[1] ও আমার ভাই অকল, তুমরা যেবলা আমরার কুদরতি মালিক হজরত ইছা আল-মসীর উপরে ইমান আনছো, তে হকলরে এক নজরে দেখিও।
[2] ধরো, একজন মানুষ তুমরার মজলিছ খানাত সুন্দর কাপড়-চুপড় ফিন্দিয়া আতো সোনার আংটি লাগাইয়া আইলো, আর ময়লা কাপড় ফিন্দিয়া একজন গরিব মানুষও আইলো।
[3] তুমরা যুদি সুন্দর কাপড় আলা মানষর মুখেদি চাইয়া কও, “আপনে অউ ভালা জাগাখানো বউক্কা,” আর গরিব বেটারে কও, “ওবা, তুই হনো উবা, আরনায় আমার পাওর কান্দাত বও,”
[4] তে তুমরা নিজর মাজে হার-পর কররায় না নি, আর শয়তানি নিয়তে বিচার কররায় না নি?
[5] ও আমার মায়ার ভাই অকল, হুনো। ই দুনিয়ার গরিব মানষরে আল্লায় পছন্দ করছইন না নি ইমানে ধনি বানানির লাগি? আল্লার আশিক মানষরে আল্লায় যে বাদশাই দেওয়ার ওয়াদা করছলা, ই বাদশাইর মালিক অওয়ার লাগি তাইন গরিব অকলরে পছন্দ করছইন না নি?
[6] অইলে তুমরা তো ই গরিব অকলরে এলামি করছো। ধনি অকলে কিতা তুমরারে জুলুম করে না নি? তারাউ তো তুমরারে টানিয়া-ছেছরাইয়া বিচারো লইয়া যায়।
[7] যে মহান নামর খাতিরে তুমরারে ডাকা অয়, তারা কিতা ই নামরে লইয়া কুফুরি করের না নি?
[8] পাক কিতাবো লেখা আছে, “তুমার আরি-ফরিরে নিজর লাখান মায়া করিও,” তুমরা যুদি হাছাউ আল্লার বাদশাইর অউ হুকুম আমল করো, তে তো ভালাউ কররায়।
[9] অইলে তুমরা যুদি হকলরে এক নজরে না দেখো, তে তো গুনা কররায়, আর শরিয়তর বরখেলাফ করিয়া দুষি অইরায়।
[10] কেউ যুদি শরিয়তর হক্কল হুকুম আমল করিয়াও খালি এক হুকুম ভাংগে, তে ধরা অইবো হে আস্তা শরিয়তউ অমাইন্য করছে।
[11] কারন যেইন কইছইন, “জিনা করিও না,” তাইনউ হিরবার কইছইন, “খুন করিও না।” তে তুমি যুদি জিনা না করিয়া খুন করো, তেবউ তো শরিয়তর বরখেলাফ করছো।
[12] যে আইনে মানষরে আজাদ করে, অউ আইন দিয়াউ তুমরার বিচার অইবো। গতিকে বুজি-হুনি মাত মাতো আর কাম করো।
[13] মনো রাখিও, যে মানষে দয়া করছে না, বিচারর সময় তারেও দয়া করা অইতো নায়। হাশরর ময়দানো দয়াগির অকলেউ দয়া পাইব।
[14] ও আমার ভাই অকল, কেউ যুদি কয় আমার ইমান আছে, অইলে আমল না করে, তে ফায়দা কিতা অইবো? ই ইমানে তারে বাচাইতো পারবো নি?
[15] মনো করো, তুমরার কুনু ভাই বা বইনর ঘরো খানি নাই, ফিন্দার কাপড়ও নাই।
[16] ই হালতে যুদি তারে কও, “তুমার ভালাই অউক, খাইয়া-ফিন্দিয়া সুখে রও,” অইলে তার নিদান হরানির লাগি কুনু উপায় না করো, তে তার কুনু ফায়দা অইলো নি?
[17] অলাখান যে ইমানর লগে আমল নাই, ই ইমান তো মুর্দা।
[18] মনো করো কেউ কইলো, “তুমার ইমান আছে আর আমার আমল আছে।” ঠিক আছে, তুমার আমল ছাড়া ইমান আমারে দেখাও, আর আমি তুমারে আমার আমলর মাজ দিয়া ইমান দেখাইমু।
[19] তুমি একিন করছো আল্লা এক, খুব ভালা কথা। ভুতেও তো অলা একিন করে, আর আল্লার ডরে কাপে।
[20] ও বেআখল, তুমারে আমি কিলা বুজাইতাম, আমল ছাড়া ইমান তো কুনু কামর নায়?
[21] আমরার বাফ ইব্রাহিমে যেবলা তান পুয়া ইছহাকরে কুরবানি দেওয়ার লাগি কুরবানির জাগাত নিছলা, ই সময় কিতা তান ই কামর লাগি তানরে পরেজগার হিসাবে কবুল করা অইছে না নি?
[22] তুমি তো দেখছো, তান ইমান আর আমল একলগে কাম করছিল, আর আমলর লাগিউ ইমান কামিয়াব অইলো।
[23] অলাখান পাক কিতাবর আয়াত পুরা অইলো, “ইব্রাহিমে আল্লার ওয়াদায় ইমান আনায়, আল্লায় তানরে দীনদার কইয়া কবুল করলা।” তান উপাধি দিলা আল্লার দুস্ত।
[24] তুমরা তো দেখলায়, আমলর লাগি মানষরে পরেজগার হিসাবে কবুল করা অয়, খালি ইমানর লাগি নায়।
[25] অউ লাখান হউ ছিনাল বেটি রাহবারেও তাইর আমলর লাগি পরেজগার হিসাবে কবুল করা অইছিল না নি? তাই তো হউ দুইও গুইয়ারে লুকাইয়া রাখিয়া, দুছরা পথেদি ছহি-ছালামতে বার করি দিছিল।
[26] অউ হালতে আমরা বুজতাম পারি, রুহ ছাড়া কায়া মুর্দা, আমল ছাড়া ইমানও মুর্দা।