[1] রাজা হিষ্কিয় যখন একথা শুনেছিলেন, তখন তিনি তাঁর পোশাক ছিঁড়ে গায়ে চট জড়িয়েছিলেন এবং সদাপ্রভুর মন্দিরে গেলেন।
[2] তিনি রাজপ্রাসাদের প্রশাসক ইলিয়াকীম, সচিব শিব্ন ও প্রমুখ যাজকদের গায়ে চট পরিহিত অবস্থাতেই আমোষের ছেলে ভাববাদী যিশাইয়র কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
[3] তাঁরা গিয়ে তাঁকে বললেন, “হিষ্কিয় একথাই বলেন: আজকের এই দিনটি হল মর্মান্তিক যন্ত্রণা, তিরস্কার ও কলঙ্কময় একদিন, ঠিক যেমন সন্তান প্রসবের সময় এসে গিয়েছে, অথচ যেন সন্তান প্রসবের শক্তিই নেই।
[4] যেন এমনই হয় যে আপনার ঈশ্বর সদাপ্রভু সেই সমর-সেনাপতির সব কথা শুনে তাঁকে ধমক দেন, যাঁকে তাঁর মনিব, আসিরিয়ার রাজা জীবন্ত ঈশ্বরকে বিদ্রুপ করার জন্য পাঠিয়েছেন। তাই এখনও যারা বেঁচে আছে, সেই অবশিষ্ট লোকজনের জন্য প্রার্থনা করুন।”
[5] রাজা হিষ্কিয়ের কর্মকর্তারা যখন যিশাইয়র কাছে এলেন,
[6] যিশাইয় তাঁদের বললেন, “আপনাদের মনিবকে গিয়ে বলুন, ‘সদাপ্রভু এই কথা বলেন: তুমি যা শুনেছ—যেসব কথা বলে আসিরিয়ার রাজার তাঁবেদাররা আমার নিন্দা করেছে, তাতে তুমি ভয় পেয়ো না।
[7] শোনো! সে যখন বিশেষ একটি খবর শুনতে পাবে, তখন আমি তাকে তার নিজের দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করব, এবং সেখানেই আমি তাকে তরোয়াল দিয়ে মেরে ফেলব।’ ”
[8] সেই সমর-সেনাপতি যখন শুনেছিলেন যে আসিরিয়ার রাজা লাখীশ ছেড়ে এসেছেন, তখন তিনিও জেরুশালেম থেকে দূরে সরে গেলেন এবং রাজামশাইকে লিব্নার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে দেখেছিলেন।
[9] ইত্যবসরে সন্হেরীব খবর পেয়েছিলেন যে কূশ দেশের রাজা তির্হক তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে আসছেন। তাই তিনি আরেকবার এই খবর দিয়ে হিষ্কিয়ের কাছে কয়েকজন দূত পাঠালেন:
[10] “যিহূদার রাজা হিষ্কিয়কে গিয়ে বলো: যে দেবতার উপর আপনি নির্ভর করে আছেন, তিনি যেন এই কথা বলে আপনাকে না ঠকান যে, ‘আসিরিয়ার রাজার হাতে জেরুশালেমকে সমর্পণ করা হবে না।’
[11] আপনি তো নিশ্চয় শুনেছেন, আসিরিয়ার রাজারা সব দেশের প্রতি কী করেছেন, কীভাবে তাঁরা সম্পূর্ণরূপে সেগুলি ধ্বংস করে দিয়েছেন। তবে আপনি কি রক্ষা পাবেন?
[12] আমার পিতৃপুরুষেরা যেসব দেশ ধ্বংস করে দিলেন, সেসব দেশের—গোষণ, হারণ, রেৎসফ ও তেল-অৎসরের অধিবাসী এদনের লোকজনের—দেবতারা কি তাদের বাঁচাতে পেরেছিল?
[13] হমাতের রাজা বা অর্পদের রাজা কোথায় গেল? লায়ীর, সফর্বয়িম, হেনা ও ইব্বার রাজারাই বা কোথায় গেল?”
