[1] যারা দাস, তারা নিজের নিজের মনিবদের যথাযোগ্য সম্মান করুক৷ তা করলে ঈশ্বরের দান এবং আমাদের শিক্ষার নিন্দা হবে না৷
[2] যে সব দাসের মনিব বিশ্বাসী, তারা পরস্পর ভাই৷ তাই বলে দাসরা সম্মানের দিক দিয়ে মনিব ভাইদের কোনভাবে তুচ্ছ না করুক, এবং সেইসব দাসরা তাদের মনিবদের আরো ভাল করে সেবা করুক, কারণ যারা উপকার পাচ্ছে তারাও বিশ্বাসী৷ তুমি লোকদের এইসব অবশ্য শেখাবে ও সেই অনুসারে কাজ করতে উৎসাহ দেবে৷
[3] কিছু লোক আছে যারা অন্যরকম শিক্ষা দেয়; তারা আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের সত্য শিক্ষার সঙ্গে একমত নয়, এবং যে শিক্ষা প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের সেবার জন্য পথ দেখায় তা তারা গ্রহণ করে না৷
[4] যে ব্যক্তির শিক্ষা ভ্রান্ত, সে গর্বে পরিপূর্ণ ও অজ্ঞ৷ সে নিছক কথা নিয়ে রাগ ও তর্কাতর্কি করতে ভালবাসে৷ এটাই তার অসুস্থতা, যার ফলশ্রুতি হল ঈর্ষা, ঝগড়া, পরনিন্দা ও কুসন্দেহ৷
[5] এইসব লোকদের কাছ থেকে শুধু ঝগড়া শোনা যায়, এরা দুর্নীতিগ্রস্ত মনের মানুষ এবং সত্যকে হারিয়েছে৷ তারা মনে করে যে ঈশ্বরের সেবা করা ধনী হবার এক উপায়৷
[6] একথা সত্যি যে ঈশ্বরের সেবার ফলে মানুষ মহাধনী হতে পারে, যদি তার কাছে যা আছে তাতেই সে সন্তষ্ট থাকে৷
[7] কারণ আমরা জগতে কিছুই সঙ্গে করে নিয়ে আসি নি আর কোন কিছুই সঙ্গে করে নিয়ে যেতেও পারি না৷
[8] তাই অন্ন বস্ত্রের সংস্থান পেলে আমরা তাতেই সন্তষ্ট থাকব৷
[9] কিন্তু যাদের ধনী হবার ইচ্ছা, তারা প্রলোভনে এবং ফাঁদে পড়ে নানারকম মূর্খামির কাজ করে ও ক্ষতিকর বাসনায় আসক্ত হয় যা তাদের ধ্বংস ও বিনাশের পথে ঠেলে দেয়৷
[10] কারণ সকল মন্দের মূলে আছে অর্থের প্রতি আসক্তি৷ সেই অর্থের লালসায় কত লোক বিশ্বাস থেকে দূরে সরে গেছে; আর তার ফলে তারা নিজেদের জীবনে অনেক অনেক দুঃখ ব্যথা নিয়ে এসেছে৷
[11] কিন্তু তুমি ঈশ্বরের লোক, তাই এই সব থেকে তুমি দূরে থেকো৷ সত্য পথে চলতে চেষ্টা কর, ঈশ্বরের সেবা কর৷ বিশ্বাস, ভালবাসা, ধৈর্য্য ও নম্রতা এইসব গুনের অধিকারী হবার জন্য চেষ্টা কর৷
[12] বিশ্বাস রক্ষা করার দৌড়ে জয়লাভ করতে প্রাণপন চেষ্টা কর৷ যে জীবন চিরায়ত তা পাবার বিষয়ে সুনিশ্চিত হও৷ তুমি সেই জীবন গ্রহণ করার জন্য আহুত৷
[13] অনেক সাক্ষীর সামনে এবং সেই যীশু খ্রীষ্টের সামনে আমি তোমাকে এই আদেশ করছি, পন্তীয় পীলাতের সামনে যীশুও সেই মহান সত্যের পক্ষে নির্ভীক স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন৷
[14] যা তোমাকে আদেশ করা হয়েছে, তা পালন কর৷ এখন থেকে প্রভু যীশু পুনরায় না আসা পর্যন্ত অনিন্দনীয় আচরণে তোমার দায়িত্ব পালন করে চল৷
[15] নিরুপিত সময়ে ঈশ্বর এসমস্ত সম্পন্ন করবেন; তিনি সেই পরম ধন্য ঈশ্বর, বিশ্বের একমাত্র শাসনকর্তা যিনি রাজার রাজা ও প্রভুর প্রভু৷
[16] যিনি অমরতার একমাত্র অধিকারী এবং অগম্য জ্যোতির মধ্যে বাস করেন, যাঁকে কেউ কোন দিন দেখতে পায় নি, পাবেও না৷ সম্মান ও অনন্ত পরাক্রম ও কর্তৃত্ত্ব যুগে যুগে তাঁরই হোক্৷ আমেন৷
[17] যারা এই যুগে ধনী, তাদের এই আদেশ দাও যেন তারা গর্ব না করে৷ সেই ধনীদের বলো তারা যেন অনিশ্চিত সম্পদের ওপর আস্থা না রাখে, কিন্তু ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করুক, যিনি আমাদের উদার হাতে সব কিছু ভোগ করতে দিয়েছেন৷ ধনীদের বল তারা যেন সত্ কর্ম করে৷
[18] তারা যেন সত্ কাজ রূপ ধনে ধনী হয়ে ওঠে৷ তাদের উদার হতে ও সম্পদ ভাগ করে নিতে প্রস্তুত হতে বল৷
[19] এই কাজের দ্বারা তারা স্বর্গে সম্পদ গড়ে তুলবে, সম্পদের ভিতে গড়ে উঠবে তাদের ভবিষ্যত, তখন তারা প্রকৃত জীবনের অধিকারী হতে পারবে৷
[20] শোন তীমথিয়, তোমার ওপর ঈশ্বর যে ভার দিয়েছেন তা সযত্নে রক্ষা কর৷ যা তথাকথিত পাণ্ডিত্য নামে পরিচিত, সেই মূর্খ অসার কথা- বার্তার মধ্যে ও তর্কের মধ্যে যেও না৷
[21] কেউ কেউ জীবনে ঐ জ্ঞানের দাবি করে৷ ঐসব লোক বিশ্বাস থেকে দূরে সরে গেছে৷ ঈশ্বরের অনুগ্রহ তোমাদের ওপর বিরাজ করুক৷