[1] যিহূদা ও বিন্যামীনদের প্রতিপক্ষেরা যখন শুনল যে নির্বাসন থেকে প্রত্যাগত ব্যক্তিরা ইস্রায়েলের আরাধ্য ঈশ্বর, সদাপ্রভুর উদ্দেশে একটি মন্দির নির্মাণ করছে,
[2] তখন তারা সরুব্বাবিল ও গোষ্ঠীপতিদের কাছে এসে বলল, “তোমাদের নির্মাণ কাজে আমরা সাহায্য করতে চাই, কারণ আমরাও তোমাদের আরাধ্য ঈশ্বরের আরাধনা করি। আসিরিয়ার রাজা এসর-হদ্দোন যখন আমাদের এদেশে বসবাস করতে এনেছেন তখন থেকেই আমরা সেই ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে বলি উৎসর্গ করে চলেছি।”
[3] কিন্তু সরুব্বাবিল, যেশূয় ও অন্যান্য গোষ্ঠীপতিরা উত্তরে বললেন, “আমাদের আরাধ্য ঈশ্বরের মন্দির নির্মাণের কার্যে তোমাদের সাহায্যের কোনও প্রয়োজন নেই। পারস্য-সম্রাট কোরসের আদেশমতো ইস্রায়েলের আরাধ্য ঈশ্বর সদাপ্রভুর জন্য আমরা নিজেরাই এই কাজ করতে পারব।”
[4] তখন তাদের চারিদিকে যে সমস্ত লোক ছিল তারা যিহূদার লোকদের নিরুৎসাহ করতে চাইল এবং মন্দির নির্মাণের কাজে ভয় দেখাতে লাগল।
[5] তারা অর্থের বিনিময়ে কিছু লোককে নিযুক্ত করল যাদের কাজ ছিল নির্মাণ কাজের ব্যাপারে সকলকে হতাশাগ্রস্ত করে তোলা এবং এ ব্যপারে সমস্ত পরিকল্পনাই নস্যাৎ করে দেওয়া। পারস্য-সম্রাট কোরসের সময় থেকে সম্রাট দারিয়াবসের রাজত্বকাল পর্যন্ত এই চক্রান্ত চলছিল।
[6] সম্রাট অহশ্বেরশের রাজত্বের শুরুতেই তারা যিহূদা ও জেরুশালেমের লোকেদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করল।
[7] পারস্য-সম্রাট অর্তক্ষস্তের শাসনকালেও বিশ্লম, মিত্রদাৎ, টাবেল ও তার সহযোগীরা সম্রাট অর্তক্ষস্তের কাছে একটি পত্র লিখল। পত্রটি আরামীয় অক্ষরে ও আরামীয় ভাষায় লেখা হয়েছিল।
[8] প্রদেশপাল রহূম, সচিব শিম্শয় সম্রাট অর্তক্ষস্তের কাছে জেরুশালেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সেই পত্র লিখেছিল।
[9] সেনাধিপতি রহূম, সচিব শিম্শয় ও তাঁদের সব সহযোগী—পারস্য, অর্কব ও ব্যাবিলনের বিচারক, কর্মকর্তা প্রশাসক, শূশনের এলমীয়েরা,
[10] এবং অন্য সকল ব্যক্তি যাদের মহান ও সম্মানীয় অস্নপ্পর নির্বাসিত করেছিলেন এবং শমরিয়া ও ইউফ্রেটিস নদীর সংলগ্ন এলাকার সর্বত্র বসবাস করিয়েছেন, তাদের সকলের পক্ষে এই পত্র লেখা হয়েছিল।
[11] (যে পত্রটি তাঁকে প্রেরণ করা হয়েছিল এটি হল তারই অনুলিপি) সম্রাট অর্তক্ষস্ত সমীপেষু, ইউফ্রেটিস নদীর সংলগ্ন এলাকার জনগণের পক্ষে, আপনার সেবকবৃন্দ:
[12] মহামান্য সম্রাটের জ্ঞাতার্থে আপনাকে অবহিত করি, যে সকল ইহুদিরা আপনার কাছ থেকে জেরুশালেমে গিয়েছে তারা সেই রাজদ্রোহ ও দুষ্টতায় ভরা নগরটিকে পুনরায় নির্মাণ করছে। তারা নগরের প্রাচীর পুনরুদ্ধার ও ভিত্তি পুনর্নির্মাণ করছে।
