[1] ওহে অবুঝ গালাতিয়েরা! কে তোমাদের জাদু করেছে? তোমাদেরই চোখের সামনে যীশু খ্রীষ্ট ক্রুশার্পিতরূপে স্পষ্ট চিত্রিত হয়েছেন।
[2] আমি তোমাদের কাছে থেকে কেবলমাত্র একটি বিষয় জানতে চাই। তোমরা পবিত্র আত্মা লাভ করেছিলে বিধান পালন করে, না-কি যা শুনেছিলে, তা বিশ্বাস করে?
[3] তোমরা কি এতই নির্বোধ? সেই আত্মায় শুরু করে, এখন কি তোমরা মানবিক প্রচেষ্টায় লক্ষ্য অর্জন করতে চাইছ?
[4] তোমরা কি বৃথাই এত কষ্টভোগ করেছ—যদি তা প্রকৃতই বৃথা হয়ে থাকে?
[5] ঈশ্বর তোমাদের তাঁর আত্মা দান করেন ও তোমাদের মধ্যে অলৌকিক কর্মসকল করেন, কারণ তোমরা বিধান পালন করো বলে, না যা শুনেছিলে, তা বিশ্বাস করেছ বলে?
[6] অব্রাহামের কথা বিবেচনা করো। তিনি ঈশ্বরকে বিশ্বাস করলেন, “আর সেটিই তাঁর ধার্মিকতারূপে পরিগণিত হল।”
[7] তাহলে বুঝে নাও, যারা বিশ্বাস করে, তারাই অব্রাহামের সন্তান।
[8] শাস্ত্র পূর্ব থেকে লক্ষ্য রেখেছিল যে, ঈশ্বর অইহুদি জাতিদের বিশ্বাসের দ্বারা নির্দোষ প্রতিপন্ন করবেন এবং সেই সুসমাচার অব্রাহামের কাছে পূর্বেই ঘোষণা করেছিলেন। “সমস্ত জাতি তোমার মাধ্যমে আশীর্বাদ লাভ করবে।”
[9] তাই যাদের বিশ্বাস আছে, তারা বিশ্বাসের সেই মানুষ অব্রাহামের সঙ্গেই আশীর্বাদ লাভ করেছে।
[10] যারা বিধান পালনের উপরে আস্থাশীল, তারা সকলে এক অভিশাপের অধীন, কারণ লিখিত আছে, “বিধান-গ্রন্থে লিখিত সমস্ত বিষয় যে সবসময় পালন না করে, সেই প্রত্যেক ব্যক্তি অভিশপ্ত।”
[11] স্পষ্টত, কোনো মানুষই বিধানের দ্বারা ঈশ্বরের সাক্ষাতে নির্দোষ প্রতিপন্ন হয় না, কারণ, “ধার্মিক ব্যক্তি বিশ্বাসের দ্বারাই জীবিত থাকবে।”
[12] বিধান বিশ্বাসভিত্তিক নয়; এর বিপরীতে, “যে মানুষ এই সমস্ত পালন করবে, সে এগুলির দ্বারা জীবিত থাকবে।”
[13] খ্রীষ্টই মূল্য দিয়ে বিধানের অভিশাপ থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন, কারণ তিনি আমাদের জন্য অভিশাপস্বরূপ হলেন, যেহেতু এরকম লিখিত আছে, “যে ব্যক্তিকে গাছে টাঙানো হয়, সে অভিশাপগ্রস্ত।”
[14] তিনি আমাদের মুক্ত করলেন, যেন যে আশীর্বাদ অব্রাহামকে দেওয়া হয়েছিল, তা খ্রীষ্ট যীশুর মাধ্যমে অইহুদিদের কাছে পৌঁছায়, যেন বিশ্বাসের দ্বারা আমরা পবিত্র আত্মার প্রতিশ্রুতি লাভ করি।
[15] ভাই ও বোনগন, প্রতিদিনের জীবন থেকে আমি একটি উদাহারণ দিতে চাই। যে দুইজনের মধ্যে চুক্তিপত্র ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাতে যেমন কেউ কিছু বাদ দিতে পারে না বা তাতে কিছু যোগ করতে পারে না, তেমনই এক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য।
