Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 5:08

[1] পরে পঞ্চম স্বর্গদূত তূরী বাজালেন, আর আমি দেখলাম স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে একটা তারা খসে পড়ল আর তারাটাকে অতল কূপ খোলার চাবি দেওয়া হল৷

[2] নক্ষত্রটি অগাধ লোকের কূপটি খুলল৷ তত্ক্ষনাত্ ঐ কূপ থেকে বিরাট অগ্নিকুণ্ডের মধ্য থেকে যেমন ধোঁয়া বার হয় তেমনি ধোঁয়া নির্গত হল৷ এই ধোঁয়ার জন্য সূর্য ও বায়ুমণ্ডল অন্ধকার হয়ে গেল৷

[3] পরে সেই ধোঁয়া থেকে পঙ্গপালের ঝাঁক বার হয়ে পৃথিবীতে এল আর পৃথিবীর কাঁকড়া বিছের মধ্যে যে ক্ষমতা থাকে তাদের তা দেওয়া হল৷

[4] পঙ্গপালদের বলা হল যেন তারা ঘাস, চারাগাছ বা পৃথিবীর গাছপালার কোন ক্ষতি না করে, কেবল তাদেরই ক্ষতি করে যাদের কপালে ঈশ্বরের চিহ্ন নেই৷

[5] ঐ লোকদের মেরে ফেলতে তাদের অনুমতি দেওয়া হল না, কেবল পাঁচ মাস পর্যন্ত তাদের যন্ত্রণা দেবার অনুমতি দেওয়া হল৷ তাদের যন্ত্রণা, কাঁকড়াবিছে কামড়ালে মানুষের যেমন যন্ত্রণা হয় তেমনি হবে৷

[6] তখন মানুষ মরতে চাইলেও মরতে পারবে না৷ তারা মৃত্যুর আকাঙ্খা করবে; কিন্তু মৃত্যু তাদের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে৷

[7] সেই পঙ্গপালদের দেখতে যেন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ঘোড়ার মতো৷ তাদের মাথায় সোনার মুকুটের মতো মুকুট ছিল৷ তাদের মুখমণ্ডল যেন মানুষের মুখগুলির মতো৷

[8] স্ত্রীলোকের চুলের মতো তাদের মাথার চুল, আর তাদের দাঁত সিংহের দাঁতের মতো৷

[9] বুকে তাদের বর্ম পরা, তা লোহার বর্মের মতো; আর বহু ঘোড়ায় টানা যুদ্ধের রথ ছুটলে যেমন আওয়াজ হয় তেমনি তাদের ডানার শব্দ৷

[10] তাদের হুলযুক্ত লেজ ছিল কাঁকড়া বিছের মতো৷ পাঁচ মাস পর্যন্ত তারা মানুষের যে ক্ষতি করবে তার ক্ষমতা ঐ লেজের মধ্যে আছে৷

[11] ঐ পঙ্গপালের রাজা হচ্ছে অগাধ লোকের স্বর্গদূত৷ ইব্রীয় ভাষায় তার নাম “আবদ্দোন,” গ্রীক ভাষায় “আপল্লুযোন” যার অর্থ বিনাশকারী৷

[12] প্রথম সন্তাপ কাটল, দেখ, এরপর আরও দুটি সন্তাপ আসছে৷

[13] পরে ষষ্ঠ স্বর্গদূত তূরী বাজালে আমি ঈশ্বরের সামনে সোনার যজ্ঞবেদীর যে চারটি শিং আছে তার মধ্য থেকে এক বাণী শুনতে পেলাম,

[14] সেই কন্ঠস্বর ষষ্ঠ তূরীধারী স্বর্গদূতকে বললেন, “ইউফ্রেটিস মহানদীর কাছে যে চারজন স্বর্গদূত হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আছেন তাদের মুক্ত কর৷”

[15] তখন পৃথিবীর মানুষের এক তৃতীয়াংশ ধ্বংস করার জন্য যে চারজন স্বর্গদূতকে সেই বিশেষ মুহূর্ত, দিন, মাস ও বছরের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল তাদের মুক্ত করা হল৷

[16] তাদের দলে ছিল বিশ কোটি অশ্বারোহী সৈন্য৷ আমি তাদের সেই সংখ্যা গুনলাম৷

[17] আমি এক দর্শনের মাধ্যমে সেই ঘোড়াগুলিকে ও তাদের ওপর যাঁরা বসেছিল তাদের এইরকম দেখলাম: তাদের বর্ম ছিল আগুনের মতো লাল, ঘন নীল ও গন্ধকের মতো হলদে রঙের৷ ঘোড়াগুলির মাথা সিংহের মতো৷

[18] তাদের মুখ থেকে তিনটি আঘাতে আগুন, ধোঁয়া, গন্ধক নির্গত হচ্ছিল, তার দ্বারা পৃথিবীর মানুষের এক তৃতীয়াংশ লোক মারা পড়ল৷

[19] সেই ঘোড়াগুলির আঘাত করার শক্তি তাদের মুখে ও লেজে ছিল৷ তাদের লেজ সাপের মতো মাথাওয়ালা, তারা দ্বারা তারা ক্ষতি করতে পারত৷

[20] এই সব আঘাত পাওয়া সত্ত্বেও যাঁরা মরল না বাকি সেই লোকেরা নিজেরা নিজের হাতে গড়া বস্তুর থেকে মন-ফেরালো না৷ তারা ভূতপ্রেত ও সোনা, রূপা, পিতল, পাথর এবং কাঠের তৈরী মূর্ত্তি পূজা করা থেকে বিরত হল না — সেইসব মূর্ত্তি, যারা না দেখতে পায়, না শুনতে বা কথা বলতে পারে৷

[21] তারা নরহত্যা, মোহিনীবিদ্যা, ব্যভিচার এবং চুরির জন্য অনুতপ্ত হল না৷

প্রকাশিত বাক্য — Chapters