[1] অতএব, বত্স আমার, খ্রীষ্ট যীশুতে স্থিত অনুগ্রহে তুমি শক্তিশালী হও।
[2] আর বহু সাক্ষীর উপস্থিতিতে তুমি আমাকে যেসব বিষয় বলতে শুনেছ, সেগুলি এমন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের হাতে অর্পণ করো, যারা আরও অন্যদের কাছে সেগুলি শিক্ষা দিতে সমর্থ হবে।
[3] তুমি খ্রীষ্ট যীশুর একজন উত্তম সৈনিকের মতো আমাদের সঙ্গে কষ্টভোগ সহ্য করো।
[4] যে সৈনিকবৃত্তি নিয়েছে, সে সাংসারিক বিষয়ে নিজেকে জড়িত করে না, কিন্তু সে তার সেনানায়ককেই সন্তুষ্ট করতে চায়।
[5] সেরকমই, ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী নিয়ম মেনে না চললে, বিজয়ীর মুকুট লাভ করতে পারে না।
[6] যে কৃষক কঠোর পরিশ্রম করে, ফসলে তারই প্রথম অধিকার হয়।
[7] আমি যা বলছি তা গভীরভাবে বিবেচনা করো। প্রভু তোমাকে এসব বিষয়ে অন্তর্দৃষ্টি দান করবেন।
[8] যীশু খ্রীষ্টকে স্মরণ করো, যিনি মৃতলোক থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন এবং যিনি দাউদের বংশজাত। এই হল আমার সুসমাচার।
[9] এরই জন্য, আমি অপরাধীর মতো শৃঙ্খলবদ্ধ হয়ে দুঃখ-যন্ত্রণা ভোগ করছি, কিন্তু ঈশ্বরের বাণী শিকলে আবদ্ধ হয়নি।
[10] অতএব, মনোনীতদের জন্য আমি সবকিছুই সহ্য করি, যেন তারাও শাশ্বত মহিমার সঙ্গে সেই মুক্তি অর্জন করতে পারে, যার আধার খ্রীষ্ট যীশু।
[11] একটি বিশ্বাসযোগ্য উক্তি হল: আমরা যদি তাঁর সঙ্গে মৃত্যুবরণ করে থাকি, তাহলে তাঁর সঙ্গে জীবিতও থাকব;
[12] যদি সহ্য করি, তাহলে তাঁর সঙ্গে রাজত্বও করব। যদি তাঁকে অস্বীকার করি, তিনিও আমাদের অস্বীকার করবেন।
[13] আমরা যদি বিশ্বাসবিহীন হই, তিনি থাকবেন চির বিশ্বস্ত, কারণ তিনি নিজেকে অস্বীকার করতে পারেন না।
[14] এ সমস্ত বিষয় তুমি তাদের সবসময় স্মরণ করিয়ে দাও। ঈশ্বরের সাক্ষাতে তাদের সতর্ক করে দাও, তারা যেন তর্কবিতর্ক না করে। এর কোনও মূল্য নেই, তা শুধু শ্রোতাদের ধ্বংসসাধন করে।
[15] তুমি সর্বোত্তম প্রচেষ্টার দ্বারা ঈশ্বরের কাছে নিজেকে অনুমোদিতরূপে উপস্থাপনা করো; এমন কার্যকারী হও, যার লজ্জিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, যে সত্যের বাক্য যথাযথরূপে বিভাজন করতে জানে।
[16] কিন্তু, ঈশ্বরবিরোধী বাক্যালাপ এড়িয়ে চলো, কারণ যারা এগুলিতে জড়িয়ে পড়ে, তারা উত্তরোত্তর ভক্তিহীন হয়।
[17] তাদের শিক্ষা দূষিত ক্ষতের মতো ছড়িয়ে পড়বে। হুমিনায় ও ফিলিত তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।
[18] তারা সত্যভ্রষ্ট হয়েছে। তারা এই কথা বলে কিছু লোকের বিশ্বাস নষ্ট করছে যে, পুনরুত্থান ইতিমধ্যে হয়ে গেছে।
[19] তবুও, ঈশ্বরের স্থাপিত বনিয়াদ দৃঢ় ও অটল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তার উপর মোহরাঙ্কিত আছে এই বাক্য: “প্রভু জানেন কে কে তাঁর” এবং “প্রভুর নাম যে কেউ স্বীকার করে, দুষ্কর্ম থেকে সে দূরে থাকুক।”
[20] কোনো বড় ঘরে শুধু সোনারুপোর বাসনই নয়, কিন্তু কাঠ ও মাটিরও পাত্র থাকে; কতগুলি ব্যবহত হয় বিশেষ কাজে, আবার কতগুলি সাধারণ কাজে।
[21] কোনো মানুষ যদি নিজেকে ইতরতা থেকে মুক্ত রাখতে পারে, সে হবে মহৎ কাজে ব্যবহারের উপযুক্ত, পবিত্রীকৃত, মনিবের কাজের উপযোগী এবং যে কোনো সৎ কর্মে প্রবৃত্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত।
[22] তুমি যৌবনের সব কু-অভিলাষ থেকে পলায়ন করো এবং যারা শুদ্ধচিত্তে প্রভুকে ডাকে, তাদের সঙ্গে ধার্মিকতা, বিশ্বাস, প্রেম ও শান্তিলাভের অনুধাবন করো।
[23] বিচারবুদ্ধিহীন ও নির্বুদ্ধিতার তর্কবিতর্কে রত হয়ো না, কারণ তুমি জানো, এসব থেকে বিবাদের সূত্রপাত হয়।
[24] আর প্রভুর সেবক কখনোই কলহে লিপ্ত হবে না; বরং সে সবার প্রতি হবে সদয়, শিক্ষাদানে নিপুণ এবং সহনশীল।
[25] সে তার বিরুদ্ধবাদীদের এই প্রত্যাশায় বিনম্রভাবে সুপরামর্শ দেবে, যেন ঈশ্বর সত্যের জ্ঞানের দিকে তাদের মন পরিবর্তন করেন এবং
[26] তারা যেন চেতনা ফিরে পেয়ে দিয়াবলের ফাঁদ থেকে নিষ্কৃতি লাভ করে, যে তার ইচ্ছা পালনের জন্য তাদের বন্দি করে রেখেছে।