[1] আমার মালিক আল-মসীর লাগি আমি জেলো বন্দি আছি। অউ বন্দি হালতে আমি তুমরারে মিনত করিয়ার, যে কামর লাগি আল্লায় তুমরারে দাওত দিছইন, তুমরা এর উপযুক্ত অইয়া চলো।
[2] তুমরার আচার-বেবহার যানু পুরাপুর মিঠা আর নরম অয়। পরতেকে ছবর করো আর দিলো মহব্বত রাখিয়া একে-অইন্যরে সইয্য করো।
[3] আল-মসীর যে শান্তিয়ে আমরারে একখানো জুড়া লাগাইছে, হউ শান্তির বলে পাক রুহর দেওয়া একতা রক্ষার লাগি দিলে-জানে চেষ্টা করো।
[4] আল্লায় তুমরারে তান পথে দাওত দিছইন করিয়া তুমরার মাজে খালি একখান আশা আছে, খালি এক শরিল আর একজন পাক রুহ আছইন।
[5] এক ইমান, এক তরিকাবন্দি আর একজন মালিক আছইন।
[6] হকলর আল্লা খালি একজন, মানি বেহেস্তি বাফ একজনউ আছইন। তাইনউ হকলর উপরে, হকলর মাজে, হকলর দিলো আছইন।
[7] অইলে আল-মসীয়ে যেলা ঠিক করিয়া রাখছইন, হউ মাফিক আমরা পরতেকে খাছ রহমত পাইছি।
[8] এরলাগি জবুর শরিফো লেখা আছে, তাইন গিয়া যেবলা বেহেস্তো উঠিলা, অউ সময় বন্দি অকলরে বান্দিয়া টানিয়া নিলা, আর তান মানষরে বউত দান দিলা।
[9] তে বেহেস্তো গিয়া উঠিলা, ই আয়াত থাকি বুজা যায় না নি, আগে তাইন দুনিয়ার তলে লামছিলা।
[10] আর যেইন লামছিলা, তাইন হকলতা পুরন করার লাগি, আছমান থাকি আরো উপরে গিয়া উঠিছইন।
[11] তাইন মানষরে অউ দান দিছইন, কয়জনরে সাহাবি, কয়জনরে নবী, কয়জনরে খুশ-খবরির তবলিগ, কয়জনরে জমাতর ইমাম আর উস্তাদ হিসাবে বওয়াল করছইন।
[12] তাইন ইলা করার কারন অইলো, আল্লার পাক বন্দা অকলে যানু তান এবাদত-বন্দেগি করার লাগি জুইত অয়, আর অউ নমুনায় আল-মসীর শরিল, জমাত হিসাবে গড়িয়া উঠে।
[13] তান খিয়াল অইলো, আমরা হকলে যানু আল্লার খাছ মায়ার জন, ইবনুল্লার উপরে ইমান আনিয়া, তানরে ভালা করি চিনিয়া একখানো অই। আর আল-মসী যেলা হকল লাখান গুনে পুরাপুর ভরা, আমরাও অলা হকল গুনে পুরাপুর অইয়া কামিল অই।
[14] তেউ আমরা আর হুরুতার লাখান রইতাম নায়। মানষে শয়তানি আখল খাটাইয়া বে-পথে নিবার লাগি মানষরে যে ভুল তালিম দেয়, অউ ভুল তালিমে যানু আমরারে পানির আউলা-জাউলা ঢেউর লাখান দু-দিলা না বানায়।
[15] বরং আমরার দিলর মহব্বতে হক মাত মাতিমু, হকল নমুনায় বড় অইয়া আল-মসীর লাখান অইমু। তাইনউ তো আস্তা শরিলর মাথা।
[16] আস্তা শরিল অমলা বানাইল অইছে, যাতে শরিলর হকল অংগ যারযির জাগাত রইয়া মুল কায়ার লগে জুড়া লাগাইল রয়। পরতেক অংগ যেবলা ঠিক-ঠাক কাম করে, অউ সময় আস্তা শরিলউ মাথার বলে বাড়িয়া উঠে, আর মহব্বতর মাজদি নিজরে গড়িয়া তুলে।
