[1] এর মধ্যে বোয়স নগরের ফটকের কাছে গেলেন এবং সেখানে বসলেন। সেই সময় যখন তাঁর মুক্তিকর্তা জ্ঞাতিকে রাস্তা দিয়ে যেতে দেখলেন, যার কথা তিনি রূতকে বলেছিলেন। তাই বোয়স তাকে ডেকে বললেন, “বন্ধু আমার কাছে এখানে এসে বসো।” তাই তিনি বোয়সের কাছে এসে বসলেন।
[2] বোয়স নগরের আরও দশজন প্রাচীনকে ডেকে বললেন, “এখানে আমার কাছে এসে বসুন।” তারাও তার কাছে এসে বসল।
[3] তখন বোয়স সেই মুক্তিকর্তা জ্ঞাতিকে বললেন, “নয়মী যে মোয়াব দেশ থেকে ফিরে এসেছে সে তার স্বামী ইলীমেলকের জমিটি বিক্রি করতে চায়।
[4] আমি ভেবেছি যে আমার উচিত এই বিষয়টি তোমার নজরে আনা এবং এখানে যারা বসে আছেন ও আমার স্বজাতীয় প্রাচীনের সামনে এই জমি মুক্ত করার জন্য প্রস্তাব রাখছি। যদি তুমি সেই জমি মুক্ত করতে চাও, মুক্ত করতে পারো। কিন্তু যদি না করতে চাও, আমাকে বলো, যেন আমি জানতে পারি। কারণ সেই জমিটি মুক্ত করার প্রথম অধিকার তোমার ছাড়া আর কারোর নেই এবং তারপর আমার অধিকার আছে।” সেই মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি বলল, “আমি এটি মুক্ত করব।”
[5] তারপর বোয়স বললেন, “যেদিন তুমি নয়মী ও রূতের কাছ থেকে সেই জমি কিনবে, সেদিন তাদের মরা লোকের সম্পত্তির সঙ্গে মরা ব্যক্তির নাম রক্ষার জন্য সেই ব্যক্তির বিধবা মোয়াবীয় মহিলা রূতকে নিজের স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করতে হবে।”
[6] তারপর সেই মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি বলল, “আমি মুক্ত করতে পারি না, কারণ পরে এমন হলে আমি আমার নিজের সম্পত্তিও হারাব। তুমিই নিজেই এই সম্পত্তি মুক্ত করো। আমি করতে পারব না।”
[7] (আগেকার দিনে ইস্রায়েল জাতির মধ্যে কোনও কিছু বিনিময়ের বিষয়ে এরকম প্রথা বা নিয়মের প্রচলন ছিল যে একজন সমর্থন ও অনুমোদন করার জন্য, সেই ব্যক্তি নিজের চটি খুলে বিনিময়কারীকে দিত। এই প্রথা ইস্রায়েলে বিনিময়ের ক্ষেত্রে বৈধতা পেত)
[8] তাই সেই মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি বোয়সকে বলল, “তুমিই কিনে নাও।” আর সেই ব্যক্তি নিজের চটি খুলে বিনিময়কারীকে দিল।
[9] তখন বোয়স, যারা সেখানে বসেছিল সেই লোকদের ও প্রাচীনদের উদ্দেশে ঘোষণা করে বললেন, “আজ আমি আপনাদের সকলকে সাক্ষী রেখে ইলীমেলক, কিলিয়োন এবং মহলোনের সমস্ত সম্পত্তি নয়মীর কাছ থেকে কিনে নিলাম।
[10] আর আমি মহলোনের স্ত্রী মোয়াবীয় রূতকে নিজের স্ত্রীরূপে সেই মৃত ব্যক্তির নাম রক্ষা করার জন্য গ্রহণ করলাম, যেন সেই ব্যক্তির নাম নগরের পারিবারিক নাম তালিকা থেকে বাদ না যায়। আজ আপনারা তার সাক্ষী হলেন!”
[11] নগরের ফটকের কাছে যত লোক ছিল এবং সকল প্রাচীনেরা বললেন, “আমরা এর সাক্ষী রইলাম। যে মহিলা তোমার ঘরে আসছেন তাকে সদাপ্রভু রাহেল ও লেয়ার মতো তৈরি করুন, যারা দুজনে ইস্রায়েল পরিবারকে তৈরি করেছিলেন। ইফ্রাথায় তুমি ধনবান হও এবং বেথলেহেমে তোমার নাম বিখ্যাত হোক।
[12] এই যুবতী মহিলার মধ্য দিয়ে সদাপ্রভু তোমাকে যে সন্তানদের দেন, তারা যেন যিহূদা ও তামরের পুত্র পেরসের মতো হয়।”
[13] তাই বোয়স রূতকে গ্রহণ করলেন এবং সে তাঁর স্ত্রী হল। এরপর বোয়স তার কাছে গেলে, সদাপ্রভু রূতকে গর্ভধারণ করার শক্তি দিলেন এবং সে একটি পুত্রের জন্ম দিল।
[14] সেই দেশের মহিলারা নয়মীকে বলল, “সদাপ্রভুর প্রশংসা হোক, কারণ তিনি তোমাকে মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি থেকে আলাদা করেননি। পুরো ইস্রায়েল জাতির মধ্যে সে বিখ্যাত হোক!
[15] এই পুত্র তোমার জীবন আবার নতুন করে দিক এবং বুড়ি বয়সে তোমার যত্ন করুক। কারণ তুমি যাকে সাতটি পুত্র থেকেও বেশি ভালোবাসো সে-ই একে জন্ম দিয়েছে।”
[16] এরপর নয়মী পুত্রটিকে বুকে জড়িয়ে ধরল এবং তার যত্ন নিল।
[17] সেখানে বসবাসকারী মহিলারা বলল, “নয়মীর একটি পুত্র জন্ম হয়েছে!” এই বলে তারা ওই পুত্রের নাম ওবেদ রাখল। ইনি যিশয়ের বাবা, যিনি দাউদের বাবা।
[18] আর এটি পেরসের পরিবারের সন্তানদের বংশতালিকা: পেরসের পুত্র হিষ্রোণ,
[19] হিষ্রোণের পুত্র রাম, রামের পুত্র অম্মীনাদব,
[20] অম্মীনাদবের পুত্র নহশোন, নহশোনের পুত্র সলমন,
[21] সল্মোনের পুত্র বোয়স, বোয়সের পুত্র ওবেদ,
[22] ওবেদের পুত্র যিশয়, এবং যিশয়ের পুত্র দাউদ।