Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 8:54

[1] রাজা বেলশৎসর এক হাজার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য এক মহাভোজ দিলেন ও তাদের সঙ্গে দ্রাক্ষারস পান করলেন।

[2] বেলশৎসর যখন দ্রাক্ষারস পান করছিলেন, তিনি আদেশ দিলেন সেইসব সোনারুপোর পানপাত্র সেখানে আনা হোক যেগুলি তার বাবা নেবুখাদনেজার জেরুশালেমের মন্দির থেকে নিয়েছিলেন, যেন রাজা ও তার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ, তার পত্নীগণ ও উপপত্নীগণ সকলে সেইসব পাত্রে দ্রাক্ষারস পান করতে পারেন।

[3] তখন তারা সোনার পানপাত্র গুলি নিয়ে এল যেগুলি জেরুশালেমে অবস্থিত ঈশ্বরের মন্দির থেকে নেওয়া হয়েছিল এবং রাজা ও তার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ, রাজার পত্নীগণ ও উপপত্নীগণ সেই পাত্রগুলিতে দ্রাক্ষারস পান করলেন।

[4] তারা দ্রাক্ষারস পান করতে করতে সোনা, রুপো, পিতল, লোহা, কাঠ ও পাথরের দেবতাদের জয়গান করলেন।

[5] হঠাৎ একটি মানুষের হাতের আঙ্গুল দেখা গেল ও সেই আঙ্গুলগুলি রাজপ্রাসাদের দেওয়ালে, বাতিদানের কাছে কিছু লিখতে শুরু করল। যে হাত লিখছিল রাজা সেই হাত দেখলেন।

[6] রাজার মুখ বিবর্ণ হয়ে উঠল ও রাজা এতটাই ভীত হলেন যে তার পা দুর্বল হয়ে উঠল এবং তার হাঁটু কাঁপতে লাগল।

[7] রাজা চিৎকার করে মায়াবী, জ্যোতিষী ও গণকদের ডেকে পাঠালেন। তিনি ব্যাবিলনের সেইসব জ্ঞানীদের বললেন, “এই লেখাগুলি যে পড়তে পারবে ও আমাকে এর মানে বলতে পারবে, তাকে বেগুনি রংয়ের রাজপোশাক পরানো হবে, গলায় সোনার হার পরানো হবে এবং তাকে রাজ্যের তৃতীয় উচ্চতম শাসক করা হবে।”

[8] তখন রাজার সকল জ্ঞানী ব্যক্তিরা এগিয়ে এল কিন্তু কেউ সেই লেখা পড়তে পারল না বা রাজাকে তার মানেও বলতে পারল না।

[9] তখন রাজা বেলশৎসর আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে উঠলেন এবং তার মুখ আরও বিবর্ণ হয়ে উঠল। তার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ হতবুদ্ধি হলেন।

[10] মহারানি, যখন রাজার ও তার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের গলা শুনলেন, মহাভোজের স্থানে এলেন, ও বললেন, “মহারাজ চিরজীবী হোন! আতঙ্কিত হবেন না! আপনার মুখ বিবর্ণ হতে দেবেন না!

[11] আপনার রাজ্যে এক ব্যক্তি আছে যার অন্তরে পবিত্র দেবতাদের আত্মা অবস্থান করে। আপনার বাবার রাজত্বকালে তার মধ্যে দেবতাদের ন্যায় অন্তর্দৃষ্টি, বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল। আপনার বাবা, রাজা নেবুখাদনেজার, তাকে সমস্ত মন্ত্রবেত্তা, মায়াবী, জ্যোতিষী ও গণকদের প্রধান নিযুক্ত করেছিলেন।

[12] আপনার বাবা এই কাজ করেছিলেন কারণ দানিয়েলের, যাকে রাজা বেল্টশৎসর নাম দিয়েছিলেন, মধ্যে গভীর চিন্তাভাবনা, জ্ঞান, বোধশক্তি, এমনকি স্বপ্নের মানে বুঝিয়ে বলার ক্ষমতা, ধাঁধা বুঝিয়ে বলা ও কঠিন সমস্যা সমাধান করার দক্ষতা ছিল। আপনি তাকে ডেকে পাঠান এবং তিনি এই লেখার মানে আপনাকে বুঝিয়ে দেবেন।”

[13] তখন দানিয়েলকে রাজার সামনে হাজির করা হল এবং রাজা তাকে বললেন, “তুমি কি দানিয়েল, যাকে আমার বাবা যিহূদা থেকে এখানে নির্বাসনে এনেছিলেন?

