Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 5:22

[1] লায়োদেকিয়ার অধিবাসীদের ও যাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত ভাবে সাক্ষাৎ হয়নি, তাদের এবং তোমাদের জন্য আমি কত সংগ্রাম করে চলেছি, তোমাদের তা অবগত করতে চাই।

[2] তাদের অন্তরকে অনুপ্রেরণায় উদ্বুদ্ধ ও ভালোবাসায় একতাবদ্ধ করে তোলাই আমার অভিপ্রায়। তারা যেন পূর্ণ বোধশক্তির ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে এবং ঈশ্বরের গুপ্তরহস্য, অর্থাৎ খ্রীষ্টকে জানতে পারে।

[3] তাঁরই মধ্যে প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের সমস্ত ঐশ্বর্য নিহিত।

[4] আমি তোমাদের একথা বলছি যেন, কোনো মানুষ শ্রুতিসুখকর যুক্তিজাল বিস্তার করে তোমাদের প্রতারিত না করে।

[5] কারণ শারীরিকভাবে আমি তোমাদের কাছে অনুপস্থিত থাকলেও, আত্মায় আমি তোমাদের মধ্যে উপস্থিত আছি। তোমাদের সুশৃঙ্খল জীবন এবং খ্রীষ্টে তোমাদের বিশ্বাস দেখে আমি আনন্দিত।

[6] সুতরাং, খ্রীষ্ট যীশুকে যেমন প্রভুরূপে গ্রহণ করেছ, তেমনই তাঁর মধ্যেই জীবনযাপন করতে থাকো।

[7] তাঁর মধ্যেই স্থিতমূল হও ও গড়ে ওঠো। তোমাদের প্রাপ্ত শিক্ষানুযায়ী বিশ্বাসে শক্তিযুক্ত এবং ধন্যবাদ অর্পণে উচ্ছ্বসিত হও।

[8] দেখো, কেউ যেন অসার ও বিভ্রান্তিকর দর্শনের দ্বারা তোমাদের বন্দি না করে, যা কেবল মানবিক ঐতিহ্য এবং জাগতিক মূলনীতির উপর নির্ভরশীল, খ্রীষ্টের উপর নয়।

[9] কারণ ঈশ্বরত্বের সমস্ত পূর্ণতা, খ্রীষ্টের মধ্যেই দৈহিকরূপে অধিষ্ঠিত

[10] এবং যিনি সমস্ত পরাক্রম ও কর্তৃত্বের মস্তকস্বরূপ, সেই খ্রীষ্টে তোমরা লাভ করেছ পূর্ণতা।

[11] পাপময় স্বভাব পরিত্যাগ করে, তাঁর মধ্যেই তোমরা সুন্নতপ্রাপ্ত হয়েছ। সেই সুন্নত-সংস্কার মানুষের হাতে নয়, কিন্তু খ্রীষ্টের দ্বারা সাধিত হয়েছে।

[12] ফলত, বাপ্তিষ্মে, খ্রীষ্টের সঙ্গে তোমরা সমাহিত হয়েছ এবং মৃতদের মধ্য থেকে যিনি তাঁকে উত্থাপিত করেছিলেন, সেই ঈশ্বরের পরাক্রমে বিশ্বাস স্থাপন করে, তাঁরই সঙ্গে তোমরা উত্থাপিত হয়েছ।

[13] তোমাদের সকল পাপে এবং পাপময় স্বভাবে সুন্নতহীন অবস্থায় তোমরা যখন মৃত ছিলে, তখন ঈশ্বর খ্রীষ্টে তোমাদের জীবিত করেছেন।

[14] বিধানের যেসব লিখিত নির্দেশনামা আমাদের বিরুদ্ধে ও প্রতিকূলে ছিল, তা তিনি বাতিল করেছেন; ক্রুশে বিদ্ধ করে তিনি তা অপসারিত করেছেন।

[15] ক্রুশের মাধ্যমে পরাক্রম এবং কর্তৃত্বকে পরাস্ত করে তাদের উপরে বিজয়ী হয়েছেন এবং পেরেক তাদের প্রকাশ্যে দৃশ্যমান করেছেন।

[16] অতএব আহার, পানীয়, ধর্মীয় উৎসব, অমাবস্যা বা বিশ্রামদিন পালন নিয়ে কেউ তোমাদের বিচার না করুক।

[17] এগুলি ছিল ভাবী বিষয়ের ছায়ামাত্র, প্রকৃত বিষয় কিন্তু খ্রীষ্টের মধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে।

[18] যারা কপট বিনয়ে সুখবোধ করে ও স্বর্গদূতদের আরাধনা করে, পুরস্কারের জন্য তারা যেন তোমাদের অযোগ্য প্রতিপন্ন না করতে পারে। এই ধরনের লোক নিজের দর্শনের কথাই সবিস্তারে বর্ণনা করে এবং তার অনাত্মিক মন তাকে অনর্থক মানসিক কল্পনায় গর্বস্ফীত করে তোলে।

[19] সে সেই মস্তকের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, যা থেকে সমগ্র দেহ পরিপুষ্ট হয়, পেশী ও গ্রন্থি-বন্ধনীর দ্বারা পরস্পরের সঙ্গে সন্নিবদ্ধ থাকে এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী শ্রীবৃদ্ধি লাভ করে।

[20] খ্রীষ্টের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করে তোমরা জগতের রীতিনীতি থেকে মুক্ত হয়েছ, তাহলে, কেন তোমরা এখনও সেইরকমই রীতিনীতির অধীনে জীবনযাপন করছ?

[21] “এটা কোরো না, ওটি খেয়ো না, সেটা ছুঁয়ো না,” প্রয়োগ করার সঙ্গে সঙ্গেই তো এর প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়, কারণ মানুষের তৈরি বিধিনিষেধ এবং শিক্ষার উপর ভিত্তি করেই এগুলি গড়ে উঠেছে।

[22] তাদের স্ব-আরোপিত আরাধনা, ভ্রান্ত নম্রতা এবং কঠোর শারীরিক কৃচ্ছ্রসাধন দেখে এরকম আচার-বিচারের মধ্যে জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া গেলেও,

[23] শারীরিক কামনা-বাসনা নিবৃত্তির ক্ষেত্রে এগুলি মূল্যহীন।

কলসীয় — Chapters