[1] ইলীহূ আরও বললেন;
[2] “আপনি আমার প্রতি আরও একটু ধৈর্য ধরুন ও আমি আপনাকে দেখিয়ে দেব যে ঈশ্বরের হয়ে আরও অনেক কিছু বলার আছে।
[3] আমি বহুদূর থেকে আমার জ্ঞান লাভ করেছি; আমি আমার সৃষ্টিকর্তার উপরে ন্যায়পরায়ণতা আরোপ করব।
[4] নিশ্চিত হতে পারেন যে আমার কথা মিথ্যা নয়; নিখুঁত জ্ঞানবিশিষ্ট একজন আপনার সহবর্তী।
[5] “ঈশ্বর পরাক্রমী, কিন্তু তিনি কাউকে অবজ্ঞা করেন না; তিনি পরাক্রমী, ও তাঁর অভীষ্টে অটল।
[6] তিনি দুষ্টদের বাঁচিয়ে রাখেন না কিন্তু নিপীড়িতদের তাদের অধিকার দান করেন।
[7] তিনি ধার্মিকদের উপর থেকে তাঁর দৃষ্টি সরিয়ে নেন না; রাজাদের সঙ্গে তিনি তাদের সিংহাসনে বসান ও চিরকাল তাদের মহিমান্বিত করেন।
[8] কিন্তু লোকেরা যদি শিকলে বাঁধা পড়ে, দুঃখের দড়ি দিয়ে তাদের কষে বাঁধা হয়,
[9] ঈশ্বর তখন তাদের বলে দেন যে তারা কী করেছে— যে তারা অহংকারভরে পাপ করেছে।
[10] তিনি তাদের সংশোধনমূলক কথা শুনতে বাধ্য করেন ও তাদের দুষ্টতার বিষয়ে তাদের মন ফিরানোর আদেশ দেন।
[11] তারা যদি তাঁর বাধ্য হয়ে তাঁর সেবা করে, তবে তারা তাদের জীবনের বাকি দিনগুলি সমৃদ্ধিতে ও তাদের বছরগুলি সন্তোষযুক্ত হয়ে কাটাবে।
[12] কিন্তু যদি তারা তাঁর কথা না শোনে, তবে তারা তরোয়ালের আঘাতে ধ্বংস হবে ও জ্ঞানের অভাবে মারা যাবে।
[13] “অধার্মিকেরা অন্তরে অসন্তোষ পুষে রাখে; এমনকি যখন তিনি তাদের শিকলে বাঁধেন, তখনও তারা সাহায্যের আশায় আর্তনাদ করে না।
[14] যৌবনকালেই তারা মারা যায় মন্দিরের দেবদাসদের মধ্যেই তাদের মৃত্যু হয়।
[15] কিন্তু যারা কষ্টভোগ করে, কষ্ট চলাকালীনই তিনি তাদের উদ্ধার করেন; তাদের দুঃখের মধ্যেই তিনি তাদের সাথে কথা বলেন।
[16] “ঈশ্বর আপনাকে যন্ত্রণার মুখ থেকে বের করে বিধিনিষেধ-মুক্ত এক প্রশস্ত স্থানে, পছন্দসই খাদ্যদ্রব্যে সুসজ্জিত আপনার টেবিলের স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে এনেছেন।
[17] কিন্তু এখন আপনি দুষ্টদের উপযুক্ত বিচারে বিচারিত হতে যাচ্ছেন; বিচার ও ন্যায় আপনাকে ধরে ফেলেছে।
[18] সাবধান, কেউ যেন ধন দ্বারা আপনাকে প্রলুব্ধ করতে না পারে; বিপুল পরিমাণ ঘুস যেন আপনাকে বিপথগামী করে না তোলে।
[19] আপনার ধনসম্পদ বা আপনার সব মহৎ প্রচেষ্টাও কি আপনাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে, যেন আপনি যন্ত্রণাভোগ না করেন?
[20] সেরাতের জন্য অপেক্ষা করবেন না, যখন লোকজনকে তাদের ঘর থেকে টেনে বের করা হয়।
[21] সাবধান, অনিষ্টের দিকে ফিরে যাবেন না, আপনি তো দুঃখের পরিবর্তে সেটিকেই মনোনীত করেছেন।
[22] “ঈশ্বর তাঁর পরাক্রমে উন্নত। তাঁর মতো শিক্ষক আর কে আছে?
[23] কে তাঁর গন্তব্যপথ নিরূপিত করেছে, বা তাঁকে বলেছে, ‘তুমি অন্যায় করেছ’?
[24] মনে রাখবেন, তাঁর সেই কাজের উচ্চপ্রশংসা করতে হবে, যাঁর প্রশংসা লোকেরা গানের মাধ্যমে করেছিল।
[25] সমগ্র মানবজাতি তা দেখেছে; নশ্বর মানুষও দূর থেকে সেদিকে স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেছে।
[26] ঈশ্বর কত মহান—আমাদের বোধশক্তির ঊর্ধ্বে! তাঁর বছর-সংখ্যার খোঁজ পাওয়া যায় না।
[27] “তিনি জলবিন্দু টেনে নেন, ও তা বৃষ্টিরূপে পরিশুদ্ধ করে জলধারায় ফিরিয়ে দেন;
[28] মেঘরাশি তাদের আর্দ্রতা ঢেলে দেয় ও প্রচুর বৃষ্টি মানবজাতির উপরে বর্ষিত হয়।
[29] কে বুঝতে পারে কীভাবে তিনি মেঘরাশি ছড়িয়ে দেন, কীভাবে তিনি তাঁর চন্দ্রাতপ থেকে বজ্রধ্বনি করেন?
[30] দেখুন কীভাবে তিনি তাঁর চারপাশে বিজলি নিক্ষেপ করেন, সমুদ্রগর্ভকে স্নান করান।
[31] এভাবেই তিনি জাতিদের নিয়ন্ত্রণ করেন ও প্রচুর পরিমাণে খাদ্যদ্রব্য জোগান।
[32] তাঁর হাত তিনি বিজলিতে পরিপূর্ণ করেন ও তাকে লক্ষ্যে আঘাত হানার আদেশ দেন।
[33] তাঁর বজ্রধ্বনি আসন্ন ঝড়ের সংকেত দেয়; এমনকি পশুপালও সেটির আগমনবার্তা দেয়।