[1] সদাপ্রভু যখন দাউদকে তাঁর সব শত্রুর তথা শৌলের হাত থেকে উদ্ধার করলেন, তখন সদাপ্রভুর উদ্দেশে তিনি এই গানের কথাগুলি গেয়ে উঠেছিলেন।
[2] তিনি বললেন: “সদাপ্রভু আমার শৈল, আমার উচ্চদুর্গ ও আমার উদ্ধারকর্তা;
[3] আমার ঈশ্বরই আমার শৈল, যাঁতে আমি আশ্রয় নিই, আমার ঢাল ও আমার ত্রাণ-শৃঙ্গ। তিনিই আমার দুর্গ, আমার আশ্রয়স্থল ও আমার পরিত্রাতা। মারমুখী লোকদের হাত থেকে তুমিই আমাকে রক্ষা করে থাকো।
[4] “আমি সেই সদাপ্রভুকে ডেকেছি, যিনি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য, ও আমার শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি।
[5] মৃত্যুর তরঙ্গ আমায় ঘিরে ধরেছিল; ধ্বংসের স্রোত আমায় ভাসিয়ে দিয়েছিল।
[6] কবরের দড়িগুলি আমায় বেঁধে ফেলেছিল; মৃত্যুর ফাঁদগুলি আমার সম্মুখীন হল।
[7] “সংকটে আমি সদাপ্রভুকে ডেকেছিলাম; আমার ঈশ্বরকে ডেকেছিলাম। তাঁর মন্দির থেকে তিনি আমার রব শুনেছিলেন; আমার কান্না তাঁর কানে ঢুকেছিল।
[8] পৃথিবী দুলে ও কেঁপে উঠেছিল, আকাশমণ্ডলের ভিত্তিগুলিও নড়ে গেল; সেগুলি নড়েছিল কারণ তিনি ক্রুদ্ধ হলেন।
[9] তাঁর নাক থেকে ধোঁয়া উঠেছিল; গ্রাসকারী আগুন তাঁর মুখ থেকে এসেছিল, তপ্ত কয়লার আগুন সেখান থেকে ছিটকে ছিল।
[10] আকাশ দুইভাগ করে তিনি নেমে এলেন; ঘন মেঘরাজি তাঁর পদতলে ছিল।
[11] করূবের পিঠে চড়ে তিনি উড়ে এলেন; বাতাসের ডানায় ভর করে তিনি শূন্যে ভেসেছিলেন।
[12] অন্ধকারে তিনি নিজেকে আবৃত করলেন, আকাশ বৃষ্টির ঘনঘোর মেঘে ছেয়ে ছিল।
[13] তাঁর উপস্থিতির উজ্জ্বলতা থেকে বজ্রপাতে আগুন ফেটে পড়েছিল।
[14] সদাপ্রভু আকাশ থেকে গর্জে ছিলেন; পরাৎপরের রব ধ্বনিত হল।
[15] তিনি তির ছুঁড়ে শত্রুদের ছত্রভঙ্গ করলেন, মহাবজ্রপাতে তিনি তাদের পর্যুদস্ত করলেন।
[16] সাগরের উপত্যকা সব প্রকাশিত হল; আর ধরামূলগুলি উন্মুক্ত হল; সদাপ্রভুর ধমকে তা হল, তা তাঁর নিশ্বাসের বেগে হল।
[17] “উপর থেকে হাত বাড়িয়ে আমায় তিনি ধরেছিলেন; গভীর জলের মধ্যে থেকে তিনি আমায় তুললেন।
[18] আমায় তিনি শক্তিশালী শত্রু থেকে বাঁচিয়েছিলেন, আমার সব প্রতিপক্ষ থেকে, যারা আমার চেয়েও বলশালী।
[19] আমার সর্বনাশের দিনে তারা আমার মোকাবিলা করল, কিন্তু সদাপ্রভু আমার অবলম্বন হলেন।
[20] তিনি আমায় বাইরে এক প্রশস্ত স্থানে এনেছিলেন; তিনি আমায় বাঁচিয়েছিলেন কারণ তিনি আমার উপর প্রসন্ন ছিলেন।
[21] “আমার ধার্মিকতা অনুসারে সদাপ্রভু আমার সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছিলেন; আমার শুচি হাত অনুসারে তিনি আমায় পুরস্কৃত করেছেন।
[22] কারণ আমি সদাপ্রভুর পন্থা পালন করেছি; আমার ঈশ্বরের কাছ থেকে সরে গিয়ে আমি দোষী হইনি।
[23] তাঁর সব বিধান আমার সামনে আছে; কখনও আমি তাঁর বিধিপথ থেকে সরিনি।
[24] আমি তাঁর সামনে নির্দোষ থেকেছি আর সব পাপতাপ থেকে নিজেকে শুদ্ধ রেখেছি।
[25] সদাপ্রভু আমার ধার্মিকতা দেখে আমায় পুরস্কৃত করেছেন, তাঁর দৃষ্টিতে আমার বিশুদ্ধতা দেখে।
[26] “বিশ্বস্তের কাছে তুমি নিজেকে বিশ্বস্ত দেখাও, নির্দোষের কাছে তুমি নিজেকে নির্দোষ দেখাও,
[27] শুচিশুদ্ধের কাছে তুমি নিজেকে শুচিশুদ্ধ দেখাও, কিন্তু কুটিলের কাছে তুমি নিজেকে বিচক্ষণ দেখাও।
[28] তুমি নম্রকে রক্ষা করো, কিন্তু অহংকারীদের নত করার জন্য তোমার দৃষ্টি তাদের উপর আছে।
[29] তুমি, সদাপ্রভু, আমার প্রদীপ; সদাপ্রভু আমার আঁধার আলোতে পরিণত করলেন।
[30] তোমার সাহায্য নিয়ে আমি এক সৈন্যদলের বিরুদ্ধে এগিয়ে যেতে পারি; আমার ঈশ্বরকে সঙ্গে নিয়ে আমি দেয়ালে চড়তে পারি।
[31] “তিনি ঈশ্বর, তাঁর পথ সিদ্ধ: সদাপ্রভুর বাক্য নির্ভুল বলে প্রমাণিত; যারা তাঁর আশ্রয় নেয় তাদের তিনি ঢাল হয়ে রক্ষা করলেন।
[32] সদাপ্রভু ছাড়া আর ঈশ্বর কে আছে? আমাদের ঈশ্বর ছাড়া আর শৈল কে আছে?
