[1] কিন্তু, সেই ইস্রায়েলী প্রজাবৃন্দের মধ্যে ভণ্ড ভাববাদীরাও ছিল, যেমন তোমাদের মধ্যেও ভণ্ড শিক্ষকদের দেখা যাবে। তারা গোপনে ধ্বংসাত্মক মতবাদ প্রচার করবে, এমনকি, যিনি তাদের ক্রয় করেছেন, সেই সার্বভৌম প্রভুকেই অস্বীকার করবে—তারা দ্রুত নিজেদের বিনাশ ডেকে আনবে।
[2] বহু মানুষই তাদের লজ্জাজনক জীবনাচরণের অনুসারী হবে ও তারা সত্যের জীবনাচরণকে নিন্দিত করবে।
[3] এসব শিক্ষক লোভের বশবর্তী হয়ে তাদেরই রচিত কল্পকাহিনীর দ্বারা তোমাদের শোষণ করবে। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের উপরে দণ্ডাদেশ নির্ধারিত রয়েছে এবং তাদের বিনাশের আর বিলম্ব নেই।
[4] কারণ স্বর্গদূতেরা পাপ করলে, ঈশ্বর তাদের নিষ্কৃতি না দিয়ে নরকে প্রেরণ করলেন, বিচারের জন্য অন্ধকারাচ্ছন্ন কারাকূপে শৃঙ্খলবন্দি করে রেখে দিলেন।
[5] তিনি পুরাকালের পৃথিবীকে নিষ্কৃতি না দিয়ে ভক্তিহীন লোকদের উপরে প্লাবন এনেছিলেন, কিন্তু ধার্মিকতার প্রচারক নোহ ও অপর আরও সাতজনকে রক্ষা করেছিলেন;
[6] তিনি সদোম ও ঘমোরা নগর দুটিকে দোষী সাব্যস্ত করে ভস্মীভূত করেছিলেন, যেন ভাবীকালে ভক্তিহীন লোকদের প্রতি কী ঘটবে, তার দৃষ্টান্তস্বরূপ করেন।
[7] কিন্তু তাদের মধ্যে থেকেও লোটকে, এক ধার্মিক মানুষকে, যিনি উচ্ছৃঙ্খল মানুষদের স্বেচ্ছাচারে মর্মযন্ত্রণা ভোগ করতেন, তাঁকে তিনি উদ্ধার করেছিলেন।
[8] (কারণ সেই ধার্মিক মানুষ, দিনের পর দিন, তাদের মধ্যে বসবাস করে, তাদের অনাচার দেখে ও শুনে, তাঁর ধর্মময় প্রাণে যন্ত্রণাবিদ্ধ হতেন)
[9] যদি তাই হয়, তাহলে প্রভু জানেন, কীভাবে ধার্মিক মানুষদের বিভিন্ন পরীক্ষা থেকে উদ্ধার করতে হয় এবং অধার্মিকদের কীভাবে বিচারদিনের জন্য রাখতে হয়, যদিও সে-পর্যন্ত তাদের দণ্ডদান অব্যাহত রাখেন।
[10] একথা বিশেষরূপে তাদের ক্ষেত্রে সত্য, যারা পাপময় প্রবৃত্তির কলুষিত কামনা-বাসনার অনুসারী হয় ও কর্তৃত্বকে অবজ্ঞা করে। এসব মানুষ দুঃসাহসী ও উদ্ধত, এরা দিব্যজনেদের নিন্দা করতে ভয় পায় না;
[11] তবুও স্বর্গদূতেরা, যদিও তাঁরা বেশি শক্তিশালী ও বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন, তাঁরা কিন্তু এদের বিরুদ্ধে প্রভুর সাক্ষাতে কুত্সাপূর্ণ অভিযোগ উত্থাপন করেন না।
[12] কিন্তু এই লোকেরা যে-বিষয় বোঝে না, সেই বিষয়েরই নিন্দা করে। তারা হিংস্র পশুর মতো, ইতর প্রবৃত্তির প্রাণী, তাদের জন্ম কেবলমাত্র ধৃত হয়ে ধ্বংস হওয়ার জন্যই হয়েছে। পশুর মতোই তারা বিনষ্ট হবে।
[13] তারা যে অনিষ্ট করেছে, তার প্রতিফলে তারা অনিষ্টই ভোগ করবে। তাদের কাছে সুখভোগের অর্থ, প্রকাশ্যে দিনের আলোয় ভোজন-পানে মত্ত হওয়া। তোমাদের সঙ্গে ভোজসভায় যোগ দেওয়ার সময় তারা উচ্ছৃঙ্খল ভোগবাসনায় কলঙ্কিত ও নিন্দিত হয়।
[14] তাদের চোখ ব্যভিচারে পূর্ণ, তারা পাপ করতে কখনও ক্ষান্ত হয় না; তারা অস্থিরমতিদের ব্যভিচারে প্রলুব্ধ করে; তারা অর্থলালসায় অভ্যস্ত, তারা অভিশপ্ত বংশ।
[15] তারা সহজসরল পথ ত্যাগ করে, বিয়োরের পুত্র বিলিয়মের পথ অবলম্বন করেছে, যে দুষ্টতার পারিশ্রমিক ভালোবাসত।
[16] কিন্তু সে তার দুষ্কর্মের জন্য বাকশক্তিহীন এক পশু, এক গর্দভীর দ্বারা তিরস্কৃত হল; সেই গর্দভী মানুষের ভাষায় কথা বলে সেই ভাববাদীর ক্ষিপ্ততা সংযত করেছিল।
[17] এই লোকেরা নির্জলা ঝরনা ও ঝঞ্ঝাতাড়িত কুয়াশার মতো। তাদের জন্য নিবিড়তম অন্ধকার সংরক্ষিত আছে।
[18] কারণ তারা অসার ও দম্ভপূর্ণ উক্তি করে এবং পাপময় মানবিক প্রকৃতির কামনাপূর্ণ বাসনার কথা বলে। তারা সেইসব মানুষদের প্রলুব্ধ করে, যারা ভ্রান্তিতে জীবনযাপন করার হাত থেকে সবেমাত্র উদ্ধার পেয়েছে।
[19] এই ভণ্ড শিক্ষকেরা তাদের কাছে স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দেয়, অথচ তারা নিজেরাই অনৈতিকতার ক্রীতদাস, কারণ মানুষের উপরে যে প্রভুত্ব করে, মানুষ তারই দাস।
[20] আমাদের প্রভু ও পরিত্রাতা যীশু খ্রীষ্টকে জানার পর তারা যদি জগতের কলুষতা থেকে মুক্ত হয়ে আবার তারই মধ্যে জড়িয়ে পড়ে ও পরাভূত হয়, তাহলে তাদের প্রথম অবস্থার চেয়ে শেষের অবস্থা হবে আরও শোচনীয়।
[21] তাদের পক্ষে ধার্মিকতার পথ জেনে ও তাদের কাছে যে পবিত্র অনুশাসন দেওয়া হয়েছিল, তার প্রতি পৃষ্ঠ-প্রদর্শন করার চেয়ে, সেই পথ না-জানাই তাদের পক্ষে ভালো ছিল।
[22] তাদের পক্ষে এই প্রবচনই সত্যি: “কুকুর ফেরে তার বমির দিকে,” আর “ধৌত শূকরী ফিরে কাদায় গড়াগড়ি দিতে।”