[1] ফরিশি অকলে হুনলা, হজরত ইছায় এহিয়া নবী থাকি বেশি মানষরে তান উম্মত বানাইছইন, আর তৌবার গোছল করাইরা।
[2] অইলে ইছায় নিজে তৌবার গোছল করাইরা না, তান উম্মত অকলেউ করাইরা।
[3] হজরত ইছায় ই খবর পাইয়া, এহুদিয়া জিলা ছাড়িয়া হিরবার গালিল জিলাত যাওয়ার লাগি রওয়ানা অইলা।
[4] যাওয়ার কালো তানরে শমরিয়ার মাজদি যাওয়া লাগছিল।
[5] পথো তাইন শমরিয়ার শুখার নামর এক গাউর ধারো আইলা। হজরত ইয়াকুবে তান পুয়া ইউছুফরে যে জমিন দান করছলা, অউ জমিন খান আছিল হউ গাউর ধারো।
[6] ই জমিনো হজরত ইয়াকুবর কুয়া আছিল। ইছা আটতে আটতে হেরান অইয়া অউ কুয়ার কাছাত জিরাইলা। অউ সময় অনুমান দুইফর অইগেছে।
[7] এরমাজে শমরিয়া জাতির এক বেটিয়ে পানি তুলাত আইলো, আর কুয়ার কাছাত ইছা একলা আছলা, কারন তান সাহাবি অকল খানি-পানি লওয়ার লাগি বাজারো গেছলাগি। ইছায় তাইরে কইলা, “ও মাই, আমারে থুড়া পানি খাওয়াউক্কা।”
[9] বেটিয়ে কইলো, “আমি তো শমরিয়া জাতির মানুষ। আপনে একজন ইহুদি অইয়া আমার গেছে পানি চাইরা কিলা?” বেটিয়ে ইখান কইলো, কারন শমরিয়া জাতির লগে ইহুদি মানষর কুনুজাত মিল-মিশ বা চলা-ফিরা আছিল না।
[10] ইছায় তাইরে কইলা, “তুমি যুদি জানতায় আল্লার দান কিতা, আর কে তুমার গেছে পানি চাইরা, তে তুমি নিজেউ তান গেছে পানি চাইলায় অনে, আর তাইন তুমারে জিন্দা পানি দিলা অনে।”
[11] বেটিয়ে কইলো, “ছাব, আপনার গেছে তো পানি তুলার কুন্তা নাই, আর ই কুয়াও গইন। তে জিন্দা পানি কুয়াই থাকি পাইলা?
[12] আপনে কুনু আমরার মুল-মুরব্বি ইয়াকুব নবী থাকি বড় নি? তাইনউ আমরার লাগি ই কুয়া খুদিছলা। তাইন আর তান পুয়াইন্তেও অউ কুয়ার পানি খাইতা, আর তান পশুর পালরেও খাওয়াইতা।”
[13] তেউ ইছায় কইলা, “যে জনে ই কুয়ার পানি খাইবো, তার হিরবার পিয়াছ লাগবো।
[14] অইলে আমার দেওয়া পানি যে খাইবো, তার কুনু সময়উ পিয়াছ লাগতো নায়। বরং ই পানি তার দিলর মাজে ঝরনার লাখান উথলিয়া উঠবো আর আখেরি জিন্দেগি দান করবো।”
[15] তেউ বেটিয়ে ইছারে কইলো, “হুজুর, তে আমারেও হউ পানি দেউক্কা, যাতে আমার পিয়াছ না লাগে, আর পানির লাগি ইনো আওয়া না লাগে।”
