Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 10:59

[1] এলার ছেলে ইস্রায়েলের রাজা হোশেয়ের রাজত্বকালের তৃতীয় বছরে যিহূদার রাজা আহসের ছেলে হিষ্কিয় রাজত্ব করতে শুরু করলেন।

[2] তিনি পঁচিশ বছর বয়সে রাজা হলেন, এবং জেরুশালেমে উনত্রিশ বছর রাজত্ব করলেন। তাঁর মায়ের নাম অবিয়। তিনি সখরিয়ের মেয়ে ছিলেন।

[3] হিষ্কিয় তাঁর পূর্বপুরুষ দাউদের মতোই সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা যা ঠিক, তা-ই করতেন।

[4] তিনি প্রতিমাপুজোর উঁচু উঁচু স্থানগুলি সরিয়ে দিলেন, পবিত্র পাথরগুলি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলেন এবং আশেরার খুঁটিগুলিও কেটে নামিয়ে দিলেন। মোশির তৈরি করা সেই ব্রোঞ্জের সাপটিকেও তিনি ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিলেন, কারণ সেই সময় পর্যন্ত ইস্রায়েলীরা সেটির কাছেই ধূপ জ্বালাতো। (সেটির নাম দেওয়া হল নহুষ্টন)

[5] হিষ্কিয় ইস্রায়েলের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উপর নির্ভর করলেন। যিহূদার রাজাদের মধ্যে কেউ তাঁর মতো হননি, না তাঁর আগে, না তাঁর পরে।

[6] তিনি সদাপ্রভুকে আঁকড়ে ধরেছিলেন এবং তাঁর পথে চলা বন্ধ করেননি; সদাপ্রভু মোশিকে যেসব আদেশ দিলেন, তিনি সেগুলি পালন করে গেলেন।

[7] সদাপ্রভু তাঁর সাথে ছিলেন; তাঁর সব কাজে তিনি সফল হলেন। তিনি আসিরিয়ার রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন এবং তাঁর সেবা করেননি।

[8] গাজা ও সেখানকার সব এলাকা জুড়ে নজরমিনার থেকে শুরু করে সুরক্ষিত নগর পর্যন্ত, সর্বত্র তিনি ফিলিস্তিনীদের পরাজিত করলেন।

[9] রাজা হিষ্কিয়ের রাজত্বকালের চতুর্থ বছরে, অর্থাৎ এলার ছেলে ইস্রায়েলের রাজা হোশেয়ের রাজত্বকালের সপ্তম বছরে আসিরিয়ার রাজা শল্‌মনেষর শমরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করে নগরটি অবরুদ্ধ করলেন।

[10] তিন বছর পর আসিরিয়ার সৈন্যসামন্তরা সেটি দখল করে নিয়েছিল। অতএব হিষ্কিয়ের রাজত্বকালের ষষ্ঠ বছরে, অর্থাৎ ইস্রায়েলের রাজা হোশেয়ের রাজত্বকালের নবম বছরে শমরিয়া তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছিল।

[11] আসিরিয়ার রাজা ইস্রায়েলকে আসিরিয়ায় নির্বাসিত করলেন এবং হলহে, হাবোর নদীতীরের গোষণে ও মাদীয়দের বিভিন্ন নগরে তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন।

[12] তারা তাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর বাধ্য হয়ে থাকেনি বলেই এই ঘটনা ঘটেছিল, বরং তারা তাঁর সেইসব পবিত্র নিয়ম লঙ্ঘন করল, যেগুলি সদাপ্রভুর দাস মোশি তাদের পালন করার আদেশ দিলেন। তারা না সেইসব আদেশে কান দিয়েছিল, না সেগুলি পালন করল।

[13] রাজা হিষ্কিয়ের রাজত্বকালের চর্তুদশ বছরে আসিরিয়ার রাজা সন্‌হেরীব যিহূদার সব সুরক্ষিত নগর আক্রমণ করে সেগুলি দখল করে নিয়েছিলেন।

[14] তাই যিহূদার রাজা হিষ্কিয় লাখীশে আসিরিয়ার রাজাকে এই খবর দিয়ে পাঠালেন: “আমি অন্যায় করেছি। আপনি আমার কাছ থেকে ফিরে যান, আর আপনি যা দাবি করবেন, আমি আপনাকে তা-ই দেব।” আসিরিয়ার রাজা হিষ্কিয়ের কাছ থেকে জোর করে তিনশো তালন্ত রুপো ও ত্রিশ তালন্ত সোনা আদায় করে নিয়েছিলেন।

