[1] প্রিয় বন্ধুরা, তোমাদের কাছে এ আমার দ্বিতীয় পত্র। তোমাদের সুফলপ্রসূ ভাবনাচিন্তাকে উদ্দীপিত করার জন্য এই উভয় পত্রেই আমি তোমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছি।
[2] অতীতে পবিত্র ভাববাদীরা যেসব কথা বলে গিয়েছেন এবং তোমাদের প্রেরিতশিষ্যবর্গের মাধ্যমে প্রদত্ত আমাদের প্রভু ও উদ্ধারকর্তা যে আদেশ দিয়েছেন, আমি চাই তোমরা যেন সেগুলি স্মরণ করো।
[3] সর্বপ্রথমে, তোমরা অবশ্যই বুঝে নিয়ো যে, শেষের দিনগুলিতে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপকারীদের আবির্ভাব ঘটবে; তারা ব্যঙ্গবিদ্রুপ করবে ও নিজের নিজের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করবে।
[4] তারা বলবে, “তাঁর পুনরাগমনের প্রতিশ্রুতির কী হল? আমাদের পিতৃপুরুষদের যখন থেকে মৃত্যু হয়েছে, সৃষ্টির রচনাকাল থেকে সবকিছু যেমন চলছিল, তেমনই চলছে।”
[5] কিন্তু তারা ইচ্ছে করেই ভুলে যায় যে, বহুপূর্বে ঈশ্বরের বাক্য দ্বারাই আকাশমণ্ডল অস্তিত্বলাভ করেছিল এবং পৃথিবী জলের মধ্য থেকে ও জলের দ্বারা গঠিত হয়েছিল।
[6] এই জলরাশির দ্বারাই সেই সময়ের পৃথিবী প্লাবিত হয়ে ধ্বংস হয়েছিল।
[7] সেই একই বাক্যের দ্বারা বর্তমান আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী আগুনের জন্য সংরক্ষিত হয়ে আছে, বিচারদিনের জন্য ও ভক্তিহীন মানুষদের ধ্বংসের জন্য রক্ষিত আছে।
[8] প্রিয় বন্ধুরা, এই একটি কথা কিন্তু ভুলে যেয়ো না: প্রভুর কাছে একদিন হাজার বছরের সমান ও হাজার বছর একদিনের সমান।
[9] প্রভু তাঁর প্রতিশ্রুতি পালনে দেরি করেন না যেমন কেউ কেউ তা মনে করে। তিনি তোমাদের প্রতি দীর্ঘসহিষ্ণু, তিনি চান না, কেউ যেন বিনষ্ট হয়, কিন্তু চান, প্রত্যেকেই যেন মন পরিবর্তন করে।
[10] কিন্তু প্রভুর সেদিন আসবে চোরের মতো। আকাশমণ্ডল গুরুগম্ভীর গর্জনে অদৃশ্য হয়ে যাবে; এর মৌলিক পদার্থগুলি আগুনের দ্বারা ধ্বংস হবে এবং পৃথিবী ও তার অভ্যন্তরস্থ সবকিছুই অগ্নিদগ্ধ হয়ে বিলীন হবে।
[11] সবকিছুই যখন এভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন তোমাদের কোন প্রকৃতির মানুষ হওয়া উচিত? তোমাদের অবশ্যই পবিত্র ও ভক্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে হবে,
[12] যখন তোমরা ঈশ্বরের সেদিনের আগমনের জন্য প্রতীক্ষা করছ ও চাইছ, তা যেন দ্রুত আসে। সেদিনে আকাশমণ্ডল বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং মৌলিক পদার্থগুলি উত্তাপে দ্রবীভূত হবে।
[13] কিন্তু তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা এক নতুন আকাশ ও এক নতুন পৃথিবীর প্রতীক্ষায় আছি, তা হবে ধার্মিকতার আবাস।
[14] তাহলে, প্রিয় বন্ধুরা, তোমরা যেহেতু এরই প্রতীক্ষা করে আছো, তখন সব ধরনের প্রয়াস করো, যেন তোমাদের নিষ্কলঙ্ক ও নির্দোষ অবস্থায়, শান্তিতে তাঁর কাছে দেখতে পাওয়া যায়।
[15] মনে রাখবে, আমাদের প্রভুর দীর্ঘসহিষ্ণুতার অর্থ পরিত্রাণ, যেমন আমাদের প্রিয় ভাই পৌলও, তাঁকে ঈশ্বর যে প্রজ্ঞা দান করেছিলেন, সেই অনুসারে তোমাদের একথা লিখেছেন।
[16] তিনি তাঁর সব পত্রেই এভাবে লিখে থাকেন, সেগুলির মধ্যে এসব বিষয়ের উল্লেখ থাকে। তাঁর পত্রগুলির মধ্যে এমন কতগুলি বিষয় থাকে, যেগুলি বুঝে উঠা কষ্টকর। অজ্ঞ ও অস্থিরমতি লোকেরা শাস্ত্রের অন্যান্য বাণীর মতো এগুলিও বিকৃত করে ও নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনে।
[17] তাই প্রিয় বন্ধুরা, যেহেতু তোমরা এ বিষয় আগে থেকেই জানো, সতর্ক থেকো, যেন তোমরা স্বেচ্ছাচারী মানুষদের ভ্রান্তির দ্বারা ভেসে না যাও ও তোমাদের নিরাপদ অবস্থান থেকে পতিত না হও।
[18] কিন্তু তোমরা আমাদের প্রভু ও পরিত্রাতা যীশু খ্রীষ্টের অনুগ্রহ ও জ্ঞানে বৃদ্ধি পেতে থাকো। এখন ও চিরকাল তাঁরই মহিমা হোক। আমেন।