[17] এরলাগি আমি আমার মালিকর নামে তুমরারে হুশিয়ার করি দিয়ার, ভিন ধর্মর মানষে যেলা বাজে চিন্তা করিয়া জিন্দেগি কাটাইন, তুমরা আর ইলা জিন্দেগি কাটাইও না।
[18] তারার দিল তো আন্দাইরর মাজে পড়ি রইছে। ইতার দিল গোমরা, এরলাগিউ তারা আল্লার বেয়াপারে কুন্তা চিনে না, কুন্তা চিনতো চায়ও না, এরলাগি আল্লার দেওয়া জিন্দেগি থাকি তারা বউত দুরই।
[19] তারার বিবেক অসাড় অইগেছে, অতার দায় হর-হামেশা নাপাকি কামর ধান্দা করে, তারা নিজর জিন্দেগিরে লাগাম ছাড়া বদ খাইশর আতো ছাড়ি দিছে।
[20] অইলে তুমরা তো আল-মসীর বেয়াপারে ইলাখান তালিম পাইছো না।
[21] তুমরা নিচ্চয় তান বেয়াপারে হুনছো, হুনিয়া তান লগে শরিক অইয়া, তান মাজে যে হক আছে, অউ হকর তালিম পাইছো।
[22] তান তালিম অইলো, ফিন্নর পুরান কাপড় মানষে যেবলা এক্কেরে ফালাই দেয়, অউ লাখান তুমরার ভিতরর পুরান “আমি”রে এক্কেবারে ফালাই দেও, কারন অউ “আমি”র বদ খাইশে মানষর জিন্দেগিরে বরবাদ করিলায়।
[23] এর বদলা আল্লা পাকরে সুযোগ দেও, তাইন তুমরার দিলরে নয়া হালতে গড়িয়া তুলউক্কা,
[24] তান দেওয়া নয়া “আমি”রে নয়া কাপড়র লাখান ফিন্দো। অউ নয়া “আমি”রে আসল হক-পরেজগারি আর পাক-পবিত্র করিয়া আল্লার ছুরতে গড়া অইছে।
[25] এরলাগি তুমরা মিছা মাতা বাদ দেও, একে-অইন্যে হাছা মাতো, কারন আমরা হকলউ একে-অইন্যে মিশিয়া আছি।
[26] রাগ-গুছা করলেও ই রাগর লাগি গুনা করিও না, সুরুজ ডুবার আগেউ গুছার কথা ফাউরিলাও,
[27] ইবলিছ-শয়তানরে কুনু সুযোগ দিও না।
[28] চুরে তার চুরি করা বাদ দেউক, নিজর আতে হালাল পথে মেনত করিয়া খানা খাউক, যাতে তার খাওয়া-ফিন্দার বাদেও গরিব-দুখিরে দিবার লাগি কিছু জমা রয়।
[29] তুমরার মুখদি যানু বাদ কথা না বারয়, বরং আরক জনর উপকারি তালিমর লাগি ভালা মাত মাতিও, যাতে ইতা হুনিয়া হুনরা জনর ভালাই অয়।
[30] তুমরা আল্লার পাক রুহরে দুখ দিও না, আখেরি নাজাতর আগ পর্যন্ত অউ রুহ দিয়াউ আল্লায় তুমরারে সীল-চাপ্পড় মারিয়া থইছইন।
[31] হকল নমুনার বিরক্তি ভাব, মিজাজ দেখানি, রাগ-গুছা, চিল্লাইয়া কাইজ্জা করা, গালা-গালি, আর হকল নমুনার ইংসা-নিন্দা তুমরার গেছ থাকি হরাইলাও।
[32] বরং তুমরা একে-অইন্যে দয়া করো, অইন্যর দুখে দুখি অও, আল-মসীর মাজদি আল্লায় যেলা তুমরারে মাফ করছইন, তুমরাও অলা একে-অইন্যরে মাফ করো।