[1] পরে যীশু তাঁর শিষ্যদের নিয়ে সেখান থেকে নিজের শহরে চলে এলেন৷
[2] এরপর তিনি বিশ্রামবারে সমাজ-গৃহে শিক্ষা দিতে লাগলেন; আর সমস্ত লোক তাঁর শিক্ষা শুনে আশ্চর্য হল৷ তারা বলল, “এ কোথা থেকে এ সমস্ত বিজ্ঞতা অর্জন করল? এ কি করে এমন বিজ্ঞতার সঙ্গে কথা বলে? কি করেই বা এইসব অলৌকিক কাজ করে?
[3] এ তো সেই ছুতোর মিস্ত্রি এবং মরিয়মের ছেলে; যাকোব, য়োসি, যিহূদা ও শিমোনের ভাই; তাই নয় কি? আর এর বোনেরা কি আমাদের মধ্যে নেই?” এইসব চিন্তা তাদের মাথায় আসায় তারা তাঁকে গ্রহণ করতে পারল না৷
[4] তখন যীশু তাদের বললেন, “নিজের শহর ও নিজের আত্মীয় স্বজন এবং পরিজনদের মধ্যে ভাববাদী সম্মানিত হন না৷”
[5] তিনি সেখানে কোন অলৌকিক কাজ করতে পারলেন না৷ শুধু কয়েকজন রোগীর ওপর হাত রেখে তাদের সুস্থ করলেন৷
[6] তারা যে তাঁর ওপর বিশ্বাস করল না, এতে তিনি আশ্চর্য হয়ে গেলেন৷ এর পরে তিনি চারদিকে গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিক্ষা দিলেন৷
[7] পরে তিনি সেই বারোজনকে ডেকে দুজন দুজন করে তাঁদের পাঠাতে শুরু করলেন এবং তাঁদের অশুচি আত্মার ওপরে ক্ষমতা দান করলেন৷
[8] তিনি তাঁদের আদেশ দিলেন যেন তাঁরা পথে চলবার জন্য একটা লাঠি ছাড়া আর কিছু সঙ্গে না নেয় এবং রুটি, থলে এমনকি কোমরবন্ধনীতে কোন টাকাপয়সা নিতেও বারণ করলেন৷
[9] তবে বললেন, পায়ে জুতো পরবে কিন্তু কোন বাড়তি জামা নেবে না৷
[10] তিনি আরও বললেন, তোমরা যে কোন শহরে যে বাড়িতে ঢুকবে, সেই শহর না ছাড়া পর্যন্ত সেই বাড়িতে থেকো৷
[11] যদি কোন শহরের লোক তোমাদের গ্রহণ না করে বা তোমাদের কথা না শোনে তবে সেখান থেকে চলে যাবার সময় তাদের উদ্দেশ্যে সাক্ষ্যের জন্য নিজের নিজের পায়ের ধূলো সেখানে ঝেড়ে ফেলো৷
[12] পরে তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়লেন, প্রচার করতে আরম্ভ করলেন এবং লোকদের মন-ফেরাতে বললেন৷
[13] তাঁরা অনেক ভূত ছাড়ালেন ও অনেক লোককে তেল মাখিয়ে সুস্থ করলেন৷
[14] যীশুর সুনাম চারদিকে এমন ছড়িয়ে পড়েছিল, যে রাজা হেরোদও সে কথা শুনতে পেলেন৷ কিছু লোক বলল, “বাপ্তিস্মদাতা যোহন বেঁচে উঠেছেন, আর সেইজন্যই তিনি এইসব অলৌকিক কাজ করছেন৷”
[15] কিন্তু কেউ কেউ বলল, “তিনি এলীয়৷” আবার কেউ কেউ বলল, “তিনি প্রাচীনকালের কোন ভাববাদীর মতোই একালের একজন ভাববাদী৷”
[16] কিন্তু হেরোদ তাঁর কথা শুনে বললেন, “উনি সেই যোহন, যাঁর মাথা কেটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলাম, তিনিই আবার বেঁচে উঠেছেন৷”
[17] হেরোদ নিজের ভাই ফিলিপের স্ত্রী হেরোদিয়াকে বিয়ে করেছিলেন, সেই জন্য নিজের লোক পাঠিয়ে যোহনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রেখেছিলেন৷