[14] আমি শুনেছি যে তোমার অন্তরে দেবতাদের আত্মা বাস করেন, তাই তোমার মধ্যে অন্তর্দৃষ্টি, বুদ্ধিমত্তা ও অসাধারণ জ্ঞান রয়েছে।

[15] দেওয়ালের এই লেখাটি পড়ে মানে বলবার জন্য রাজ্যের সব জ্ঞানী ও মায়াবীদের এখানে আনা হয়েছিল কিন্তু তারা কেউই এর মানে বলতে পারেনি।

[16] আমি এমনও শুনেছি যে তুমি রহস্য ব্যাখ্যা করতে ও কঠিন সমস্যা সমাধান করতে পারো। যদি তুমি এই লেখাটি পড়তে পারো ও আমাকে তার মানে বলতে পারো, তাহলে তোমাকে বেগুনি রংয়ের রাজপোশাক পরানো হবে, গলায় সোনার হার পরানো হবে এবং রাজ্যের তৃতীয় উচ্চতম শাসক হিসেবে তোমাকে নিযুক্ত করা হবে।”

[17] তখন দানিয়েল রাজাকে উত্তর দিলেন, আপনার উপহার আপনি নিজের কাছেই রাখুন ও আপনার পুরস্কার আপনি অন্য কাউকে দিন। কিন্তু আমি মহারাজের কাছে এই লেখাটি পড়ব এবং তার মানে আপনাকে বলব।

[18] “হে মহারাজ, পরাৎপর ঈশ্বর আপনার বাবা নেবুখাদনেজারকে আধিপত্য, মাহাত্ম্য, মহিমা ও প্রতিপত্তি দিয়েছিলেন।

[19] তিনি তাকে যে মহিমা দিয়েছিলেন তা দেখে প্রত্যেক জাতি ও ভাষাভাষীর মানুষেরা তার সাক্ষাতে কাঁপত ও ভয় করত। রাজা যাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে চাইতেন, তাকে হত্যা করতেন, যাকে বাঁচাতে চাইতেন তাকে জীবন দিতেন; যার উন্নতি চাইতেন তার উন্নতি হত আবার যার অবনতি চাইতেন তার পতন হত।

[20] কিন্তু যখন তার হৃদয় অহংকারী হল এবং গর্বে কঠিন হল, তিনি আপন সিংহাসন হারালেন এবং সব গৌরব থেকে বিচ্যুত হলেন।

[21] মানুষের সমাজ থেকে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হল, তাকে বন্যপশুর মন দেওয়া হল; বুনো গাধার সঙ্গে বাস করলেন, বলদের মতো ঘাস খেলেন; আকাশের শিশিরে তার শরীর ভিজল, যতক্ষণ না পর্যন্ত তিনি স্বীকার করলেন যে পরাৎপর ঈশ্বর জগতের সমস্ত রাজ্যের উপর সার্বভৌম এবং তিনি যাকে ভাল মনে করেন তার হাতে রাজত্বভার তুলে দেন।

[22] “কিন্তু আপনি, বেলশৎসর, তার পুত্র, এসব জেনেও নিজেকে ঈশ্বরের সামনে নম্র করেননি।

[23] বরং আপনি স্বর্গের ঈশ্বরের বিরুদ্ধে নিজেকে তুলে ধরেছেন। ঈশ্বরের মন্দির থেকে আনা পবিত্র পাত্রগুলিতে আপনি, আপনার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ, আপনার পত্নীগণ ও উপপত্নীগণ দ্রাক্ষারস পান করেছেন। রুপো, সোনা, পিতল, লোহা, কাঠ ও পাথরের দেবতাদের, যারা দেখতে, শুনতে বা বুঝতে পারে না, আপনি তাদের আরাধনা করছেন। কিন্তু আপনি সেই ঈশ্বরের আরাধনা করেননি যিনি আপনাকে জীবন দেন এবং আপনার নিয়তি নিয়ন্ত্রণ করেন!

[24] তাই তিনি সেই হাত পাঠিয়েছেন যা এই লেখা লিখেছে।

[25] “এই বার্তা লেখা হয়েছে: মেনে, মেনে, তেকেল, পারসিন

[26] “এই শব্দগুলির মানে হল: “মেনে: ঈশ্বর আপনার রাজত্বের দিনগুলি গুনেছেন এবং তা শেষ করেছেন।

[27] “তেকেল: আপনাকে দাড়িপাল্লায় ওজন করা হয়েছে এবং ওজনে ঘাটতি রয়েছে।

[28] “পারসিন: আপনার রাজ্য বিভক্ত হয়েছে এবং মাদীয় ও পারসিকদেরকে দেওয়া হয়েছে।”

[29] তখন বেলশৎসরের আদেশে, দানিয়েলকে বেগুনি রংয়ের রাজকীয় পোশাক ও গলায় সোনার হার পরান হল এবং তাকে রাজ্যের তৃতীয় উচ্চতম শাসক ঘোষণা করা হল।

[30] ঠিক সেরাতেই ব্যাবিলনীয়দের রাজা বেলশৎসর নিহত হলেন,

[31] এবং মাদীয়বাসী দারিয়াবস, বাষট্টি বছর বয়েসে, রাজ্য দখল করলেন।

দানিয়েল — Chapters