[16] ইছায় বেটিরে কইলা, “তে যাও, তুমার জামাইরে অনো লইয়া আও।”
[17] বেটিয়ে কইলো, “ছাব, আমার তো কুনু জামাই নাই।” ইছায় কইলা, “তুমি ঠিকউ কইছো, তুমার জামাই নাই।
[18] কারন এর আগে তো তুমার পাচ জন জামাই অইগেছইন, আর অখন যে তুমার লগে আছে, হে তুমার জামাই নায়। তুমি হাছা কথাউ কইলায়।”
[19] ইখান হুনিয়া বেটিয়ে ইছারে কইলো, “হুজুর, অখন আমি বুজলাম, আপনে একজন নবী।
[20] আমরার বাফ-দাদাইন্তে অউ পাড়র উপরেউ এবাদত করতা, অইলে আপনারা কইন, জেরুজালেমোউ মানষর এবাদত করা উচিত।”
[21] ইছায় তানরে কইলা, “হুনো, আমার মাতখান একিন করো। দেখিও, অউলা সময় আইবো যেবলা তুমরা ই পাড়র উপরে, বা জেরুজালেমর কুনুখানো, গাইবি বাফ আল্লার এবাদত করতায় নায়।
[22] তুমরা যারে চিনো না, তার এবাদত করো, অইলে আমরা যান এবাদত করি, তানরে আমরা চিনি। জানো নি, নাজাতর পথ তো ইহুদি অকলর মাজদিউ আইছে।
[23] হুনো, অলা সময় আইবো, বরং অখনউ আইচ্ছে, যেবলা আসল এবাদতকারি অকলে হক্কানি রুহে গাইবি বাফ আল্লার এবাদত করবা। গাইবি বাফেও অলাখান এবাদতকারির তালাশ করইন।
[24] আল্লাতালা অইলাগি রুহ, এরলাগি যারা তান এবাদত করবা, তারা হক্কানি রুহে তান এবাদত করা লাগবো।”
[25] বাদে অউ বেটিয়ে কইলো, “আমি জানি, আল-মসী আইরা। তাইন আইয়া হকলতা আমরারে জানাইবা।”
[26] ইছায় অউ বেটিরে কইলা, “আমিউ হেইন, যেইন অখন তুমার লগে মাতিরা।”
[27] অউ সময় সাহাবি অকলে আইয়া দেখলা, ইছায় এক বেটির লগে মাতিরা, দেখিয়া তারা তাইজ্জুব অইগেলা। তা-ও তারা কেউ জিকাইলা না, আপনে কিতা চাইরা বা এন লগে মাতিরা কেনে।
[28] বাদে বেটিয়ে তাইর পানির খৈলা থইয়া গাউর মানষরে গিয়া কইলো,
[29] “তুমরা আইয়া একজনরে দেখি যাও। আমার জিন্দেগিত যেতা করছি, ইতা হকলতাউ তাইন কইলিছইন। তে তাইনউ কিতা হউ আল-মসী নি?”
[30] ইতা হুনিয়া গাউর মানুষ বার অইয়া ইছার গেছে আওয়া ধরলা।
[31] বাদে তান সাহাবি অকলে তানরে অনুরোধ করি কইলা, “হুজুর, কুন্তা খাউক্কা।”
[32] তাইন কইলা, “আমার গেছে ইলা খানি আছে, যে খানির বেয়াপারে তুমরা জানো না।”
[33] ইখান হুনিয়া সাহাবি অকলে একে-অইন্যে জিকাইলা, “তে তানরে কেউ কুনু খানি আনিয়া দিছে না কিতা?”