[18] কারণ যোহন হেরোদকে বলেছিলেন, “ভাইয়ের স্ত্রীকে নিজের কাছে রাখা ঠিক নয়৷”
[19] হেরোদিয়া রাগে যোহনকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল, কিন্তু পারে নি৷
[20] কারণ হেরোদ যোহনকে ধার্মিক এবং পবিত্র লোক জেনে ভয় করতেন, সেইজন্যে তিনি তাঁকে রক্ষা করতেন৷ তাঁর কথা শুনে তিনি অত্যন্ত বিচলিত হতেন তবুও তাঁর কথা শুনতে ভালবাসতেন৷
[21] শেষ পর্যন্ত হেরোদিয়া যা চেয়েছিলেন সেই সুযোগ এসে গেল৷ হেরোদ তাঁর জন্মদিনে প্রাসাদের উচ্চপদস্থ কর্মচারী, সেনাবাহিনীর অধ্যক্ষ ও গালীলের গন্যমান্য নাগরিকদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করলেন;
[22] আর হেরোদিয়ার মেয়ে এসে রাজা ও নিমন্ত্রিত অতিথিদের নাচ দেখিয়ে মুগ্ধ করল৷ রাজা সেই মেয়েকে বললেন, “আমাকে বল তুমি কি চাও? তুমি যা চাইবে তা-ই দেব৷”
[23] তিনি শপথ করে আরো বললেন, “আমার কাছে যা চাইবে আমি তাই দেব, এমনকি অর্ধেক রাজ্যও দেব৷”
[24] তাতে সে বেরিয়ে গিয়ে তার মাকে জিজ্ঞাসা করল, “আমি কি চাইব?” সে বলল, “বাপ্তিস্মদাতা যোহনের মাথা৷”
[25] মেয়েটি তাড়াতাড়ি রাজার কাছে ফিরে গেল এবং বলল, “আমার ইচ্ছা যে, আপনি বাপ্তিস্মদাতা যোহনের মাথাটি এনে এখনই থালায় করে আমাকে দিন৷”
[26] তাতে রাজা হেরোদ দুঃখ পেলেন: কিন্তু নিজের শপথের জন্য এবং ভোজসভার অতিথিদের জন্য তিনি মেয়েকে ফেরাতে চাইলেন না৷
[27] তাই রাজা সঙ্গে সঙ্গে একজন সেনাকে যোহনের মাথা কেটে নিয়ে আসতে পাঠালেন৷ সে কারাগারে গিয়ে তাঁর শিরশ্ছেদ করল,
[28] এবং থালায় করে মাথাটি নিয়ে মেয়েটিকে দিল, মেয়েটি তা তার মাকে দিল৷
[29] এই সংবাদ শুনে যোহনের শিষ্যরা এসে, তাঁর দেহটিকে নিয়ে গিয়ে কবর দিলেন৷
[30] এরপর যে প্রেরিতদের যীশু প্রচার করতে পাঠিয়েছিলেন, তাঁরা যীশুর কাছে ফিরে এসে যা কিছু করেছিলেন ও যা কিছু শিক্ষা দিয়েছিলেন সে সব কথা তাঁকে জানালেন৷
[31] তখন তিনি তাঁদের বললেন, “তোমরা কোন নির্জন স্থানে গিয়ে একটু বিশ্রাম কর৷” কারণ এত লোক যাতায়াত করছিল যে তাঁদের খাবার সময় হচ্ছিল না৷
[32] তাই তাঁরা নৌকা করে কোন নির্জন স্থানে চললেন৷
[33] কিন্তু লোকরা তাঁদের যেতে দেখল এবং অনেকে তাঁদের চিনতে পারল, তাই সমস্ত শহর থেকে লোকেরা বার হয়ে কিনারা ধরে দৌড়ে তাঁদের আগে সেখানে পৌঁছল৷
[34] যীশু নৌকা থেকে বাইরে বেরিয়ে বহু লোককে দেখতে পেলেন, তাঁর প্রাণে তাদের জন্য খুবই দয়া হল; কারণ তাদের পালকহীন মেষপালের মতো দেখাচ্ছিল৷ তখন তিনি তাদের অনেক বিষয়ে শিক্ষা দিতে লাগলেন৷
[35] সেই দিন বেলা প্রায় শেষ হয়ে এলে যীশুর শিষ্যরা এসে তাঁকে বললেন, “এটা নির্জন স্থান এবং সন্ধ্যাও ঘনিয়ে এল৷
