হামাউক। অউ লাখান কেউ যুদি বন্দো থাকে, হে-ও আর বাড়িত না আউক।
[32] লুত নবীর বিবির ঘটনা ইয়াদ করো।
[33] মনো রাখিও, যে জনে জান বাচাইতো চায়, হে নিজর জিন্দেগি খুয়াইবো, অইলে যে জনে জান সপিয়া দেয়, হে জিন্দেগি পাইবো।
[34] হি রাইত একই বিছনাত দুইজন হুতিলেও, একজনরে নেওয়া অইবো, দুছরা জন বাদ পড়িযিবো।
[35] দুই বেটিয়ে একলগে বারা-বানাত থাকলেও, এরার একজনরে নেওয়া অইবো, আরক জন বাদ পড়িযিবো।”
[37] সাহাবি অকলে কইলা, “হুজুর, ইতা কুয়াই অইবো?” তাইন জুয়াপ দিলা, “মরা লাশ যেখানো, হকুনও হনো দলা অয়।”