[1] সেই সময় হিষ্কিয় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং তা মৃত্যুজনক হয়ে গেল। আমোষের ছেলে ভাববাদী যিশাইয় তাঁর কাছে গিয়ে বললেন, “সদাপ্রভু একথাই বলেন: তুমি বাড়ির সব ব্যবস্থা ঠিকঠাক করে রাখো, কারণ তুমি মরতে চলেছ; তুমি আর সেরে উঠবে না।”
[2] হিষ্কিয় দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে সদাপ্রভুর কাছে এই প্রার্থনা করলেন,
[3] “হে সদাপ্রভু, মনে করে দেখো, আমি কীভাবে বিশ্বস্ততাপূর্বক ও আন্তরিক নিষ্ঠা নিয়ে তোমার সামনে চলেছি এবং তোমার দৃষ্টিতে যা যা ঠিক, তা-ই করে গিয়েছি।” এই বলে হিষ্কিয় আর্তকন্ঠে কেঁদে উঠেছিলেন।
[4] যিশাইয় মাঝখানের প্রাঙ্গণ ছেড়ে যাওয়ার আগেই সদাপ্রভুর এই বাক্য তাঁর কাছে উপস্থিত হল:
[5] “তুমি ফিরে গিয়ে আমার প্রজাদের শাসনকর্তা সেই হিষ্কিয়কে বলো, ‘আপনার পূর্বপুরুষ দাউদের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন: আমি তোমার প্রার্থনা শুনেছি ও তোমার চোখের জলও দেখেছি; আমি তোমাকে সুস্থ করব। আজ থেকে তৃতীয় দিনের মাথায় তুমি সদাপ্রভুর মন্দিরে যাবে।
[6] আমি তোমার জীবনকালে আরও পনেরো বছর যোগ করব। এছাড়াও আমি তোমাকে ও এই নগরটিকে আসিরিয়ার রাজার হাত থেকে উদ্ধার করব। আমার স্বার্থে ও আমার দাস দাউদের স্বার্থেই আমি এই নগরটি আগলে রাখব।’ ”
[7] পরে যিশাইয় বললেন, “ডুমুরফল দিয়ে একটি পুলটিস বানিয়ে নাও।” লোকেরা সেরকমই করল এবং সেই বিষফোড়ার উপর সেটি লাগিয়ে দিয়েছিল, ও তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন।
[8] হিষ্কিয় এর আগে যিশাইয়কে জিজ্ঞাসা করলেন, “সদাপ্রভু যে আমাকে সুস্থ করবেন ও আজ থেকে তৃতীয় দিনের মাথায় আমি যে সদাপ্রভুর মন্দিরে যাব, তার চিহ্ন কী হবে?”
[9] যিশাইয় উত্তর দিলেন, “সদাপ্রভু তাঁর প্রতিজ্ঞানুসারেই যে সবকিছু করবেন, তোমার কাছে সদাপ্রভুর এই চিহ্নই হবে তার প্রমাণ: সূর্য-ঘড়িতে ছায়াটি কি দশ ধাপ এগিয়ে যাবে, না দশ ধাপ পিছিয়ে যাবে?”
[10] “ছায়াটি দশ ধাপ এগিয়ে যাওয়া তো মামুলি এক ব্যাপার,” হিষ্কিয় বললেন। “বরং, সেটি দশ ধাপ পিছিয়েই যাক।”
[11] তখন ভাববাদী যিশাইয় সদাপ্রভুকে ডেকেছিলেন, এবং সদাপ্রভু আহসের সূর্য-ঘড়ি দিয়ে নেমে যাওয়া সেই ছায়াটিকে দশ ধাপ পিছিয়ে দিলেন।
[12] সেই সময় বলদনের ছেলে ব্যাবিলনের রাজা মরোদক-বলদন হিষ্কিয়ের কাছে চিঠিসহ কিছু উপহার পাঠালেন, কারণ তিনি হিষ্কিয়ের অসুস্থতার কথা শুনতে পেয়েছিলেন।
[13] হিষ্কিয় সেই প্রতিনিধিদলকে সাদরে গ্রহণ করে তাঁর ভাঁড়ারঘরের—রুপো, সোনাদানা, সুগন্ধি মশলাপাতি ও মিহি জলপাই তেল—এসব কিছু এবং তাঁর অস্ত্রসম্ভার ও তাঁর কোষাগারে যা কিছু ছিল, সব তাদের দেখিয়ে দিলেন। হিষ্কিয়ের প্রাসাদে বা তাঁর গোটা রাজ্যে এমন আর কিছু অবশিষ্ট ছিল না, যা তিনি তাদের দেখাননি।
[14] তখন ভাববাদী যিশাইয় রাজা হিষ্কিয়ের কাছে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “এই লোকগুলি কী বলেছে আর তারা কোথা থেকেই বা এসেছে?” “সে বহু দূরদেশ থেকে,” হিষ্কিয় উত্তর দিলেন, “এরা ব্যাবিলন থেকে এসেছে।”
[15] ভাববাদী জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনার রাজপ্রাসাদে তারা কী কী দেখেছে?” “তারা আমার প্রাসাদে সবকিছুই দেখেছে,” হিষ্কিয় বললেন। “আমার কোষাগারে এমন আর কিছু অবশিষ্ট নেই, যা আমি তাদের দেখাইনি।”
[16] তখন যিশাইয় হিষ্কিয়কে বললেন, “সদাপ্রভুর কথা শুনুন:
[17] নিঃসন্দেহে এমন এক সময় আসতে চলেছে, যখন আপনার প্রাসাদে যা কিছু আছে সেসবকিছু, এবং আজ পর্যন্ত আপনার পূর্বসূরিরা যা কিছু সঞ্চয় করেছেন, সেসবকিছু ব্যাবিলনে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে। সদাপ্রভু বলেন, কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
[18] আর তোমার কয়েকজন বংশধরকে, যারা তোমারই রক্তমাংস থেকে উৎপন্ন হবে ও তোমারই ঔরসে যাদের জন্ম হবে, তাদেরও নিয়ে যাওয়া হবে, এবং ব্যাবিলনের রাজপ্রাসাদে তাদের নপুংসক হয়ে থাকতে হবে।”
[19] “সদাপ্রভুর যে বাক্য আপনি বলেছেন, তা তো ভালোই,” হিষ্কিয় উত্তর দিলেন। কারণ তিনি ভেবেছিলেন, “আমার জীবনকালে কি শান্তি ও সুরক্ষা বজায় থাকবে না?”
[20] হিষ্কিয়ের রাজত্বকালের অন্যান্য সব ঘটনা, তাঁর সব কীর্তি এবং তিনি কীভাবে পুকুর ও সুরঙ্গ খুঁড়ে নগরে জল এনেছিলেন, তার বিবরণ কি যিহূদার রাজাদের ইতিহাস-গ্রন্থে লেখা নেই?
[21] হিষ্কিয় তাঁর পূর্বপুরুষদের সাথে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। তাঁর ছেলে মনঃশি রাজা রূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।