[34] তেউ ইছায় তারারে কইলা, “যেইন আমারে বেজিছইন, তান মর্জি মাফিক তান কাম পুরা করাউ আমার খানি।
[35] “তুমরা কও না নি, ‘আর চাইর মাস বাদেউ ফসল কাটার সময় আইবো’? অইলে আমি তুমরারে কইরাম, ভালা করি একবার খেতেদি চাইয়া দেখো, ফসল পাকিয়া কাটার জুকা অইগেছে।
[36] ফসল কাটরায় অখনউ বেতন পাইরা আর আখেরর লাগি ফসল দলা কররা। এরলাগি যেইন জালা বাইন দেইন আর যেইন ফসল কাটইন, দুইও জনউ হমান খুশি অইন।
[37] এতে অউ ছিল্লেখর পরমান অয়, ‘একজনে বাইন দেইন, আরক জনে কাটইন।’
[38] আমিও তুমরারে অলা ফসল কাটাত পাঠাইছি, যে ফসলর লাগি তুমরা মেনত করছো না। অইন্য মানষে মেনত করছে আর তুমরা অউ মেনতর ফসল কাটিছো।”
[39] যে বেটির জিন্দেগির হকলতা ইছায় কইলিছইন, অউ বেটির সাক্ষি হুনিয়া হউ গাউর বউত শমরিয়া মানষে ইছার উপরে ইমান আনলা।
[40] তারা ইছারে গিয়া মিনত করি কইলা, তারার অখানো রইবার লাগি। এরদায় তাইন দুই দিন হনো রইলা।
[41] অউ সময় তান তালিম হুনিয়া আরো বউত মানষে ইমান আনলা।
[42] আর গাউর মানষে অউ বেটিরে কইলা, “তুমার কথায় আমরা ইমান আনছি না, আমরা নিজেউ তান মাত হুনিয়া বুজতাম পারছি, এইনউ জগতর আসল তরানেআলা।”
[43] শমরিয়াত দুইদিন রইয়া হারি হজরত ইছা নিজর বাড়ি গালিল জিলাত গেলাগি।
[44] যুদিও তাইন আগে কইছলা, কুনু নবীরেউ নিজর দেশো দাম দেওয়া অয় না,
[45] তেবউ অউ সময় তারা তানরে কবুল করলা। কারন ইদর সময় ইছায় জেরুজালেমো যেতা কেরামতি দেখাইছলা, গালিলর মানুষ হনো থাকায় তারা ইতা দেখছলা করি তাইন গালিলো আইলে তারা কবুল করলা।
[46] বাদে ইছা হিরবার গালিলর কান্না গাউত গেলা। অনোউ তাইন পানিরে আংগুরর শরবত বানাইছলা। কফরনাউম টাউনো এক সরকারি অফিসারর পুয়া খুব বেমার আছিল।
[47] হজরত ইছা এহুদিয়া থাকি গালিল আইছইন হুনিয়া, অউ অফিসার তান গেছে গিয়া মিনত করলা, তাইন যানু কফরনাউম গিয়া এন পুয়াগুরে ভালা করইন। অউ সময় তান পুয়া মরার পথি অইগেছিল।
[48] ইছায় অউ অফিসাররে কইলা, “কুনু নিশানা বা কেরামতি কাম না দেখলে আপনারা কুনুমন্তেউ ইমান আনতা নায়।”
[49] তেউ অফিসারে কইলা, “হুজুর, দয়া করি জলদি আউক্কা, পুয়াগুর জান থাকতে আউক্কা।”
[50] ইছায় তানরে কইলা, “আপনে যাউক্কাগি, আপনার পুয়া ভালা অইগেছে।” ইছার কথা একিন করিয়া এইন গেলাগি।
[51] হাছাউ, হউ অফিসার বাড়িত যাওয়ার পথে তান গুলাম অকলে আইয়া খবর কইলো, “ছাব, আপনার পুয়ার বেমার কমিগেছে।”
[52] তাইন এরারে জিকাইলা, “হে কুন সময় ভালা অইছে?” তারা কইলা, “কাইল দুইফর থাকি তান তাপ ছাড়ি দিছে।”
[53] তেউ অফিসারর মনো অইলো, ঠিক দুইফরি বালা ইছায় তানরে কইছলা, “আপনে যাউক্কাগি, আপনার পুয়া ভালা অইগেছে।” এরলাগি অউ অফিসার আর তান পরিবারর হকলে ইছার উপরে ইমান আনলা।
[54] হজরত ইছা এহুদিয়া থনে গালিলো আওয়ার বাদে অউ দুছরা কেরামতি নিশানা দেখাইলা।