[1] এখন নয়মীর স্বামী ইলীমেলকের পরিবারের একজন সম্ভ্রান্ত লোক ছিল, যার নাম ছিল বোয়স।
[2] আর মোয়াবীয় রূত তার শাশুড়ীকে বলল, “দয়া করে আমাকে যে কোনো জমিতে শিষ কুড়াতে অনুমতি দিন। যাতে জমিতে পড়ে থাকা শিষ কুড়ানোর জন্য আমি যার পেছনে যাই তার কাছেই যেন দয়া পাই।” নয়মী তাকে বলল, “কন্যা আমার, যাও।”
[3] তাই রূত বাইরে গেল, যেখানে মজুরেরা যব কেটে জমা করছিল, এবং তাদের পেছনে পেছনে গিয়ে জমিতে পড়ে থাকা যবের শিষ কুড়াতে লাগল। সেদিন এরকম ঘটনা ঘটল, সে জানতে পারল, যে জমির অংশটিতে কুড়াচ্ছে, সেই জমিটি বোয়সের ছিল, যে নয়মীর স্বামী ইলীমেলকের পরিবারের একজন।
[4] ঠিক সেই সময়ে বোয়স বেথলেহেম থেকে আসলেন। মজুরেরা যারা শস্য কেটে জমা করছিল, তিনি তাদের উদ্দেশে বললেন, “সদাপ্রভু তোমাদের সঙ্গে থাকুন!” আর তারাও উত্তরে বলল, “সদাপ্রভু আপনাকে আশীর্বাদ করুন!”
[5] তখন বোয়স মজুরদের উপরে নিযুক্ত প্রধানকে বললেন, “কে এই যুবতী মহিলা?”
[6] মজুরদের উপরে নিযুক্ত প্রধান বলল, “এই যুবতী মোয়াবীয় মহিলা যে নয়মীর সঙ্গে মোয়াব দেশ থেকে এসেছে।”
[7] সে বলেছিল, “দয়া করে আমাকে মজুরদের পেছনে পেছনে গিয়ে জমিতে পড়ে থাকা যবের শিষ কুড়াতে দিন। সে জমির ভেতরে গেছে এবং ঘরে খুব কম সময় আরাম করা ছাড়া, সকাল থেকে এখন পযন্ত অনবরত কাজ করেছে।”
[8] তাই বোয়স রূতকে বললেন, “কন্যা আমার, খুব মন দিয়ে আমার কথা শোনো, এই জমি ছেড়ে আর অন্য কারোও জমিতে শিষ কুড়াতে যেয়ো না। এখানে আমার মহিলা চাকরানিদের সঙ্গে থাকো।
[9] তারা যে জমিতে শস্য জমা করে, সেই জমির উপর তোমার চোখ রেখে, তাদের পেছনে পেছনে শিষ কুড়াও। আমি আমার চাকরদের বলে দিয়েছি, যেন তারা তোমার গায়ে হাত না দেয়। আর যখন তোমার জল তেষ্টা পাবে তখন আমার চাকরেরা যে জল ভরে রেখেছে সেই জলের পাত্রের কাছে গিয়ে জল খাবে।”
[10] বোয়সের সব কথা শোনার পর রূত মাটিতে উবুড় হয়ে প্রণাম করল। সে জিজ্ঞাসা করল, “কেন আমি আপনার চোখে এতো দয়া পেয়েছি? কেনই বা আপনি আমার এতো যত্ন নিচ্ছেন? আমি তো অন্য দেশের লোক, আপনার কাছে বিদেশিনী।”
[11] বোয়স উত্তরে বললেন, “তোমার স্বামীর মৃত্যুর পরে তুমি তোমার শাশুড়ির জন্য যা কিছু করেছ, এবং কীভাবে তুমি তোমার জন্মভূমি, তোমার বাবা ও মাকে ছেড়ে, যে লোকেদের তুমি আগে জানতে না, তাদের সঙ্গে বসবাস করতে এসেছ, সে বিষয়ে তোমার সব কথা আমি লোকের মুখে শুনেছি।