[14] হিষ্কিয় দূতদের হাত থেকে সেই চিঠিটি গ্রহণ করে সেটি পড়েছিলেন। পরে তিনি সদাপ্রভুর মন্দিরে উঠে গিয়ে সেই চিঠিটি সদাপ্রভুর সামনে মেলে ধরেছিলেন।
[15] হিষ্কিয় এই বলে সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন: “দুই করূবের মাঝে বিরাজমান হে ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু, একমাত্র তুমিই পৃথিবীর সব রাজ্যের ঈশ্বর। তুমিই আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছ।
[16] হে সদাপ্রভু, কর্ণপাত করো, ও শোনো; হে সদাপ্রভু, চোখ খোলো, ও দেখো; সন্হেরীব জীবন্ত ঈশ্বরকে বিদ্রুপ করার জন্য যে কথা বলে পাঠিয়েছেন, তা তুমি শোনো।
[17] “হে সদাপ্রভু, একথা সত্যি যে আসিরিয়ার রাজারা এইসব জাতিকে ও তাদের দেশগুলি পরিত্যক্ত করে ছেড়েছেন।
[18] তাঁরা তাদের দেবতাদের আগুনে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে সেগুলি নষ্ট করে দিয়েছেন, কারণ তারা যে আদৌ দেবতাই ছিল না, কিন্তু তারা ছিল মানুষের হাতে গড়া কাঠ ও পাথরের মূর্তিমাত্র।
[19] এখন, হে আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, তাঁর হাত থেকে আমাদের রক্ষা করো, যেন পৃথিবীর সব রাজ্য জানতে পারে যে, হে সদাপ্রভু, একমাত্র তুমিই ঈশ্বর।”
[20] পরে আমোষের ছেলে যিশাইয় হিষ্কিয়ের কাছে এই খবর দিয়ে পাঠালেন: “ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভু একথাই বলেন: আসিরিয়ার রাজা সন্হেরীবের বিষয়ে তোমার করা প্রার্থনাটি আমি শুনেছি।
[21] তাঁর বিরুদ্ধে সদাপ্রভু একথাই বলেছেন: “ ‘কুমারী-কন্যা সিয়োন তোমাকে অবজ্ঞা ও উপহাস করছে। জেরুশালেম-কন্যা তোমায় পালাতে দেখে মাথা নাড়াচ্ছে।
[22] তুমি কাকে বিদ্রুপ করেছ ও কার নিন্দা করেছ? কার বিরুদ্ধে তুমি গলার স্বর চড়িয়েছ এবং গর্বভরে চোখ তুলে চেয়েছ? ইস্রায়েলের সেই পবিত্রতমের বিরুদ্ধে!
[23] তোমার দূতদের মাধ্যমে তুমি সদাপ্রভুকে বিদ্রুপ করেছ। আর তুমি বলেছ, “আমার অনেক রথ দিয়ে আমি পর্বত-শিখরে চড়েছি, লেবাননের উচ্চশিখরে চড়েছি। আমি সেখানকার সবচেয়ে উঁচু দেবদারু গাছগুলি কেটে নামিয়েছি, বাছাই করা চিরহরিৎ গাছগুলিও নামিয়েছি। আমি সেখানকার প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছি, সেখানকার মনোরম অরণ্যে গিয়েছি।
[24] আমি বিদেশে কুয়ো খুঁড়েছি আর সেখানে জলপান করেছি। আমার পায়ের তলা দিয়ে আমি মিশরের সব খালবিল শুকিয়ে দিয়েছি।”
