Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 6:00

[1] সেভাবে স্ত্রীরা, তোমরা তোমাদের নিজ নিজ স্বামীর বশ্যতাধীন হও। তারা কেউ কেউ যদি বাক্যের অবাধ্য হয়, তবুও কোনো বাক্য ছাড়াই তাদের স্ত্রীদের আচার-আচরণের দ্বারা তাদের জয় করা যাবে,

[2] যখন তারা তোমাদের জীবনের শুদ্ধতা ও সম্ভ্রমপূর্ণ মনোভাব লক্ষ্য করবে।

[3] তোমাদের সৌন্দর্য যেন বাহ্যিক সাজ-সজ্জা, যেমন কেশবিন্যাস, সোনার অলংকার বা সূক্ষ্ম পোশাক-পরিচ্ছদ নির্ভর না হয়।

[4] বরং সেই সৌন্দর্য হবে তোমাদের আন্তরিক সত্তার, শান্ত ও কোমল আত্মার অম্লান শোভায় ভূষিত, যা ঈশ্বরের দৃষ্টিতে মহামূল্যবান।

[5] কারণ প্রাচীনকালের পবিত্র নারীরা, যাঁরা ঈশ্বরের উপরে প্রত্যাশা রাখতেন, এভাবেই নিজেদের সৌন্দর্যময়ী করতেন। তাঁরা নিজের নিজের স্বামীর বশ্যতাধীন থাকতেন,

[6] যেমন সারা, তিনি অব্রাহামের বাধ্য ছিলেন এবং তাঁকে “প্রভু” বলে সম্বোধন করতেন। যদি তোমরা ন্যায়সঙ্গত কাজ করো ও ভয়-ভীত না হও, তাহলে তোমরা তাঁরই কন্যা হয়েছ।

[7] একইভাবে স্বামীরা, স্ত্রীদের সঙ্গে বসবাস করার সময় তোমরা সুবিবেচক হও, দুর্বলতর সঙ্গী ও জীবনের অনুগ্রহ-রূপ বরদানের সহ-উত্তরাধিকারী জেনে, তোমরা শ্রদ্ধাপূর্বক তাদের সঙ্গে আচরণ কোরো, যেন কোনো কিছুই তোমাদের প্রার্থনায় বাধা সৃষ্টি করতে না পারে।

[8] পরিশেষে বলি, তোমরা সবাই পরস্পরের সঙ্গে মিল রেখে বসবাস করো; তোমরা সহানুভূতিশীল, ভ্রাতৃসম প্রেমকারী, দরদি ও নতনম্র হও।

[9] মন্দের পরিশোধে মন্দ বা অপমানের পরিশোধে অপমান কোরো না, বরং আশীর্বাদ কোরো; কারণ এর জন্যই তোমরা আহূত হয়েছ, যেন তোমরা আশীর্বাদের অধিকারী হতে পারো।

[10] কারণ শাস্ত্র বলে, “কেউ যদি জীবন ভালোবাসতে চায়, মঙ্গলের দিন দেখতে চায়, সে অবশ্য মন্দ থেকে তার জিহ্বাকে ও ছলনাপূর্ণ বাক্য থেকে তার ওষ্ঠাধরকে রক্ষা করবে।

[11] তারা মন্দ থেকে মন ফেরাবে আর সৎকর্ম করবে তারা অবশ্যই শান্তির সন্ধান করবে ও তা অনুসরণ করবে।

[12] কারণ প্রভুর দৃষ্টি ধার্মিকদের প্রতি রয়েছে, আর তাদের প্রার্থনায় তিনি কর্ণপাত করেন, কিন্তু প্রভুর মুখ তাদের বিরুদ্ধে যারা দুষ্কর্ম করে।”

[13] তোমরা যদি সৎকর্ম করতে আগ্রহী হও, কে তোমাদের ক্ষতিসাধন করবে?

[14] কিন্তু ন্যায়সঙ্গত কর্মের জন্য যদি তোমরা কষ্টও ভোগ করো, তাহলে তোমরা ধন্য। “তাদের ভীতি প্রদর্শনে তোমরা ভয় পেয়ো না, তোমরা বিচলিত হয়ো না।”

[15] কিন্তু তোমাদের হৃদয়মধ্যে খ্রীষ্টকেই প্রভু বলে পবিত্র করে মানো। তোমাদের অন্তরের প্রত্যাশার কারণ সম্পর্কে কেউ জানতে চাইলে, তাকে উত্তর দেওয়ার জন্য সবসময় প্রস্তুত থেকো। কিন্তু তা কোমলতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে কোরো,

[16] বিবেককে স্বচ্ছ রেখো, যেন তোমাদের খ্রীষ্টিয় সদাচরণ দেখে যারা বিদ্বেষপূর্ণভাবে তোমাদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তারা তাদের কটূক্তির জন্য লজ্জিত হয়।

[17] যদি ঈশ্বরের ইচ্ছা হয়, দুষ্কর্ম করে দুঃখকষ্ট ভোগ করার চেয়ে বরং সৎকর্ম করে কষ্টভোগ করা শ্রেয়।

[18] কারণ খ্রীষ্টও সর্বসময়ের জন্য একবার পাপসমূহের জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন, সেই ধার্মিক ব্যক্তি অধার্মিকদের জন্য করেছেন, যেন তোমাদের ঈশ্বরের কাছে আনয়ন করেন। তাঁকে শরীরে হত্যা করা হলেও আত্মায় পুনর্জীবিত করা হয়েছে,

[19] যাঁর মাধ্যমে কারারুদ্ধ আত্মাদের কাছে গিয়ে তিনি প্রচার করেছিলেন।

[20] এই আত্মারা বহুপূর্বে অবাধ্য হয়েছিল, যখন ঈশ্বর নোহের সময়ে সহিষ্ণুতার সঙ্গে অপেক্ষা করেছিলেন এবং জাহাজ নির্মিত হচ্ছিল। এর মধ্যে মাত্র কয়েকজন, সর্বসমেত আটজন জলের মধ্য থেকে উদ্ধারলাভ করেছিলেন।

[21] এই জলই হল বাপ্তিষ্মের প্রতীক, যা এখন তোমাদেরও রক্ষা করে—শরীর থেকে ময়লা অপসারণ করার জন্য নয়, কিন্তু ঈশ্বরের কাছে এক সৎ বিবেক নিবেদন করার জন্য। এ যীশু খ্রীষ্টের পুনরুত্থান দ্বারা তোমাদের পরিত্রাণ সাধন করে।

[22] তিনি স্বর্গে গিয়েছেন ও ঈশ্বরের ডানদিকে আছেন—সব স্বর্গদূত, কর্তৃত্বসমূহ ও পরাক্রমগুলি তাঁরই বশ্যতাধীন রয়েছে।

1 পিতর — Chapters