[33] ঈশ্বরই আমায় শক্তি জোগান আর আমার পথ সুরক্ষিত রাখেন।
[34] তিনি আমার চরণ হরিণের চরণের মতো করলেন; তিনি আমায় উচ্চস্থলীর শীর্ষে দাঁড় করান।
[35] তিনি আমার হাতকে যুদ্ধ করতে শিখিয়েছেন; আমার হাত তাই পিতলের ধনুক বাঁকা করতে পারে।
[36] রক্ষাকারী সাহায্য দিয়ে আমার ঢাল গড়েছ; তোমার দেওয়া সাহায্য আমায় মহান করেছে।
[37] তুমি আমার চলার জন্য প্রশস্ত এক পথের জোগান দিয়েছ, যেন আমার গোড়ালি হাল না ছেড়ে দেয়।
[38] “আমার শত্রুদের পিছু ধাওয়া করে আমি তাদের চূর্ণবিচূর্ণ করেছি; তারা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত আমি ফিরে আসিনি।
[39] আমি তাদের পুরোপুরি চূর্ণবিচূর্ণ করেছি, আর তারা উঠতে পারেনি; তারা আমার চরণতলে পড়ে গিয়েছে।
[40] যুদ্ধের জন্য তুমি আমায় শক্তি দিয়ে সাজিয়েছ; আমার সামনে তুমি আমার বিপক্ষদের নত করেছ।
[41] আমার শত্রুদের তুমি পিছু ফিরে পালাতে বাধ্য করেছ, আর আমি আমার প্রতিপক্ষদের ধ্বংস করেছি।
[42] তারা সাহায্য চেয়ে কেঁদেছিল, কিন্তু তাদের রক্ষা করার কেউ ছিল না— তারা সদাপ্রভুর কাছে কেঁদেছিল, কিন্তু তিনি তাদের উত্তর দেননি।
[43] পৃথিবীর ধূলিকণার মতো মিহি করে আমি তাদের গুঁড়ো করেছি; পথের কাদা-মাটির মতো আমি তাদের পিষ্ট করে মাড়িয়েছি।
[44] “লোকজনের আক্রমণ থেকে তুমি আমায় বাঁচিয়েছ; জাতিদের কর্তারূপে তুমি আমায় রক্ষা করে রেখেছ। আমার অপরিচিত লোকেরা এখন আমার সেবা করছে,
[45] বিদেশিরা আমার সামনে কুঁকড়ে যায়; যখনই তারা আমার কথা শোনে, তারা আমার বাধ্য হয়।
[46] তারা সবাই ভেঙে পড়ে; তারা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তাদের দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসে।
[47] “সদাপ্রভু জীবিত! আমার শৈলের প্রশংসা হোক! আমার ঈশ্বর উন্নত হোন, সেই শৈল, আমার ত্রাণকর্তা!
[48] তিনি সেই ঈশ্বর যিনি আমার হয়ে প্রতিশোধ নেন, যিনি জাতিগণকে আমার অধীনস্থ করেন,
[49] যিনি শত্রুদের হাত থেকে আমাকে মুক্ত করলেন। আমার প্রতিপক্ষদের উপরে তুমি আমাকে উন্নত করেছ; মারমুখী লোকের হাত থেকে তুমি আমাকে বাঁচিয়েছ।
[50] তাই সদাপ্রভু, জাতিদের মধ্যে আমি তোমার প্রশংসা করব; আমি তোমার নামের প্রশংসা-গান করব।
[51] “তিনি তাঁর রাজাকে মহাবিজয় দেন; তিনি তাঁর অভিষিক্ত-জনের প্রতি অফুরান দয়া দেখান, দাউদের প্রতি ও চিরকাল তাঁর বংশধরদের প্রতিও দেখান।”