[16] সেই প্রতিশ্রুতিগুলি অব্রাহাম ও তাঁর বংশধরের কাছে বলা হয়েছিল। শাস্ত্র এরকম বলেনি, “বংশধরদের কাছে,” যার অর্থ, বহু মানুষের কাছে, কিন্তু “তোমার বংশের কাছে,” যার অর্থ, একজন ব্যক্তির, অর্থাৎ খ্রীষ্টের কাছে।
[17] আমি যা বলতে চাই, তা হল, যে বিধান চারশো ত্রিশ বছর পরে প্রবর্তিত হল, তা পূর্বে ঈশ্বরের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত নিয়মকে বাতিল করতে পারে না এবং এভাবে সেই প্রতিশ্রুতি বিফল হতে পারে না।
[18] কারণ উত্তরাধিকার যদি বিধানের উপরে নির্ভরশীল হয়, তাহলে তা আর কোনো প্রতিশ্রুতির উপরে নির্ভরশীল থাকে না; কিন্তু ঈশ্বর তাঁর অনুগ্রহে এক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে অব্রাহামকে তা দান করেছিলেন।
[19] তাহলে, বিধানের উদ্দেশ্য কী-ছিল? এ শাস্ত্রীয় বিধান অপরাধসমূহের কারণে যুক্ত হয়েছিল, যতক্ষণ না যে বংশধরের উদ্দেশে প্রতিশ্রুতি দত্ত হয়েছিল, তাঁর আগমন হয়। স্বর্গদূতদের মাধ্যমে এক মধ্যস্থের দ্বারা সেই বিধান কার্যকরী হয়েছিল।
[20] যেখানে একটি পক্ষ, সেখানে কোনো মধ্যস্থ প্রতিনিধিত্ব করে না; কিন্তু ঈশ্বর এক।
[21] তাহলে বিধান কি ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতিসমূহের বিরোধিতা করেছিল? একেবারেই নয়! কারণ জীবন প্রদানের জন্য যদি কোনো বিধান দেওয়া হত, তাহলে বিধানের দ্বারা অবশ্যই ধার্মিকতা উপলব্ধ হত।
[22] কিন্তু শাস্ত্র ঘোষণা করে যে, সমস্ত জগৎ পাপের কাছে বন্দি হয়ে আছে, যেন যা প্রতিশ্রুত হয়েছিল, তা যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাসের মাধ্যমে দেওয়া যায় ও যারা বিশ্বাস করে, তাদের প্রতি দেওয়া হয়।
[23] এই বিশ্বাস আসার পূর্বে, আমরা বিধানের দ্বারা বন্দি হয়ে অবরুদ্ধ ছিলাম, যতক্ষণ না বিশ্বাস প্রকাশিত হল।
[24] তাই আমাদের খ্রীষ্টের উদ্দেশে চালিত করার জন্য বিধানকে দায়িত্ব দেওয়া হল, যেন আমরা বিশ্বাসের দ্বারা নির্দোষ গণিত হই।
[25] এখন সেই বিশ্বাসের আগমন হওয়ায়, আমরা আর বিধানের তত্ত্বাবধানে নেই।
[26] তোমরা সকলেই খ্রীষ্ট যীশুতে বিশ্বাসের মাধ্যমে ঈশ্বরের পুত্রকন্যা হয়েছ,
[27] কারণ তোমরা সকলে যারা খ্রীষ্টে বাপ্তাইজিত হয়েছ, তারা সকলে খ্রীষ্টকে পরিধান করেছ।
[28] ইহুদি কি গ্রিক, ক্রীতদাস কি স্বাধীন, পুরুষ কি স্ত্রী—আর কিছু নেই, কারণ তোমরা সকলেই খ্রীষ্ট যীশুতে এক।
[29] আর তোমরা যদি খ্রীষ্টের হও, তাহলে তোমরা অব্রাহামের বংশ, সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উত্তরাধিকারী।