[1] হে রাজদুহিতা! পাদুকা পরিহিত তোমার দুটি চরণ কী মনোহর! তোমার রম্য ঊরুদ্বয় রত্ন সদৃশ, যেন এক দক্ষ কারিগরের উত্তম শিল্পসৌকর্য।
[2] তোমার নাভিদেশ সুডৌল পানপাত্রের মতো, যার মিশ্রিত সুরা কখনও ফুরায় না। তোমার কটিদেশ যেন লিলি ফুলে ঘেরা স্বর্ণ নির্মিত গমের স্তূপ।
[3] তোমার কুচযুগ যেন দুটি হরিণশাবক, যেন এক হরিণীর যমজ শাবক।
[4] তোমার গ্রীবা হস্তীদন্ত নির্মিত মিনার। তোমার দুই নয়ন বৎ-রব্বীম দ্বারের পাশে অবস্থিত হিষ্বোনের সরোবরগুলির মতো। তোমার নাক যেন দামাস্কাসের পানে চেয়ে থাকা লেবাননের মিনার।
[5] তোমার মস্তক যেন কর্মিল পাহাড়ের মুকুট। তোমার কেশরাশি যেন জমকালো নকশা খচিত রাজকীয় পর্দা, যে অসামান্য অলকগুচ্ছে রাজাও বন্দি হয়ে যান।
[6] হে মোর প্রেম, তুমি কত সুন্দর এবং তোমার মাধুর্যের কারণে কী মনোহর তোমার ব্যক্তিত্ব!
[7] তোমার দীর্ঘাঙ্গী চেহারা খেজুর গাছের মতো আর তোমার কুচযুগ একগুচ্ছ ফলের মতো।
[8] আমি বললাম, “আমি এই খেজুর গাছে আরোহণ করব; এর ফল আমি শক্ত হাতে অধিকার করব।” তোমার কুচদ্বয় হয়ে উঠুক দ্রাক্ষাগুচ্ছস্বরূপ, তোমার নিঃশ্বাস ভরে উঠুক আপেলের গন্ধে,
[9] আর তোমার মুখ হয়ে উঠুক উৎকৃষ্ট সুরাসম। এই সুরা কেবলমাত্র আমার প্রেমিকের কাছে পৌঁছাক, যা তাঁর দন্তশ্রেণী ও ওষ্ঠাধর বেয়ে ধীরে প্রবাহিত হবে।
[10] আমি কেবলমাত্র আমার প্রেমিকের এবং আমার প্রতি তিনি আসক্ত।
[11] ওগো মোর প্রেমিক, এসো, আমরা পল্লীগ্রামের দিকে যাই, চলো আমরা গ্রামদেশে গিয়ে নিশিযাপন করি।
[12] ভোরবেলা চলো আমরা দ্রাক্ষাক্ষেত্রে যাই, দেখি দ্রাক্ষালতায় কুঁড়ি এল কি না, তা মঞ্জরিত হল কি না, আর ডালিম গাছে ফুল ফুটল কি না—ওখানেই আমি তোমায় আমার প্রেম নিবেদন করব।
[13] চারপাশে এখন দূদাফলের সৌরভ, আর আমাদের দোরগোড়াতেই আছে নতুন ও পুরোনো বিভিন্ন উপাদেয় খাদ্যদ্রব্য, হে প্রিয়, যেগুলি আমি তোমার জন্য সংরক্ষণ করেছি।