[13] এছাড়াও, সম্রাটের জ্ঞাতার্থে জানাই যে যদি এই নগর পুনর্নির্মিত ও তাঁর প্রাচীর পুনর্গঠিত হয় তাহলে তারা কোনও রাজস্ব, প্রণামী ও মাশুল দেবে না। এর ফলে সম্রাটের রাজস্ব সংগ্রহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
[14] যেহেতু আপনার প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে এবং আমাদের উচিত হবে না সম্রাটের অসম্মান হোক এমন কিছু ঘটতে দেওয়া, সেইজন্য আপনার জ্ঞাতার্থে এই সংবাদ আপনার কাছে প্রেরণ করছি।
[15] আপনি দয়া করে আপনার পূর্বসূরীদের নথিপত্রগুলি ভালো করে অনুসন্ধান করে দেখুন। সেই নথিগুলি দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন যে এই নগরটি কেমন বিদ্রোহীভাবাপন্ন এবং রাজাদের ও প্রদেশের পক্ষে কত বিপজ্জনক। প্রাচীনকাল থেকেই এই নগরটি রাজদ্রোহী মনোভাব দেখিয়েছে। এজন্যই নগরটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।
[16] আমরা মহামান্য সম্রাটকে জানাই যে যদি আপনি এই নগরটি পুনর্নির্মিত হতে এবং তাঁর প্রাচীরগুলি পুনরুদ্ধার হতে দেন তাহলে ইউফ্রেটিস নদীর সংলগ্ন কোনও স্থান আর আপনার অধীনে থাকবে না।
[17] সম্রাট পত্রটির উত্তরে এই কথা লিখলেন: প্রদেশপাল রহূম, সচিব শিম্শয় এবং শমরিয়া ও ইউফ্রেটিস নদীর সংলগ্ন অঞ্চলে বসবাসকারী ও তাদের সহযোগীবৃন্দ: শুভেচ্ছা।
[18] আপনারা আমার কাছে যে পত্রখানি পাঠিয়েছেন সেটি আমার সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং অনুবাদ করা হয়েছে।
[19] আমি একটি নির্দেশ পাঠিয়েছি এবং সেইমতো অনুসন্ধানও করা হয়েছে। সত্যিই এটি দেখা গেছে যে পূর্ব থেকেই নগরটি সম্রাটদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে এবং নগরটি যথার্থই বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের জন্য কুখ্যাত।
[20] জেরুশালেম থেকেই পরাক্রমী নৃপতিগণ একদিন ইউফ্রেটিস নদীর অববাহিকার সমস্ত ভূখণ্ডে রাজত্ব করতেন। তাদের রাজস্ব, প্রণামী এবং মাশুলও যথাযথভাবে প্রদান করা হতো।
[21] তোমরা শীঘ্রই ওই লোকদের কাছে এই আদেশ করো যেন তারা কাজ বন্ধ করে দেয় এবং আমি যতদিন না পুনরায় জানাচ্ছি ততদিন নগরটি যেন পুনর্নির্মিত না হয়।
[22] সাবধান, এই বিষয়ে তোমরা শিথিল মনোভাব দেখিও না। কি কারণে এই বিপজ্জনক অবস্থাকে চলতে দেওয়া হবে যা রাজার স্বার্থকে বিঘ্নিত করবে?
[23] রহূম ও সচিব শিম্শয়ের কাছে যে মুহূর্তে সম্রাট অর্তক্ষস্তের এই পত্রের অনুলিপি পাঠ করা হল, তারা তৎক্ষণাৎ জেরুশালেমে ইহুদিদের কাছে গেল এবং তাদের কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করল।
[24] এইভাবে জেরুশালেমে ঈশ্বরের মন্দির নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে গেল। সম্রাট দারিয়াবসের রাজত্বের দ্বিতীয় বছর পর্যন্ত সেই কাজ স্তব্ধ হয়ে রইল।