[15] অতএব সদাপ্রভুর মন্দিরে ও রাজপ্রাসাদের কোষাগারে যত রুপো ছিল, হিষ্কিয় সেসব তাঁর হাতে তুলে দিলেন।

[16] যিহূদার রাজা হিষ্কিয় সদাপ্রভুর মন্দিরের দরজা ও চৌকাঠগুলি যত সোনা দিয়ে মুড়ে রেখেছিলেন, সেইসব সোনা খুলে নিয়ে সেই সময় তিনি তা আসিরিয়ার রাজাকে দিলেন।

[17] আসিরিয়ার রাজা লাখীশ থেকে তাঁর প্রধান সেনাপতি, মুখ্য কর্মকর্তা ও সমর-সেনাপতিকে এক বিশাল সৈন্যদল সমেত জেরুশালেমে হিষ্কিয়ের কাছে পাঠালেন। তাঁরা জেরুশালেমে এসে ধোপার মাঠে যাওয়ার পথে পড়া, উপরের দিকের পুকুরপারের কৃত্রিম জলপ্রণালীর কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন।

[18] তাঁরা রাজাকে ডেকে পাঠালেন; এবং হিল্কিয়ের ছেলে তথা রাজপ্রাসাদের প্রশাসক ইলিয়াকীম, সচিব শিব্‌ন, ও আসফের ছেলে তথা লিপিকার যোয়াহ তাঁদের কাছে গেলেন।

[19] সমর-সেনাপতি তাঁদের বললেন, “হিষ্কিয়কে গিয়ে বলো: “ ‘সেই মহান রাজা, আসিরিয়ার রাজা একথাই বলেন: আপনি কীসের উপর ভরসা করছেন?

[20] আপনি বলছেন যে আপনার কাছে যুদ্ধ করার বুদ্ধিপরামর্শ ও শক্তি আছে—কিন্তু আপনি আসলে শুধু শূন্যগর্ভ কথাই বলছেন। কার উপর আপনি নির্ভর করছেন, যে আমার বিরুদ্ধেই আপনি বিদ্রোহ করে বসেছেন?

[21] দেখুন, আমি জানি যে আপনি মিশরের, সেই দলছুট ধারালো নলখাগড়ার উপর নির্ভর করছেন, যা তারই হাতে খোঁচা দেয়, যে সেটিতে ভর দিয়ে থাকে! যারা মিশরের রাজা ফরৌণের উপর নির্ভর করে, তাদের ক্ষেত্রে তিনি তেমনই।

[22] কিন্তু আপনি যদি আমাকে বলেন যে, “আমরা আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উপর নির্ভর করছি,” তবে তাঁরই পুজোর উঁচু উঁচু স্থান ও যজ্ঞবেদিগুলি কি হিষ্কিয় যিহূদা ও জেরুশালেমের কাছে এই বলে দূর করেননি যে, “জেরুশালেমে এই যজ্ঞবেদির কাছেই তোমাদের আরাধনা করতে হবে”?

[23] “ ‘এখন আসুন, আমার মনিব, আসিরিয়ার রাজার সাথে বোঝাপড়ায় আসুন: আমি আপনাকে 2,000 ঘোড়া দেব—যদি আপনি সেগুলিতে চড়ার মতো লোক জোগাড় করতে পারেন!

[24] আপনাকে যখন রথ ও অশ্বারোহীদের জন্য মিশরের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে, তখন আপনি কীভাবে আমার মনিবের কর্মকর্তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিম্নস্তরের একজন কর্মকর্তাকেও প্রতিহত করবেন?

