[1] আমি শিমোন পিতর, যীশু খ্রীষ্টের একজন প্রেরিত-শিষ্য ও দাস, যারা আমাদের ঈশ্বর ও পরিত্রাতা যীশু খ্রীষ্টের ধার্মিকতার মাধ্যমে আমাদের মতোই বহুমূল্য বিশ্বাস প্রাপ্ত হয়েছ, তাদের উদ্দেশে এই পত্র লিখছি।
[2] ঈশ্বর ও আমাদের প্রভু, যীশু-বিষয়ক জ্ঞানের মাধ্যমে তোমরা প্রচুররূপে অনুগ্রহ ও শান্তির অধিকারী হও।
[3] আমাদের জীবন ও ভক্তিপরায়ণতা সম্পর্কে যা কিছু প্রয়োজন, তাঁর সম্পর্কিত আমাদের জ্ঞানের মাধ্যমে তাঁর ঐশ্বরিক পরাক্রম আমাদের সবকিছুই দান করেছে। তিনিই তাঁর নিজস্ব মহিমা ও মঙ্গলময়তার গুণে আমাদের আহ্বান করেছেন।
[4] এসবের মাধ্যমে তিনি আমাদের তাঁর অত্যন্ত মহান ও বহুমূল্য সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তোমরা যেন সেগুলির মাধ্যমে ঐশ্বরিক স্বভাবের অংশীদার হও। সেই সঙ্গে মন্দ কামনা-বাসনার দ্বারা উদ্ভূত যে জগতের কলুষতা, তা থেকে তোমরা পলায়ন করতে পারো।
[5] বিশেষ এই কারণেই তোমরা সর্বতোভাবে চেষ্টা করে তোমাদের বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত করো সৎ আচরণ, সৎ আচরণের সঙ্গে জ্ঞান,
[6] জ্ঞানের সঙ্গে আত্মসংযম, আত্মসংযমের সঙ্গে নিষ্ঠা, নিষ্ঠার সঙ্গে ভক্তি
[7] ও ভক্তির সঙ্গে ভ্রাতৃস্নেহ এবং ভ্রাতৃস্নেহের সঙ্গে প্রেম।
[8] কারণ তোমরা যদি এই সমস্ত গুণের অধিকারী হয়ে সেগুলির বৃদ্ধি ঘটাও, তাহলে সেগুলিই তোমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের সম্বন্ধে জ্ঞানলাভের পথে তোমাদের নিষ্ক্রিয় বা নিষ্ফল হতে দেবে না।
[9] কিন্তু কারও মধ্যে যদি সেগুলি না থাকে, সে অদূরদর্শী ও অন্ধ, সে ভুলে গেছে যে, তার অতীতের পাপসমূহ থেকে সে পরিশুদ্ধ হয়েছে।
[10] সেই কারণে ভাইবোনেরা, তোমাদের আহ্বান ও মনোনয়ন সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়ার জন্য তোমরা সবাই আরও বেশি আগ্রহী হও। কারণ তোমরা এসব বিষয় সম্পন্ন করলে তোমাদের কখনও পতন হবে না।
[11] আর তোমরা আমাদের প্রভু ও পরিত্রাতা যীশু খ্রীষ্টের শাশ্বত রাজ্যে সাদর অভ্যর্থনা লাভ করবে।
[12] অতএব, আমি এই সমস্ত বিষয় প্রতিনিয়ত তোমাদের স্মরণ করিয়ে দেব, যদিও তোমরা সেগুলি জানো এবং এখন যে সত্য তোমরা জেনেছ, তাতেই দৃঢ়রূপে প্রতিষ্ঠিত আছো।
[13] এই দেহরূপ তাঁবুতে আমি যতদিন বসবাস করব, ততদিন তোমাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া বিহিত বলে আমি মনে করি।
[14] কারণ আমি জানি, খুব শীঘ্রই আমাকে তা ছেড়ে যেতে হবে, প্রভু যীশু খ্রীষ্ট আমাকে তা স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন।
[15] আমি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাব, যেন আমার প্রস্থানের পরেও তোমরা এসব বিষয় সবসময়ই মনে রাখতে পারো।
[16] তোমাদের কাছে আমরা যখন প্রভু যীশু খ্রীষ্টের পরাক্রম ও আগমনের কথা বলেছিলাম, তখন কোনো চাতুর্যপূর্ণ কল্পকাহিনীর আশ্রয় গ্রহণ করিনি, কিন্তু আমরা ছিলাম তাঁর রাজমহিমার প্রত্যক্ষদর্শী।
[17] কারণ তিনি পিতা ঈশ্বরের কাছ থেকে সম্মান ও গৌরবপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, যখন রাজসিক মহিমা থেকে এক বাণী তাঁর কাছে উপস্থিত হল, “ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, যাঁকে আমি ভালোবাসি, এঁর প্রতি আমি পরম প্রসন্ন।”
[18] আমরা যখন তাঁর সঙ্গে সেই পবিত্র পর্বতে ছিলাম, আমরা নিজেরাও স্বর্গ থেকে আগত সেই স্বর শুনেছি।
[19] আবার, আমাদের কাছে ভাববাদীদের বাণীও উপলব্ধ, যা আমাদের আরও সুনিশ্চিত করেছে এবং তোমরা এ বিষয়ে মনোনিবেশ করলে ভালোই করবে, কারণ তা এমন কোনও জ্যোতির সদৃশ, যা যতক্ষণ না দিনের সূচনা হয় ও তোমাদের হৃদয়াকাশে প্রভাতি তারার উদয় হয়, সেই পর্যন্ত অন্ধকারময় স্থানে দীপ্তি প্রদান করে।
[20] সর্বোপরি, তোমাদের অবশ্যই বুঝে নিতে হবে যে, শাস্ত্রের কোনও ভবিষ্যৎ বাণী ভাববাদীর নিজের ব্যাখ্যাপ্রসূত নয়।
[21] কারণ ভাববাণীর উদ্ভব কখনও মানুষের ইচ্ছার মধ্যে নিহিত ছিল না, মানুষেরা পবিত্র আত্মার দ্বারা চালিত হয়ে ঈশ্বর থেকে যা প্রাপ্ত হয়েছেন, তাই বলেছেন।