[1] অতএব, তোমরা সমস্ত বিদ্বেষ এবং সমস্ত ছলনা, ভণ্ডামি ও সমস্ত রকম কুত্সা-রটানো বর্জন করো।
[2] নবজাত শিশুর মতো, বিশুদ্ধ আত্মিক দুধের আকাঙ্ক্ষা করো, যেন এর গুণে তোমরা পরিত্রাণের পূর্ণ অভিজ্ঞতায় বৃদ্ধিলাভ করতে পারো,
[3] যেহেতু এখন তোমরা আস্বাদন করে দেখেছ যে, প্রভু মঙ্গলময়।
[4] তোমরা যখন তাঁর কাছে, সেই জীবন্ত পাথরের কাছে আসছ—যিনি মানুষদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত, কিন্তু ঈশ্বরের দ্বারা মনোনীত হয়েছিলেন ও তাঁর কাছে মহামূল্যবান—
[5] তখন তোমাদেরও জীবন্ত পাথরের মতো, একটি আত্মিক আবাসরূপে গড়ে তোলা হয়, যেন এক পবিত্র যাজকসমাজ হয়ে তোমরা যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছে গ্রহণযোগ্য আত্মিক বলি উত্সর্গ করতে পারো।
[6] কারণ শাস্ত্রে বলা হয়েছে: “দেখো, আমি সিয়োনে এক প্রস্তর স্থাপন করি, এক মনোনীত ও মহামূল্যবান কোণের প্রস্তর, যে তাঁর উপরে আস্থা রাখে, সে লজ্জিত হবে না কখনও।”
[7] এখন তোমরা যারা বিশ্বাস করো, তাদের কাছে এই পাথর বহুমূল্য। কিন্তু যারা বিশ্বাস করে না, তাদের ক্ষেত্রে, “যে প্রস্তরকে স্থপতিরা প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাই হয়ে উঠল শীর্ষপ্রস্তর,”
[8] এবং “এক প্রস্তর, যাতে মানুষেরা হোঁচট খায় এবং এক শিলা, যা তাদের পতন ঘটায়।” সেই বার্তার অবাধ্য হওয়ার জন্য তারা হোঁচট খায়, যার জন্য তারা নির্ধারিত হয়েই আছে।
[9] কিন্তু তোমরা এক মনোনীত বংশ, এক রাজকীয় যাজক-সম্প্রদায়, এক পবিত্র জাতি, ঈশ্বরের অধিকারস্বরূপ নিজস্ব এক প্রজা, যেন তোমরা তাঁরই গুণকীর্তন করতে পারো, যিনি তোমাদের অন্ধকার থেকে আহ্বান করে তাঁর আশ্চর্য জ্যোতির মধ্যে নিয়ে এসেছেন।
[10] এক সময় তোমরা প্রজা ছিলে না, কিন্তু এখন তোমরা ঈশ্বরের প্রজা হয়েছ; এক সময় তোমরা করুণা পাওনি, কিন্তু এখন তোমরা করুণা লাভ করেছ।
[11] প্রিয় বন্ধুরা, আমি তোমাদের অনুনয় করি, পৃথিবীতে তোমরা বিদেশি ও প্রবাসী বলে, তোমরা পাপপূর্ণ কামনা-বাসনাগুলি থেকে দূরে থাকো, যেগুলি তোমাদের প্রাণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
[12] পৌত্তলিকদের মধ্যে তোমরা এমন উৎকৃষ্ট মানের জীবনযাপন করো যে, তারা যদিও তোমাদের দুষ্কর্মকারী বলে অভিযুক্ত করে, তারা তোমাদের সৎ কর্মগুলি দেখতে পায় ও যেদিন ঈশ্বর আমাদের পরিদর্শন করেন, তারা তাঁর গৌরব কীর্তন করে।
[13] প্রভুরই কারণে তোমরা মানুষদের মধ্যে নিযুক্ত প্রত্যেক কর্তৃপক্ষের বশ্যতাধীন হও, তা তিনি সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রাজা হন,
[14] বা তাঁর প্রেরিত প্রদেশপালেরা, যেন তাঁরা অন্যায়কারীদের শাস্তি ও সদাচারীদের প্রশংসা করেন।
[15] কারণ ঈশ্বরের ইচ্ছা হল এই যে, সৎকর্মের দ্বারা তোমরা নির্বোধ লোকেদের অর্থইীন কথাবার্তাকে যেন স্তব্ধ করে দিতে পারো।
[16] তোমরা স্বাধীন মানুষের মতো জীবনযাপন করো; কিন্তু তোমাদের স্বাধীনতাকে মন্দতা গোপন করার বিষয়রূপে ব্যবহার কোরো না; তোমরা ঈশ্বরের সেবকরূপে জীবনযাপন করো।
[17] প্রত্যেক মানুষের প্রতি যথোচিত সম্মান প্রদর্শন করো: বিশ্বাসী ভ্রাতৃমণ্ডলীকে প্রেম করো, ঈশ্বরকে ভয় করো, রাজাকে সমাদর করো।
[18] ক্রীতদাসেরা, তোমরা সব ব্যাপারে শ্রদ্ধার সঙ্গে তোমাদের মনিবদের বশ্যতাস্বীকার করো; কেবলমাত্র যারা সজ্জন ও সুবিবেচক, তাদেরই নয়, কিন্তু যারা হৃদয়হীন, তাদেরও।
[19] কারণ ঈশ্বর-সচেতন কোনো মানুষ যদি অন্যায্য যন্ত্রণা পেয়ে কষ্টভোগ করে, তাহলে তা প্রশংসার যোগ্য।
[20] কিন্তু অন্যায় কর্মের জন্য যদি মার খাও ও তা সহ্য করো, তাহলে এতে তোমাদের কৃতিত্ব কোথায়? বরং সৎকর্মের জন্য যদি কষ্টভোগ করো ও তা সহ্য করো, তাই ঈশ্বরের কাছে প্রশংসনীয়।
[21] এই উদ্দেশ্যেই তোমরা আহূত হয়েছ, কারণ খ্রীষ্টও তোমাদের জন্য কষ্টভোগ করেছেন ও তোমাদের কাছে এক দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, যেন তোমরা তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলো।
[22] “তিনি কোনও পাপ করেননি, তাঁর মুখেও পাওয়া যায়নি কোনো ছলনার বাণী!”
[23] তাঁর প্রতি যখন নিন্দা-অপমান বর্ষিত হল, তিনি প্রতিনিন্দা করলেন না। যখন কষ্টভোগ করলেন, তিনি ভীতি প্রদর্শন করলেন না। পরিবর্তে, যিনি ন্যায়বিচারক, তিনি তাঁরই উপরে নির্ভর করেছিলেন।
[24] তিনি স্বয়ং গাছের উপরে নিজ শরীরে আমাদের পাপরাশি বহন করলেন, যেন আমরা পাপসমূহের পক্ষে মৃত্যুবরণ করে, ধার্মিকতার পক্ষে জীবনধারণ করি; তাঁরই ক্ষতসকলের দ্বারা তোমরা আরোগ্য লাভ করেছ।
[25] কারণ তোমরা বিপথগামী মেষের মতো ছিলে, কিন্তু এখন তোমরা তোমাদের প্রাণের পালক ও তত্ত্বাবধায়কের কাছে ফিরে এসেছ।