[25] এছাড়াও, আমি কি সদাপ্রভুর অনুমতি ছাড়াই এই স্থানটি আক্রমণ ও ধ্বংস করতে এসেছি? সদাপ্রভু স্বয়ং আমাকে বলেছেন, যেন আমি এই দেশটির বিরুদ্ধে সমরাভিযান করে এটি ধ্বংস করে দিই।’ ”

[26] তখন হিল্কিয়ের ছেলে ইলিয়াকীম, এবং শিব্‌ন ও যোয়াহ সমর-সেনাপতিকে বললেন, “দয়া করে আপনার দাসদের সাথে আরামীয় ভাষায় কথা বলুন, যেহেতু আমরা তা বুঝতে পারি। প্রাচীরের উপর দাঁড়িয়ে থাকা এইসব লোকজনের সামনে আমাদের সাথে হিব্রু ভাষায় কথা বলবেন না।”

[27] কিন্তু সেই সেনাপতি উত্তর দিলেন, “আমার মনিব কি শুধু তোমাদের মনিবের ও তোমাদের কাছেই এসব কথা বলার জন্য আমাকে পাঠিয়েছেন, এবং প্রাচীরের উপর বসে থাকা এইসব লোকজনের—যাদের তোমাদেরই মতো নিজের নিজের মল ভোজন ও মূত্র পান করতে হবে—তাদের কাছে বলার জন্য পাঠাননি?”

[28] পরে সেই সেনাপতি উঠে দাঁড়িয়ে হিব্রু ভাষাতেই বলে উঠেছিলেন, “সেই মহান রাজা, আসিরিয়ার রাজার কথা শোনো!

[29] রাজামশাই একথাই বলেন: হিষ্কিয় যেন তোমাদের না ঠকান। তিনি আমার হাত থেকে তোমাদের বাঁচাতে পারবেন না।

[30] এই কথা বলে যেন হিষ্কিয় তোমাদের সদাপ্রভুতে নির্ভর করতে বাধ্য না করেন, ‘সদাপ্রভু অবশ্যই আমাদের রক্ষা করবেন; এই নগরটি আসিরিয়ার রাজার হাতে গিয়ে পড়বে না।’

[31] “তোমরা হিষ্কিয়ের কথা শুনো না। আসিরিয়ার রাজা একথাই বলেন: আমার সাথে সন্ধি করো ও আমার কাছে বের হয়ে এসো। তবেই তোমরা প্রত্যেকে তোমাদের নিজেদের দ্রাক্ষাক্ষেতের ও ডুমুর গাছের ফল খেতে পারবে এবং নিজেদের কুয়োর জলপান করতে পারবে।

[32] পরে আমি এসে তোমাদের এমন একটি দেশে নিয়ে যাব, যেটি তোমাদের নিজেদের দেশের মতোই—খাদ্যশস্য ও নতুন দ্রাক্ষারসে ভরা এক দেশ, রুটি ও দ্রাক্ষাক্ষেতে ভরা এক দেশ, জলপাই গাছ ও মধু ভরা এক দেশ। মৃত্যু নয়, কিন্তু জীবন বেছে নাও! “হিষ্কিয়ের কথা শুনো না, কারণ এই কথা বলার সময় তিনি তোমাদের বিপথে পরিচালিত করছেন, ‘সদাপ্রভু আমাদের রক্ষা করবেন।’

[33] কোনও দেশের দেবতা কি আসিরিয়ার রাজার হাত থেকে তার দেশকে বাঁচাতে পেরেছে?

[34] হমাতের ও অর্পদের দেবতারা কোথায় গেল? সফর্বয়িমের, হেনার ও ইব্বার দেবতারা কোথায় গেল? তারা কি আমার হাত থেকে শমরিয়াকে বাঁচাতে পেরেছে?

[35] এইসব দেশের দেবতাদের মধ্যে কে তার দেশকে আমার হাত থেকে বাঁচাতে পেরেছে? তবে সদাপ্রভুই বা কীভাবে আমার হাত থেকে জেরুশালেমকে রক্ষা করবে?”

[36] কিন্তু লোকেরা চুপ করে ছিল ও কোনও উত্তর দেয়নি, কারণ রাজামশাই আদেশ দিলেন, “তাঁর কথার কোনও উত্তর দিয়ো না।”

[37] পরে হিল্কিয়ের ছেলে তথা রাজপ্রাসাদের প্রশাসক ইলিয়াকীম, সচিব শিব্‌ন, এবং আসফের ছেলে তথা লিপিকার যোয়াহ নিজেদের পোশাক ছিঁড়ে হিষ্কিয়ের কাছে গেলেন, এবং সমর-সেনাপতির বলা সব কথা তাঁকে বলে শুনিয়েছিলেন।

2 রাজাবলি — Chapters