[1] একদিন নয়মী রূতের শাশুড়ি তাকে বলল, “কন্যা আমার, আমি কি তোমার জন্য একটি ঘর দেখব না যেখানে তোমার জন্য যা কিছু প্রয়োজন সবকিছুই তুমি পেতে পারবে?
[2] বোয়স আমাদের পরিবারের লোক যার চাকরানিদের সঙ্গে তুমি সারাদিন ছিলে। আজ রাতে সে খামারে যব ঝাড়াই করবেন।
[3] তাই তেল মেখে চান করো ও গায়ে আতর লাগাও এবং তোমার সব থেকে সুন্দর কাপড়টি পরে নাও। তারপর শস্য ঝাড়াই খামারে নেমে যাও, কিন্তু সাবধান বোয়স যেন জানতে না পারে যে তুমি সেখানে আছো, যতক্ষণ পযন্ত সে খাবার খেয়ে জলপান না করে।
[4] যখন তিনি শুতে যাবেন, ভাল করে দেখবে তিনি কোথায় শুয়েছেন। ভিতরে গিয়ে তাঁর পায়ের চাদর সরিয়ে, তুমি তাঁর পায়ের তলায় শোবে। তখন তিনি তোমাকে কি করতে হবে বলে দেবেন।”
[5] রূত তার শাশুড়ীকে উত্তর দিল, “আপনি আমাকে যা কিছু বললেন আমি তাই করব।”
[6] তাই রূত শস্য ঝাড়াই করার খামারে নেমে গেল এবং তার শাশুড়ির কথামতো সবকিছু করল।
[7] যখন বোয়স খাওয়াদাওয়া শেষ করে ঝাড়াই করার এক পাশে কোনাতে শুতে গেল, তাঁর মন খুব খুশি ছিল। তখন রূত চুপিচুপি খামারের ভিতরে এল। তারপর বোয়সের পায়ের চাদর সরিয়ে, তাঁর পায়ের তলায় শুয়ে পড়ল।
[8] গভীর রাতে যখন বোয়স পাশ ফিরলো সে ভয়ে চমকে উঠলো, সে দেখল যে একজন মহিলা তার পায়ের তলায় শুয়ে আছে।
[9] বোয়স তাকে জিজ্ঞাসা করল, “কে তুমি?” সে উত্তর দিল, “আমি আপনার চাকরানি রূত, আপনার চাকরানির উপর আপনার চাদর ঢেকে দিন। কারণ আপনি আমাদের পরিবারের একজন মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি।”
[10] এরপর বোয়স বললেন, “কন্যা আমার, সদাপ্রভু তোমাকে আশীর্বাদ করুন। ধনী বা দরিদ্র কোনও যুবকের পেছনে না গিয়ে তুমি প্রথমে যে দয়া দেখিয়েছিলে তার থেকে এই দয়া মহৎ।
[11] এখন কন্যা আমার, ভয় করো না। তুমি যা বলবে আমি তোমার জন্য তাই করব। কারণ এই দেশের সব লোক জানে যে তুমি একজন উন্নতচরিত্র ভাল মহিলা।
[12] একথা সত্যি যে আমি তোমার মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি কিন্তু আমার থেকেও একজন আরও খুব কাছের মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি এই নগরে আছেন।
[13] এই রাতে এখানে থাকো। সকালে আমি তাঁকে বলবো, যদি তিনি তোমাকে তাঁর নিজের করে গ্রহণ করেন তবে ভালো, কিন্তু তিনি যদি গ্রহণ না করেন তবে জীবিত সদাপ্রভুর নামে আমি তোমাকে আমার নিজের করে গ্রহণ করব! তাই সকাল পযন্ত এখানে শুয়ে থাকো।”
[14] তাই রূত সকাল পর্যন্ত বোয়সের পায়ের তলায় শুয়ে থাকল, কিন্তু যে সময় লোকে একে অপরকে চিনতে পারে এরকম সময়ে খুব অন্ধকার থাকতে সে উঠল; কারণ বোয়স তাকে বলেছিলেন, “দেখো কেউ যেন না জানতে পারে যে একজন মহিলা শস্য ঝাড়ার খামারে এসেছিল।”
[15] তিনি আরও বললেন, “তোমার যে শাল গায়ে দিয়ে আছো সেটি আমার কাছে এনে মেলে ধরো।” সে তাই করল, বোয়স তাকে ছয় মান যব দিল। এরপর সে নগরে চলে গেল।
[16] যখন রূত তার শাশুড়ির কাছে ফিরে এল, নয়মী তাকে জিজ্ঞাসা করল, “কন্যা আমার, তোমার কি হল?” তখন রূত তার প্রতি যা কিছু ঘটেছিল, সব তার শাশুড়ীকে বলল।
[17] রূত আরও বলল, “তিনি এই ছয় মান যব আমাকে দিয়ে বললেন, ‘তোমার শাশুড়ির কাছে খালি হাতে যেয়ো না।’ ”
[18] এরপর নয়মী তাকে বলল, “কন্যা আমার, এবার তুমি অপেক্ষা করো আর দেখো কি হয়। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত না আজকে কিছু স্থির হয়, তিনি আরাম করবেন না।”