[25] “ ‘তোমরা কি শোননি? দীর্ঘকাল আগে আমি তা স্থির করলাম। প্রাচীনকালেই আমি তার পরিকল্পনা করলাম; এখন আমি তা কাজে পরিণত করেছি, এই যে তুমি সুরক্ষিত নগরগুলি পাথরের স্তূপে পরিণত করেছ।
[26] তাদের লোকজন, শক্তি নিঃশেষিত হয়ে, আশাহত ও লজ্জিত হয়েছে। তারা মাঠের চারাগাছের মতো হয়ে গিয়েছে, কোমল সবুজ মুকুলের মতো হয়ে গিয়েছে, ছাদের উপর গজানো ঘাসের মতো হয়ে গিয়েছে, যা বেড়ে ওঠার আগেই শুকিয়ে যায়।
[27] “ ‘কিন্তু আমি জানি তুমি কোথায় আছো আর কখন তুমি আসো ও যাও আর কীভাবে তুমি আমার বিরুদ্ধে ক্রোধ প্রকাশ করেছ।
[28] যেহেতু তুমি আমার বিরুদ্ধে ক্রোধ প্রকাশ করেছ আর যেহেতু তোমার ঔদ্ধত্য আমার কানে এসেছে, তাই আমি আমার বড়শি তোমার নাকে গেঁথে দেব আর তোমার মুখে আমি আমার বলগা পরাব, আর সেই পথে তোমাকে ফেরত পাঠাব যে পথ দিয়ে তুমি এসেছিলে।’
[29] “এই হবে তোমার জন্য চিহ্ন, হিষ্কিয়: “এ বছর তোমরা তা-ই খাবে, যা নিজে থেকে উৎপন্ন হবে, আর দ্বিতীয় বছরে সেটি থেকে উদ্ভূত খাদ্যশস্য খাবে। কিন্তু তৃতীয় বছরে তোমরা শস্য বুনবে ও কাটবে, দ্রাক্ষাক্ষেত তৈরি করে তার ফল খাবে।
[30] আরও একবার যিহূদা রাজ্যের অবশিষ্ট লোকেরা পায়ের নিচে মূল খুঁজে পাবে ও তাদের উপরে ফল ধরবে।
[31] কারণ জেরুশালেম থেকে আসবে এক অবশিষ্টাংশ, আর সিয়োন পাহাড় থেকে একদল রক্ষাপ্রাপ্ত লোক। “সর্বশক্তিমান সদাপ্রভুর উদ্দীপনাই এ কাজ সম্পন্ন করবে।
[32] “তাই আসিরিয়ার রাজার বিষয়ে সদাপ্রভু একথাই বলেন: “ ‘সে এই নগরে প্রবেশ করবে না বা এখানে একটিও তির ছুঁড়বে না সে ঢাল নিয়ে এর সামনে আসবে না বা এর বিরুদ্ধে অবরোধ গড়ে তুলবে না।
[33] যে পথ দিয়ে সে এসেছিল, সে পথেই সে ফিরে যাবে; সে এই নগরে প্রবেশ করবে না, সদাপ্রভু একথা ঘোষণা করেছেন।
[34] আমি এই নগরটি রক্ষা করব ও এটি বাঁচাব, আমার স্বার্থে ও আমার দাস দাউদের স্বার্থে।’ ”
[35] সেরাতেই সদাপ্রভুর দূত আসিরীয়দের সৈন্যশিবিরে গিয়ে এক লক্ষ পঁচাশি হাজার সৈন্য মেরে ফেলেছিলেন। পরদিন সকালে যখন লোকজন ঘুম থেকে উঠেছিল—দেখা গেল সর্বত্র শুধু মৃতদেহ ছড়িয়ে পড়ে আছে!
[36] তাই আসিরিয়ার রাজা সন্হেরীব সৈন্যশিবির ভেঙে দিয়ে সেখান থেকে সরে পড়েছিলেন। তিনি নীনবীতে ফিরে গিয়ে সেখানেই থেকে গেলেন।
[37] একদিন, যখন তিনি তাঁর দেবতা নিষ্রোকের মন্দিরে পুজো করছিলেন, তাঁর দুই ছেলে অদ্রম্মেলক ও শরেৎসর তরোয়াল দিয়ে তাঁকে হত্যা করল, এবং আরারট দেশে পালিয়ে গেল। তাঁর ছেলে এসর-হদ্দোন রাজা রূপে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।