[12] সদাপ্রভু তোমার কাজের পুরস্কার দিন। সদাপ্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বর তোমাকে তোমার কাজের পুরো দাম দিন যাঁর কাছে আশ্রয় নিয়ে সুরক্ষা পেতে এখানে এসেছ।”
[13] তখন রূত বোয়সকে বলল, “আমার প্রভু, এখন আমি যেমন আপনার কাছে দয়া পেয়েছি, তেমনি দয়া যেন এর পরেও পেতে পারি। আপনি আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং আপনার এই চাকরানির সঙ্গে দয়ালু ভাব দেখিয়েছেন—যদিও আমি আপনার যত চাকরানি আছে তাদের একজনেরও যোগ্য নই।”
[14] দুপুরবেলায় খাবার সময় বোয়স রূতকে ডেকে বললেন, “এখানে উঠে এসো, কিছু রুটি নিয়ে সিরকায় ডুবিয়ে নাও।” যখন সে শস্য ছেদকদের কাছে গিয়ে বসল, তখন বোয়স তাকে কিছু ভাজা শস্য দিলেন। মনের ইচ্ছামতো পেট ভর্তি করে সে খেল এবং কিছু রেখে দিল।
[15] যখন সে আবার শস্য কুড়াতে উঠলো, তখন বোয়স তার চাকরদের আদেশ দিয়ে বললেন, “বরং একে তোমাদের আঁটির মধ্যে থেকে কুড়াতে দিয়ো, তার বিরুদ্ধে কিছু কথা বলবে না।
[16] বরং আঁটির মধ্যে থেকে কিছু শিষ বের করে তার জন্য ফেলে দিয়ো যাতে সে কুড়াতে পারে এবং তাকে বকাবকি করবে না।”
[17] তাই রূত সন্ধ্যা পর্যন্ত বোয়সের জমিতে শিষ কুড়ালো। পরে সে কুড়ানো যব ঝাড়াই করলে তার পরিমাণ প্রায় এক ঐফা হল।
[18] এরপর সে সেগুলি নিয়ে নগরে গেল আর তার শাশুড়ি দেখল যে সে কত কুড়িয়েছে। রূত যথেষ্ট খাওয়ার পর বেঁচে যাওয়া খাবার বের করে তার শাশুড়ীকে দিল।
[19] তার শাশুড়ি তাকে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি আজ কোথায় শিষ কুড়াতে গিয়েছিলে? আজ তুমি কোথায় কাজ করলে? যিনি তোমার উপর দয়া দেখিয়েছেন তাঁর মঙ্গল হোক!” তাই সে তার শাশুড়ীকে বলল, “আমি আজ যার জমিতে কাজ করেছি সেই ব্যক্তির নাম বোয়স।”
[20] তখন নয়মী রূতকে বলল, “ধন্য সদাপ্রভু যিনি তাঁর দয়া জীবিত ও মৃতদের উপর দেখিয়েছেন।” নয়মী রূতকে আরও বলল, “সে আমাদের পরিবারের এক নিকট আত্মীয় এবং আমাদের একজন মুক্তিকর্তা জ্ঞাতি।”
[21] তারপর মোয়াবীয় রূত বলল, “তিনি আমাকে আরও বললেন, তুমি আমার চাকরদের সঙ্গে থেকো যতক্ষণ পর্যন্ত তারা শস্য জমা করার কাজ শেষ না করে।”
[22] নয়মী তার বৌমা রূতকে বলল, “কন্যা, আমার এটি খুবই ভাল যে তুমি তাঁর মহিলা চাকরদের সঙ্গে ছিলে কারণ অন্যের জমি হলে তোমার ক্ষতি হত।”
[23] তাই রূত বোয়সের মহিলা চাকরদের সঙ্গে যব ও গম কুড়ানো শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছিল। এইভাবে সে তার শাশুড়ির সঙ্গে থাকতে লাগল।