[36] এদের বিদায় করুন; যাতে এরা আশপাশের গ্রামে গিয়ে খাবার কিনতে পারে৷”
[37] কিন্তু যীশু তাঁদের বললেন, “তোমরাই ওদের খেতে দাও৷” তাঁরা যীশুকে বললেন, “এতো লোককে রুটি কিনে খাওয়াতে গেলে তো দুশো দীনার লাগবে৷”
[38] তিনি তাঁদের বললেন, “তোমাদের কাছে কখানা রুটি আছে খুঁজে দেখ৷”
[39] তাঁরা দেখে বললেন, “আমাদের কাছে পাঁচখানা রুটি ও দুটো মাছ আছে৷” তখন তিনি প্রত্যেককে সবুজ ঘাসের উপর বসিয়ে দিতে বললেন৷
[40] তাঁরা শ’ শ’ জন এবং পঞ্চাশ পঞ্চাশ জন করে সারি সারি বসে পড়ল৷
[41] তখন তিনি সেই পাঁচটা রুটি ও দুটো মাছ নিয়ে স্বর্গের দিকে তাকিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে রুটিগুলোকে টুকরো টুকরো করে শিষ্যদের হাতে দিয়ে লোকদের দিতে বললেন৷ আর সেই দুটো মাছকেও টুকরো টুকরো করে সকলকে ভাগ করে দিলেন৷
[42] তারা সকলে তৃপ্তির সঙ্গে খেল৷
[43] আর যা পড়ে রইল সেই সমস্ত টুকরো রুটি ও মাছে বারোটি টুকরি ভর্তি হয়ে গেল৷
[44] যত পুরুষ সেদিন খেয়েছিল, তারা সংখ্যায় পাঁচ হাজার ছিল৷
[45] পরে তিনি তাঁর শিষ্যদের নৌকায় উঠে তাঁর আগে ওপারে বৈত্সৈদাতে পৌঁছাতে বললেন, সেই সময় তিনি লোকেদের বিদায় দিচ্ছিলেন৷
[46] লোকেদের বিদায় করে তিনি প্রার্থনা করবার জন্য পাহাড়ে চলে গেলেন৷
[47] সন্ধ্যাকালে নৌকাটি হ্রদের মাঝখানে ছিল এবং তিনি একা ডাঙ্গায় ছিলেন৷
[48] তিনি দেখলেন যে শিষ্যরা বাতাসের বিরুদ্ধে খুব কষ্টের সঙ্গে দাঁড় টেনে চলেছেন৷ খুব ভোর বেলা প্রায় তিনটে ও ছটার মধ্যে তিনি হ্রদের জলের উপর দিয়ে হেঁটে তাদের কাছে এলেন৷ তিনি তাঁদের পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলেন৷
[49] কিন্তু হ্রদের উপর দিয়ে তাঁকে হাঁটতে দেখে তাঁরা ভাবলেন ভূত, আর এই ভেবে তাঁরা চেঁচিয়ে উঠলেন৷
[50] কারণ তাঁরা সকলেই তাঁকে দেখে ভয় পেয়েছিলেন; কিন্তু যীশু সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের বললেন, “সাহস করো! ভয় করো না, এতো আমি!”
[51] পরে তিনি তাদের নৌকায় উঠলে ঝড় থেমে গেল৷ তাতে তাঁরা আশ্চর্য হয়ে গেলেন৷
[52] কারণ এর আগে তাঁরা পাঁচটা রুটির ঘটনার অর্থ বুঝতে পারেন নি, তাঁদের মন কঠোর হয়ে পড়েছিল৷
[53] পরে তাঁরা হ্রদ পার হয়ে গিনেষরত্ প্রদেশে এসে নৌকা বাঁধলেন৷
[54] তিনি নৌকা থেকে নামলে লোকরা তাঁকে চিনে ফেলল৷
[55] তারা ঐ এলাকার সমস্ত অঞ্চলে চারদিকে দৌড়াদৌড়ি করে অসুস্থ লোকদের খাটিয়া করে তাঁর কাছে নিয়ে আসতে লাগল৷
[56] গ্রামে, শহরে বা পাড়ায় যেখানে তিনি যেতেন, সেখানে লোকেরা অসুস্থ রোগীদের এনে বাজারের মধ্যে জড়ো করত৷ তারা মিনতি করত যেন শুধু যীশুর কাপড়ের ঝালর স্পর্শ করতে পারে৷ আর যারা তাঁর কাপড় স্পর্শ করত তারা সকলেই সুস্থ হয়ে যেত৷